বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তারা কার পয়সায় আন্দোলন করছে? কোথা থেকে টাকা পাচ্ছে? সোমবার (১৫ মে) প্রধানমন্ত্রী গণভবনে তার সাম্প্রতিক জাপান, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, তারা গ্রেনেড হামলা করে হত্যার চেষ্টা করেছে। আমাদের ২১ হাজার নেতাকর্মী হত্যা করেছে। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ মেরেছে। নির্বাচন ঠেকাতে ৫০০ স্কুল পুড়িয়েছে। সাড়ে ৩ হাজার লোক আগুনে পোড়া। ৩৮০০ গাড়ি পুড়িয়েছে, ২৭টি রেল পুড়িয়েছে, ৯টা লঞ্চ পুড়িয়েছে, ৭০টা সরকারি অফিস পুড়িয়েছে। তারা জ্বালাও-পোড়াও ওইগুলো করে গেছে।
বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, আমি বলে দিয়েছি যে, আন্দোলন করুক কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু জ্বালাও-পোড়াও যদি কিছু করতে যায়, কোনও মানুষকে যদি আবার পোড়ায়, কাউকে ছাড়বো না। মানুষের ক্ষতি আর করতে দিবো না। সেই পোড়া মানুষগুলোর চেহারা, তাদের কষ্ট দেখলে আপনাদের কষ্ট হয় না? এক-একটা পরিবার কী অবস্থায় আছে, কেউ কী খবর রাখে? কী বীভৎস অবস্থা সৃষ্টি করেছে এই বিএনপি-জামায়াত।
২০০৮ সালের নির্বাচনে তাদের ২০ দলীয় ঐক্যজোট সিট পেয়েছে মাত্র ২৯টি। এখন তারা আবার বড় বড় কথা বলে। কার পয়সায় এই আন্দোলন করছে? কোত্থেকে টাকা পাচ্ছে? বাংলাদেশের মানুষ এত অন্ধ হয়ে গেছে? চোখে দেখে না? হাজার হাজার কোটি টাকা যে লুট করে নিয়ে গেছে আর কাদের মদতে করছে, সেটা একটু খোঁজখবর নেন না। এত টাকা কোথায় পাচ্ছে? প্রতিদিন লোক নিয়ে আসে আর প্রতিদিন মাইক লাগিয়ে বক্তৃতা দিচ্ছে। এমনি এমনি বিনা পয়সায় তো আর হচ্ছে না। কত দিচ্ছে, কত লোক আনবে, মোটরসাইকেলে কতজন আসবে— সেসব হিসাব তো আছে। সেগুলো আপনারা দেখেন না কেন? একটু খোঁজখবর নেন, জিজ্ঞেস করেন। সরকার উৎখাত করবে, আমি জানি এই আন্দোলন করে কোথাও থেকে তারা লাভবান হচ্ছে। তারা যত পারে আন্দোলন করুক। আমি জনগণের সঙ্গে আছি, তাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। জনগণের ওপর আস্থা ও বিশ্বাসই আমার একমাত্র শক্তি। আমার তো হারাবার কিছু নেই। বাবা-মা-ভাই সবই হারিয়েছি। আমি এখন দেশের জন্য কাজ করে যাই।
নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, তাহলে কি আমরা ভয় পাবো? কেন ভয় পাবো? জনগণের জন্য কাজ করেছি। জনগণ যদি ভোট দেয়, আছি— না দিলে নাই। আজকে বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট কান্ট্রির মর্যাদা পেয়েছে। যেহেতু করোনার কারণে আমরা ২৪ এ করতে পারিনি, ২৬ এ করবো। সেটুকু করে দিয়ে যেতে চাই।









