রাজশাহীর পবা উপজেলায় মোবাইল ফোন চুরির অপরাধে স্কুলছাত্র জাহিদকে হাত-পা বেঁধে পেটানোর ঘটনায় শনিবার রাতে থানায় মামলা হয়েছে। নির্যাতনের শিকার জাহিদ হাসানের বাবা ইমরান হোসেন বাদী হয়ে পবা থানায় শনিবার রাতে ১৩ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার পর আজিজুল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন।
মামলার আসামিরা হলেন- পবা উপজেলার চৌবাড়িয়া গ্রামের কটা মুন্নির ছেলে নাসির, সমশের মুহরির ছেলে পলাশ, মুন্নার ছেলে তুহিন, সান্দি মল ও তার ছেলে অনিক, বেরাজের ছেলে রাজ্জাক, আমদি মলের ছেলে সাগর, বারির ছেলে আজিজুল, আজিজুলের ছেলে উজ্জ্বল, ফজর আলীর ছেলে মাছিম, ফরিদের ছেলে কমল, ফজলুল বারি ও তার ছেলে রাকিব।
নির্যাতনের শিকার জাহিদ হাসান বাগসারা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্র। বর্তমানে আহত জাহিদ হাসান পবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
মামলার বিষয়ে তার বাবা ইমরান হোসেন বলেন, ‘মামলা করার পর আসামি পলাশ ও রাজ্জাক আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আছি।’
পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘থানায় মামলা হওয়ার পর এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তবে মামলার খবর পেয়ে আসামিরা গা ঢাকা দিয়েছেন।’
এর আগে মোবাইল ফোন চুরির অপবাদ দিয়ে জাহিদ হাসানকে পাশবিক নির্যাতন চালায় আসামিরা। শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত আসামিরা জাহিদকে ধরে মারধর করেন এবং মোবাইলে ভিডিও ধারণ করা হয়। শনিবার তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ফাঁস হয়ে গেলে বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনার সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাঁওয়ে চুরির অভিযোগ তুলে ১৩ বছরের শিশু রাজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যার ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী তোলপাড় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরপর মাস না ঘুরতেই ৩ আগস্ট খুলনার টুটপাড়া কবরখানা মোড়ে এক ওয়ার্কশপে মোটরসাইকেলে হাওয়া দেওয়া কমপ্রেসার মেশিনের মাধ্যমে পায়ুপথে হাওয়া ঢুকিয়ে হত্যা করা হয় ১২ বছরের শিশু রাকিব হাওলাদারকে। ইতোমধ্যেই এই দুই শিশু হত্যার ঘটনায় পৃথকভাবে ৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয় জনকে যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
/এসএম/এজে/








