জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, তিনি সংলাপে বিশ্বাসী। সংলাপ না হলে সংঘাত হয়। সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে থেকে সংলাপের মাধ্যমে ঠিক করতে হবে আগামী জাতীয় নির্বাচন কীভাবে হবে।
বুধবার (২২ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৩–২০২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে আনিসুল ইসলাম এসব কথা বলেন।
বিরোধী দলের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘দেশের খাতিরে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে হবে। এটা প্রধান দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তাদের মানুষকে বিশ্বাস করাতে হবে যে, তারা সরকারি দলের কথায় কাজ করে না। এক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষ নির্বাচনে ইসিকে সহায়তা করা। সেটা করতে ব্যর্থ হলে অনেকে হয়তো সংসদ সদস্য হবেন, ক্ষমতায় থাকবেন কিন্তু দেশের কোনও লাভ হবে না।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিকিয়ে রাখতে হবে।
সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আনিসুল ইসলাম বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা কোনও দলের নয়। তাদের দায়িত্ব দেশের প্রতি। দেশের জনগণের জন্য কাজ করতে হবে। নির্বাচনের সময় নিরপেক্ষ থেকে কাজ করতে হবে।
আইএমএফের বিভিন্ন শর্তে অর্থনৈতিক খাতে সংস্কার আনার সমালোচনা করেন আনিসুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এখন ২৩ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ আছে। কিন্তু এলসি খোলা যাচ্ছে না। কারণ আইএমএফ বলেছে, রিজার্ভ ২৩ বিলিয়ন ডলার থাকতে হবে।’
জনগণের জন্য সংসদে সত্যিকারের কথাগুলো বলার জন্য সরকারি দলের প্রতি আহ্বান জানান আনিসুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি এখন ১০ শতাংশ বলা হচ্ছে। প্রকৃত পক্ষে সেটি আরও বেশি। চাল, ডাল ও তেলের দাম কত বেড়েছে সে তথ্য নেওয়া হলে দেখা যাবে মূল্যস্ফীতি কত।’
অর্থনৈতিক সংকটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘নিয়মিত টাকার অবমূল্যায়ন করা হলে আজকের অবস্থা হতো না।’
বাজেট কি জীবনযাত্রার খরচ কমাবে—এমন প্রশ্ন রেখে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী স্মার্ট বাংলাদেশের কথা বলছেন কিন্তু বাজেটে তার কোনো প্রতিফলন নেই। টাকা পাচার বাড়ছে, পাচার রোধে রাজনৈতিক অঙ্গীকার থাকতে হবে।’









