মালয়েশিয়ার কাছ থেকে আশানুরূপ চাহিদা না পাওয়ায় সরকার টু সরকার পদ্ধতিতে সে দেশে প্রত্যাশিত হারে কর্মী পাঠানো সম্ভব হয়নি। তবে নতুন পদ্ধতিতে আগামী ৩ বছরে ১৫ লাখ কর্মী পাঠানো সম্ভব হবে।
বুধবার সংসদে সরকারি দলের মোয়াজ্জেম হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, কর্মী পাঠানোর বিষয়ে নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে মালয়েশিয়া সরকারের মাধ্যমে আশানুরূপ চাহিদা পাওয়া যায়নি। যে কারণে সেখানে প্রত্যাশিত হারে কর্মী পাঠানো সম্ভব হয়নি। তবে গত অক্টোবরে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে সম্পৃক্ত করে জি টু জি প্লাস প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত খসড়া সমঝোতা স্মারক মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হয়েছে। আজ দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হবে বলে আশা করা যায়। সেটি হলে আগামী ৩ বছরে ১৫ লাখ কর্মী পাঠানো সম্ভব হবে।
সরকারি দলের এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে নুরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ৬১টি দেশে কর্মী পাঠানো হতো। এখন পাঠানো হচ্ছে ১৬১ দেশে। ২০১৩ সালে ৪ লাখ ৯ হাজার, ২০১৪ সালে ৪ লাখ ২৫ হাজার এবং ২০১৫ সালে ৫ লাখ ৫৫ হাজার কর্মী পাঠানো হয়েছে।
সুকুমার রঞ্জন ঘোষের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ভারতের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ৫ হাজার ২৮৪ মিলিয়ন ডলার। ভুটান ও মিয়ানমারের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ যথাক্রমে ২৩.৭৮ মিলিয়ন ও ৫.২০ মিলিয়ন ডলার। তবে বাংলাদেশ নেপালে আমদানির চেয়ে রপ্তানি বেশি করে থাকে। দেশটি থেকে আমদানি করা হয় ১১.৫০ ডলারের পণ্য এবং রপ্তানি হয় ২৫.০৫ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ, ভারত, চীন ও মিয়ানমারকে গঠিত আঞ্চলিক বাণিজ্য জোট ঘাটতি কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।
জাতীয় পার্টির এ কে এম মাইদুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ভারত, চীন ও অন্যান্য দেশ থেকে ২২৪ কোটি টাকার জুতা আমদানি করা হয়েছে।
সরকারি দলের আবদুল ওয়াহাবের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ১৯৬টি পণ্য রপ্তানি করেছে। রপ্তানি আয় ৩১ হাজার ২০৮ মিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে আয় হয়েছে ১৬ হাজার ৮৪ মিলিয়ন ডলার।
আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইনের প্রশ্নের জবাবে খাদ্য মন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশে চাল ও গমের চাহিদা ছিল ২৯৫ লাখ টন। অপরদিকে উৎপাদন হয়েছে ৩৬০ লাখ টন।
স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।
/ইএইচএস/এজে/








