সোমবার জাতীয় সংসদে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক বিল-২০১৬ পাস হয়েছে। চীনের নেতৃত্বে গঠিত এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকে (এআইআইবি) বাংলাদেশের নির্ধারিত শেয়ারের মূল্য পরিশোধে সংসদে এ বিলটি পাস হয়। এআইআইবির শেয়ারমূল্য বাবদ বাংলাদেশকে ৬৬ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করতে হবে।
সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের পক্ষে অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে পরে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিলটি সংসদে তোলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। পরে বিলটি পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
গত ১৬ জানুয়ারি বেইজিংয়ে জমকালো এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চীনের নেতৃত্বে নতুন আন্তর্জাতিক ব্যাংক এআইআইবির উদ্বোধন হয়। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মহিতের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।
এআইআইবির মূলধন ধরা হয়েছে ১০০ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে পরিশোধিত মূলধন ২০ বিলিয়ন ডলার।
সদস্য হতে বাংলাদেশকে দিতে হবে ৬৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এর মধ্যে পরিশোধিত মূলধন হিসেবে ১৩ কোটি ২১ লাখ ডলার এবং ৫২ কোটি ৮৪ লাখ ডলার পরিশোধ করতে হবে অপরিশোধিত মূলধন হিসেবে।
বেইজিংয়ে সংস্থার সদর দপ্তরে ওই অনুষ্ঠানে চীনের জিন লিকুনকে প্রেসিডেন্ট এবং ১২ জনকে পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, এআইআইবি ব্যাংকের উদ্দেশ্য প্রধানত অবকাঠামো এবং অন্যান্য উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে এশিয়ার টেকসই উন্নয়ন, সম্পদ সৃষ্টি এবং যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে উৎসাহিত করা এবং দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কাজ করে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির মাধ্যমে উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ব্যাংকে বাংলাদেশের মোট শেয়ারের পরিমান ৬ হাজার ৬০৫টি (প্রতিটি এক লাখ মার্কিন ডলার মূল্যমান) এবং চাঁদার পরিমান ৬৬০ দশমিক ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যার ২০ শতাংশ পেইড-ইন হিসাবে বাংলাদেশের প্রদেয় চাঁদার পরিমান ১৩২ দশকি ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (এক হাজার ৫৬কোটি ৮০ লাখ টাকা), যা ১০ কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য।
প্রতি কিস্তিতে বাংলাদেশকে প্রায় ১০৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে বলেও জানান মুহিত।
ব্যংকের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশকে বেশকিছু দায়িত্ব পালন করতে হবে বলে নতুন আইন করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।
/ইএইচএস/এজে/








