উজানে ভারী বৃষ্টির কারণে পদ্মা, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদ-নদীর পানি বাড়ছে। এই বৃদ্ধি আগামী ২৪ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করার শঙ্কা রয়েছে। এদিকে আগামী ২৪ ঘণ্টায় নেত্রকোনা জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বাড়ছে। অপরদিকে যমুনা নদীর পানি স্থিতিশীল আছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় উভয় নদীর পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে। এদিকে গঙ্গা-পদ্মার শাখা ও উপ-নদীগুলোর পানি বাড়ছে, যা আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের মিটার রিডার মো. নূরুল ইসলাম জানান, উজানের পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের বর্ষণে তিস্তার পানি শনিবার (৮ জুলাই) সকাল ৬টায় বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এতে নীলফামারীতে তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল জলঢাকা ও ডিমলা প্লাবিত হয়। বসতবাড়িতে পানি উঠে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। ওই পয়েন্টে বিপদসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার। তবে পরে পানির উচ্চতা কমেও আসে। এদিন সকাল ৯টায় ৮ সেন্টিমিটার কমে তা বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ব্যারাজ পয়েন্টে পানি প্রবাহিত হয়। এরপর দুপুর ১২টায় বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই (বিপদসীমা ৫২.১৫) এবং বিকাল ৩টায় বিপদসীমার ৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে তিস্তার পানি প্রবাহিত হয়।
এদিকে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সব প্রধান নদ-নদীর পানি কমছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় নেত্রকোনা জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চল ও ভারতের উজানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে এই অঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদ-নদীর পানি সময়বিশেষে দ্রুত বাড়তে পারে। আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে।
কেন্দ্র জানায়, তাদের পর্যবেক্ষণাধীন পানি সমতল স্টেশন আছে ১০৯টি। এরমধ্যে পানি বেড়েছে ৪৩টি স্টেশনের, কমেছে ৬২টির, আর অপরিবর্তিত আছে ৪টির। এদিকে বিপদসীমার ওপরে আছে এখন ১টি স্টেশনের পানি। বন্যা কবলিত জেলার সংখ্যাও এখন ১।
সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি এবং দেরাই স্টেশনের পুরাতন সুরমা নদীর পানি এখন বিপদসীমার নিচে নেমেছে। তবে নেত্রকোনার কমলাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপদসীমার ১২ মিটার ওপর দিয়ে বইছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদফতরের আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে ডিমলায়, ২৪ মিলিমিটার। এছাড়া বরিশাল, চাঁদপুর, রাঙামাটি, সৈয়দপুর, বদলগাছি ও মাদারীপুরে ১, যশোর, চট্টগ্রাম, রাজারহাট, তাড়াশ ও টাঙ্গাইলে ২, কুমিল্লা, গোপালগঞ্জে ৩, সীতাকুণ্ড ও সিলেটে ৫, কুতুবদিয়া ও নিকলিতে ৭, নেত্রকোনায় ৮, পটুয়াখালীতে ৯, রংপুর ও রাজশাহীতে ১০, ঈশ্বরদীতে ২০, বগুড়ায় ১১, মাইজদী কোর্ট, হাতিয়া, টেকনাফ, চুয়াডাঙ্গা, ভোলা ও তেঁতুলিয়ায় ১৩, খেপুপাড়ায় ১৫, কুমারখালীতে ১৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।








