পঞ্চগড়ে শ্রী শ্রী সন্ত-গৌড়ীয় মঠের প্রধান পুরোহিত ও অধ্যক্ষ যগেশ্বর রায় হত্যার ঘটনা মানবতাবোধশূন্য অন্ধ হিংস্রতা ও বিকৃত পশুপ্রবৃত্তি বলে অভিহিত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ ঘটনা অশুভ আগামীর ইঙ্গিত বহন করে বলেও মনে করছেন তিনি।
মঙ্গলবার দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে খালেদা জিয়া এ কথা বলেন।
পঞ্চগড়ের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে খালেদা জিয়া বলেন, ‘পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ধর্মগুরুকে ধারালো চাপাতি দিয়ে হত্যা ও অন্যান্য পূজারীদের গুরুতর জখমের ঘটনা অশুভ আগামীর ইঙ্গিত বহন করে। দেশে দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা গেছে, বর্বর বোধশক্তিহীন গোষ্ঠীর জন্ম হয়। আর যেসব দেশে এসব শক্তির উত্থান ঘটে সেসব দেশকে তারা নিয়ে যায় একেবারে খাদের কিনারায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে ইতালীয় নাগরিক তাভেল্লা হত্যা থেকে শুরু হয়েছে এই নিষ্ঠুরতম বর্বর পরিকল্পনার যাত্রা। যা গত পরশু পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে গিয়ে পৌঁছেছে। আর এইসব বর্বর পরিকল্পনার শিকার হয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন অনেকে। এদের মধ্যে যেমন বিদেশি নাগরিক আছেন তেমনি আছেন দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ ও ধর্মাচার্য,ব্লগার,প্রকাশকসহ বেশকিছু মানুষ। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে- আমরা যেন জাতির গোরস্থানের ওপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি।’
বেগম জিয়া আরও বলেন, ‘এই সব মধ্যযুগীয় রক্তপাত থামাতে ভোটারবিহীন সরকারের কোনও উদ্যোগ নেই। বরং মূল দুষ্কৃতকারীদের ধরা তো দূরে থাক উল্টো ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই বিএনপিসহ বিরোধীদলের ওপর দোষ চাপানো এবং নেতাকর্মীদের নামে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিযোগ এনে মামলায় জড়ানো হচ্ছে।’
তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের আমল থেকে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ প্রধান ও তার নেতারা বিএনপিকে জড়িয়ে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের অস্তিত্বের কথা বলে আসছেন। অথচ বিএনপি সরকারের আমলেই জঙ্গি নির্মূলে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল,দ্রুত তৎপরতার মাধ্যমে জঙ্গিদেরকে ধরে শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
বিএনপি চেয়ারপারসন নিহত পুরোহিত যগেশ্বর রায়ের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং অবিলম্বে হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তিনি মঠের আহত পুজারীদের সুস্থতা কামনা করেন।
/এসটিএস/এসএম/এফএস/








