নারী পুলিশ সদস্যরা জেন্ডার সংবেদনশীল সেবা দিয়ে নারী ও শিশুদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা ও আস্থার জায়গা অর্জন করেছে বলে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, সাতটি মেট্রোপলিটন পুলিশসহ পার্বত্য রাঙামাটি জেলার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার, সহিংসতার শিকার নারী শিশুর চিকিৎসা সহায়তা, আইনগত ব্যবস্থা, সাময়িক আশ্রয়দানসহ মনো-সামাজিক কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে নিষ্ঠার সঙ্গে জেন্ডার সংবেদনশীল সেবা প্রদানে নিয়োজিত রয়েছে নারী পুলিশ সদস্যরা।
বুধবার (৩০ নভেম্বর) রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত নারী পুলিশের গৌরবময় যাত্রা ও অর্জন ১৯৭৪-২০২২ শীর্ষক বার্ষিক প্রশিক্ষণ সম্মেলন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্কের (বিপিডব্লিউএন) উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী পদক্ষেপে নারী পুলিশের সংখ্যা কয়েকটি ধাপে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১৫ হাজার ৫৬১ জন। পুলিশে ২০০৯ সালে নারীদের সংখ্যা ছিল ২ দশমিক ৫১ শতাংশ। আর ২০২২ সালে এসে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ১৯ শতাংশ। এরমধ্যে বিসিএস নারী পুলিশ সদস্য ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। মাঠ পর্যায়ের পুলিশি কাজের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নারী পুলিশ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছে। জেলা পুলিশ, মেট্রো পুলিশসহ বিশেষায়িত নৌ-পুলিশ, টুরিস্ট পুলিশ, রেলওয়ে ও হাইওয়ে পুলিশ এবং শিল্প পুলিশে নারী পুলিশ সদস্যরা কার্যক্রমে গতি সঞ্চার করেছে। এছাড়া পুলিশ সদস্যরা এখন আকাশ জয় করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে স্পেশাল ব্রাঞ্চে পোশাকে সর্বপ্রথম ১৪ জন নারী পুলিশ সদস্য নিয়োগের মাধ্যমে এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে নানা বাধাবিপত্তি পেরিয়ে নারীদের পথচলা যেন অব্যাহত থাকে সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতা, দৃঢ়তা ও সদিচ্ছা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি জনমুখী পুলিশিং ব্যবস্থা প্রবর্তনসহ নারীর ক্ষমতায়ন ও দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠী নারী ও শিশুর জন্য জেন্ডার সংবেদনশীল সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রথাগত পেশার বাইরে পুলিশসহ বিবিধ ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার ও পুলিশ সদর দফতরের পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন প্রযুক্তিগত দক্ষতার ধারাবাহিকতায় নারীর প্রতি সংঘটিত ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ মোকাবিলাসহ নিরাপদ সাইবার ক্ষেত্র তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা নাগরিকদের অস্থায়ী ক্যাম্পগুলোতে নারী-শিশুর নিরাপত্তায় পুলিশের নারী সদস্যরা আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছে। মামলা তদন্ত, ফরেনসিক, জঙ্গি দমন, গোয়েন্দা কার্যক্রম, বিমান চালনা, ভিভিআইপি প্রটেকশন, ইমিগ্রেশন সর্বোপরি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ প্রভৃতি ক্ষেত্রে আমাদের পুলিশের নারী সদস্যরা দক্ষতার স্বাক্ষর রাখছেন।
তিনি বলেন, মুজিববর্ষের অঙ্গীকার হিসেবে সমগ্র দেশের থানাগুলোতে নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সহায়তা ডেস্কের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে—যা বাংলাদেশের প্রত্যন্ত এলাকার সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অনন্য মাত্রা যোগ করবে বলে আমার বিশ্বাস। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ গ্রহণ, দেশ-বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে নারী পুলিশের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক (বিপিডব্লিউএন) নারী পুলিশের চলার পথকে সুগম করতে যেমন পেশাগত উন্নয়নে অবদান রাখছে, তেমনি কমিউনিটির মাঝেও জেন্ডারভিত্তিক অপরাধ বিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে। আমি সংগঠনটির সার্বিক সাফল্য কামনা করি।
আসাদুজ্জামান খান বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নারী পুলিশের অবদান সংবলিত প্রকাশনা- “নীল হেলমেটে পুলিশ মহিলা: সাফল্য এবং গর্বের গল্প” বইটি পড়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নারীরা কাজ করার ক্ষেত্রে অধিকতর আগ্রহী ও সংকল্পবদ্ধ হবে। অতিরিক্ত আইজি (অবসরপ্রাপ্ত) ফাতেমা বেগমের "আমার পুলিশ হওয়া" গ্রন্থটি চ্যালেঞ্জিং পেশায় নারীদের উদ্বুদ্ধ করবে। বিপিডব্লিউএন-এর এ ধরনের অনুপ্রেরণামূলক প্রকাশনার উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই।
আমি পুলিশ বাহিনীকে বলবো, সামাজিক অপরাধ দমনে প্রযুক্তির নির্ভরতা ও বিজ্ঞানভিত্তিক অপরাধ ব্যবস্থাপনার যেমন বিকল্প নেই, তেমনি অপরাধকে সমূলে উপড়ে ফেলতে এর উৎস অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে পুলিশের গোয়েন্দা ও কার্যকরী গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা অত্যাবশ্যক। আপনাদের অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষণ ও সৃজনী প্রতিভা দ্বারা নিজেদের কর্মদক্ষতাকে শানিত করবেন ও বাংলাদেশ পুলিশকে গৌরবান্বিত করবেন—এই আহ্বান জানাই।









