যাত্রী পরিহবনের জন্য গঠিত হলেও বিমানবন্দরে আমদানি-রপ্তানিতে কার্গো হ্যান্ডলিং ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে বিমান বাংলাদেশ। এ কাজের জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও তা মানছে না বিমান। বরং ঢাকা কাস্টম প্রায় দু’বছর ধরে বিমানকে চিঠি দিলেও পাত্তা দিচ্ছে না বিমান। বিমানের হ্যান্ডলিং অব্যবস্থাপনায় দুভোর্গে পড়ছেন যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা।
কাস্টম ও বিমান সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দরের দায়িত্ব সিভিল এভিয়েশন অথরিটির হলেও একক ভাবে দু’ধরনের হ্যান্ডলিং করে বিমান। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের আওতায় বিভিন্ন এয়ারলাইনস ও যাত্রীদের লাগেজসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়া হয়। কার্গো হ্যাণ্ডলিংয়ের আওতায় ব্যবসায়ীদের আমদানি-রপ্তানিতে সেবা দেওয়া হয়।
১৯৬৯ সালের দ্য কাস্টমস অ্যাক্টের ১২ ধারা অনুযায়ী এসব সেবা দিতে লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক। ঢাকা কাস্টম হাউজ ২০১৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর এক চিঠিতে বিমানকে লাইসেন্স নিতে নিতে অনুরোধ জানায়। আগেও অনুরোধ করে চিঠি দেওয়া হলেও বিমানের পক্ষ থেকে সাড়া না পেয়ে পুনরায় এ চিঠি দেওয়া হয়। এরপরেও একাধিকবার বিমানকে চিঠি দেয় ঢাকা কাস্টম হাউজ। ২০১৪ সালের ২২ অক্টোবর বিমানের ব্যবস্থাপক আমদানি একেএম মঞ্জুরুল হক কাস্টম হাউজের চিঠির জবাবে লাইসেন্স নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে কি কি কাগজপত্র ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে তার একটি তালিকা দিতে অনুরোধ জানান। এ চিঠির জবাবে কাস্টম হাউজ ২০১৪ সালের ২৫ নভেম্বরে লাইসেন্স নিতে কি কি করণীয় ও কাগজপত্র প্রয়োজন তা জানিয়ে দেয়। তবে লাইসেন্স নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও এরপর আর কোনও উদ্যোগ নেয়নি বিমান। ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি এবং একই বছরের ২০ আগস্ট পুনরায় লাইসেন্স নিতে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে চিঠি দেয় কাস্টম হাউজ।
বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিমানের গ্রাউন্ড ও কার্গো হ্যান্ডলিং সেবা নিয়ে ভুক্তোভোগীদের অভিযোগ মন্ত্রণালয়েও এসেছে। বিমানের গ্রাউন্ড ও কার্গো হ্যান্ডলিং নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের সভাপতিত্বে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে বিমানবন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের সমন্বয়ের দায়িত্ব বিমানের পরিবর্তে সিভিল এভিয়েশন অথরিটিকে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। ওই বৈঠকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য ফরিদ উদ্দিন চিঠি দেওয়া হলেও বিমান কর্তৃপক্ষ লাইসেন্স নিতে সাড়া দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন। বৈঠকে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এম আসাদুজ্জামানও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তিনি জানান, লাইসেন্সের নেওয়ার জন্য আবেদন করতে যেসব শর্তপূরণ করতে হয় তা বিমান করেনি, তবে দ্রুত করে আবেদন করা হবে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় আগামী ২৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিমান লাইসেন্সের জন্য আবেদন করবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এম আসাদুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা লাইসেন্স নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছি। লাইসেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে।
/সিএ/এমএসএম/আপ-এসএম/








