পদ্মা সেতুতে ব্যয় বেড়েছে ২ হাজার ৪১২ কোটি টাকা। তৃতীয় সংশোধিত প্রস্তাবে প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ হাজার ৬০৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একনেক সভাশেষে এ তথ্য জানিয়েছে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ৪০০ কেভি ট্রান্সমিশন টাওয়ারের ফাউন্ডেশন প্ল্যাটফর্ম নির্মাণের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে। মাওয়া প্রান্তে নদীর গভীরে সৃষ্ট গর্ত ভরাটকাজ, কাঁঠালবাড়ী থেকে বাংলাবাজার ফেরিঘাট স্থানান্তর করতে ব্যয় করতে হবে। মাওয়া নদীশাসন কাজের ডিজাইন পরিবর্তন, জিও ব্যাগের সাইজ পরিবর্তনের কারণে ব্যয় বেড়েছে। মাঝিকান্দি থেকে শিমুলিয়া পর্যন্ত বিআইডব্লিউটিএ ফেরি চ্যানেল ড্রেজিং, ক্লোজার ড্যাম, সার্ভে ভ্যাসেল কেনা খাতে ব্যয় বাড়ার কারণেই পদ্মা সেতুতে ব্যয় বেড়েছে।
প্রকল্পের ব্যয় ২ হাজার ৪১২ কোটি ১৩ লাখ টাকা বাড়ানোয় তৃতীয় সংশোধিত প্রস্তাবে প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হলো ৩২ হাজার ৬০৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
সর্বশেষ পদ্মা সেতু প্রকল্পের ব্যয় ছিল ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। একই সঙ্গে আরও এক বছর বাড়ানো হয়েছে ‘পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পের মেয়াদ।
প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) শেরেবাংলা নগর এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে একনেক সভা।
একনেক সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হলো পদ্মা নদীর ওপর ৯ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার (মূল সেতু ৬.১৫ কি. মি ও ভায়াডাক্ট ৩.৬৮ কি.মি.) দৈর্ঘ্য এবং ২২ দশমিক ১০ মিটার প্রস্থ বিশিষ্ট বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘতম সেতু নির্মাণ।
মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর—এই তিন জেলার লৌহজং, শ্রীনগর, জাজিরা ও শিবচর উপজেলায় মূল অনুমোদিত প্রকল্পটি জুলাই ২০০৭ থেকে জুন ২০১৫ অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর প্রথম সংশোধিত প্রস্তাবে জানুয়ারি ২০০৯ থেকে ডিসেম্বর ২০১৫ মেয়াদে অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর ডিসেম্বর ২০১৮, ডিসেম্বর ২০১৯, জুন ২০২১। সর্বশেষ জুন ২০২৩ নাগাদ প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হওয়ার কথা থাকলেও জুন ২০২৪ নাগাদ মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়।
প্রকল্পের আওতায় ৯ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার মূল সেতু (সড়ক ও রেল ভায়াডাক্টসহ), ১৬ দশমিক ২২ কিলোমিটার নদীশাসন (নদীশাসনের অন্যান্য কাজসহ), ১২ দশমিক ১২ কিলোমিটার জাজিরা সংযোগ সড়ক ও ব্রিজ ইন্ড ফেসিলিটিজ, মাওয়া সংযোগ সড়ক ও ব্রিজ ইন্ড ফেসিলিটিজ, সার্ভিস এরিয়া-২, পুনর্বাসন ও ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।









