তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আমাদের সরকার গরিব-মেহনতি মানুষের সরকার। সে কারণে আমাদের সরকার শ্রমিক-কর্মচারী-কৃষকের কল্যাণে নজর দিয়েছে। তিনি বলেন, এখন একজন শ্রমিক ন্যূনতম দৈনিক ৫০০ টাকা পান, সেটি ১০ কেজি চালের মূল্যের সমান।
মঙ্গলবার (২ মে) দুপুরে সচিবালয়ে বাংলাদেশ সংবাদপত্র কর্মচারী ফেডারেশন ও বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অব নিউজপেপার প্রেস ওয়ার্কার্স নেতাদের সাথে বৈঠককালে এ কথা বলেন তিনি।
এ সময় কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি মতিউর রহমান তালুকদার এবং প্রেস ফেডারেশনের সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন খান সভায় তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেন। অবসরকালীন সুবিধা বঞ্চিত করে ছাঁটাই বন্ধ করা, প্রেস ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে প্রশিক্ষণদান, হজ কোটা, সংবাদপত্র বিষয়ক কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব এবং একটি কার্যালয়ের জন্য স্থান বরাদ্দের দাবিসহ ১১ দফা দাবি পড়ে শোনান মতিউর রহমান তালুকদার।
এ সময় মন্ত্রী সংবাদপত্র শ্রমিক কর্মচারী নেতৃবৃন্দসহ সকলকে মে দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, সংবাদপত্রে শুধুমাত্র সাংবাদিকরা নন, কর্মচারী এবং শ্রমিকরাও গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন। তাদের কাজ ছাড়া সংবাদপত্র ছাপা সম্ভব নয়। অতীতে অনেক ক্ষেত্রে তাদের দাবিগুলো অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। আমি দাবি-দাওয়াগুলো যথাসম্ভব দ্রুত পূরণের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবো এবং সংবাদপত্রে বেতন বকেয়ার মনিটরিং কমিটিকে রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হবে।
ফেডারেশন নেতাদের মধ্যে খায়রুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, তানভীর ইসলাম, আবিদা সুলতানা, শামীম চৌধুরী, আনিছুর রহমান, মোস্তাক আহমেদ, আবদুর রাজ্জাক পাটোয়ারি প্রমুখ সভায় অংশ নেন।
তিনি জানান, ২০০৬ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ছিল ১৬৬২ টাকা। এখন সেটি ৮ হাজার টাকা করা হয়েছে, এর সাথে অন্যান্য বেনিফিট আছে, এলাউন্স আছে। পাটকল শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও তাই। এবং এই মজুরি আরও বৃদ্ধির ব্যাপারে আলাপ আলোচনা চলছে।’
তিনি বলেন, ‘২৫-৩০ বছর আগে বামপন্থিদের দাবি ছিল শ্রমিকের মজুরি হতে হবে সাড়ে তিন কেজি চালের মূল্যের সমান। এখন একজন শ্রমিক ন্যূনতম দৈনিক ৫০০ টাকা পান, সেটি ১০ কেজি চালের মূল্যের সমান। আমাদের চট্টগ্রাম এলাকায় বা ধান কাটার দিনে উত্তরবঙ্গেও দৈনিক ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকার নিচে শ্রমিক পাওয়া যায় না। একজন রিকশাচালক দিনে কমপক্ষে ৫০০ টাকা, আর ঢাকা শহরে প্রায় দেড় হাজার টাকা আয় করেন। আগে একদিন রিকশা না চালালে চুলোয় হাঁড়ি উঠতো না, এখন তারা কয়েকদিন ছুটি কাটান—এটিই হচ্ছে বাস্তবতা।’
মানুষের উপার্জন ও ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে, তেমনি বিশ্বময় দ্রব্যমূল্য বেড়েছে এটিও সঠিক উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, ‘মনে রাখতে হবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পৃথিবীতে সবসময় হয়েছে। যেমন ১৯৪৪ সালে যখন বাংলায় দুর্ভিক্ষ হয় তখন ৬ টাকায় ১ মণ চাল পাওয়া যেতো কিন্তু মানুষের সেই সামর্থ্যটুকুও ছিল না। কিন্তু এখন মানুষ কিনতে পারছে, উত্তরবঙ্গে আর মঙ্গা নেই, ইতিহাসের পাতায় স্থান নিয়েছে। এই পরিবর্তন জননেত্রী শেখ হাসিনার কারণেই হয়েছে, আমাদের সরকারের কারণেই সম্ভবপর হয়েছে।’
এ সময় মে দিবসে বিএনপির বিবৃতি ‘আওয়ামী লীগ শ্রমিকদের অধিকার খর্ব করেছে’ এর জবাবে মন্ত্রী হাছান বলেন, ‘তাদের সময় শ্রমিক-কর্মচারী-কৃষকদের ওপর গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। যদি এই দেশে শ্রমিক কর্মচারীদের অধিকার কেউ লুণ্ঠন করে থাকে, তাদের অধিকার খর্ব করে থাকে, সেটি হচ্ছে বিএনপি। বিএনপি ছিল ধনিক এবং বণিক শ্রেণির প্রতিনিধিত্বকারী। আজকেও তারা লুটেরাদের প্রতিনিধিত্ব করে। এ দেশের মেহনতি মানুষের প্রতিনিধিত্ব বিএনপি করে না। জিয়াউর রহমানের বক্তব্য ছিল ‘মানি ইজ নো প্রবলেম’। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সেই ঋণ ফেরত না দেওয়ার সংস্কৃতি জিয়াউর রহমানই চালু করেছিলেন।’








