১৬ই ডিসেম্বর মানে শুধু বিজয় দিবসই নয়। এই দিনটি বাঙ্গালির। নিজের পরিচয়, নিজের একটি স্বাধীন দেশ অর্জনে সাহসিকতা ও ত্যাগের যে সফলতা তা অর্জনের দিন। দীর্ঘ ৯ মাস পাকিস্তানের সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশ। এই দিনটির আনন্দ বাংলাদেশের সবার। বিজয়ের ৫১তম বছরের বিভিন্ন পেশাজীবিদের চোখে এই দিবসটির ভাবনা ভিন্ন ভিন্ন।
বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর, নিউমার্কেট, নীলক্ষেত ও সায়েন্স ল্যাব এলাকায় কথা হয় রিকশাওয়ালা, হকারসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের সঙ্গে। জানার চেষ্টা করি বিজয় দিবসে তাদের কী ভাবনা।
নীলক্ষেত এলাকায় কথা হয় আলম মিয়ার সাথে। ঢাকায় সাত বছর ধরে রিক্সা চালান। কিশোরগঞ্জে বাড়ি। জানতে চাইলাম, আগামীকাল একটা দিবস আছে জানেন কি না। বললেন ১৬ ডিসেম্বর। বিজয় দিবস। এ দিনে বিজয় অর্জন হয়। বিজয় দিবসে তার চাওয়া হলো, দেশের প্রতিটি মানুষ যেন ভালো থাকে। বললেন, 'আমি তো লেখাপড়া করতে পারিনি। আমার ছেলেমেয়েরা যেন পড়াশোনা শিখে মানুষ হয়। আমার মতো যেন রিকশা না চালায়। মানুষের মাঝে হিংসা, না থাকুক।'
ঢাকা কলেজে দীর্ঘদিন ডাইনিং ম্যানেজার ছিলেন আলমগীর মিয়া। এখন নায়েমের গলিতে চা বিক্রি করেন। ১৬ ডিসেম্বর নিয়ে ভাবনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'গ্রামে থাকতে এ দিবস পালন করেছি। ঢাকায় বিভিন্ন জায়গায় প্রতি বছর এ দিবসের উৎসবমুখর আয়োজন দেখি।'
বিজয় দিবসের মূল্যবোধ বুকে ধারণ করে ছাত্রদের আরও বেশি দেশপ্রেমিক হওয়া দরকার মন্তব্য করেন আলমগীর মিয়া। বলেন, 'আমাদের সময় তো প্রায় শেষ। এখন ছাত্ররা এদেশের হাল ধরবে। বাংলাদেশের উন্নতিতে এরাই দায়িত্ব পালন করবে। বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবে।'
দিনাজপুর জেলার হিলিতে আদিবাড়ি হলেও প্রায় ৪৫ ধরে ঢাকায় রিক্সা চালান লুৎফর রহমান। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন মাত্র ১৩ বছরের কিশোর। চোখের সামনেই যুদ্ধ দেখেছেন। বললেন, বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানিদের শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধেই ছিল আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ। এই যুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালিরা নিজের ভাগ্য নিজেরাই পরিবর্তনের যাত্রা শুরু করেছিল। তবে তার ভাগ্যের তেমন পরিবর্তন করতে পারেনি রাষ্ট্র।
তিনি বলেন, 'আগামীকাল বিজয় দিবস। এই দিবসে আমি চাই আমরা যেন দুবেলা দুমুঠো ভাত খেতে পারি। দেশে মারামারি না থাকে। যুবকরা যেন নেশায় না জড়ায়। দেশের ভালো হয় এমন সব কাজ করে। দেশের জন্য যেন জীবন দিতে পারে।'









