পটুয়াখালী-কুয়াকাটা সড়কে নবনির্মিত শেখ কামাল ও শেখ জামাল সেতু চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর ফলে কলাপাড়া-কুয়াকাটা পথে ২২ কিলোমিটার সড়কে ও ফেরির দুর্ভোগ থেকে পর্যটক ও স্থানীয় যাত্রীরা রক্ষা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই সেতু ব্যবহারের ফলে আগে যেখানে পর্যটক-দর্শনার্থীদের কলাপাড়া থেকে কুয়াকাটায় যেতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগত, এখন সেখানে মাত্র আধাঘণ্টা লাগবে।
বেলা সোয়া ১১টার দিকে গণভবনে বসে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই দুই সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সিলেট অঞ্চলে ১৬টি সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করেন তিনি।
কলাপাড়ায় আন্ধারমানিক নদীর ওপরে শেখ কামাল সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে প্রায় দুই মাস আগে। এছাড়া হাজীপুরে সোনাতলা নদীর ওপরে শেখ জামাল সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে প্রায় এক মাস আগে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শহীদ সন্তানদের নামে কলাপাড়া শহরের আন্ধারমানিক নদীর ওপরে শেখ কামাল, হাজীপুরে সোনাতলা নদীর ওপরে শেখ জামাল ও শিববাড়িয়া নদীর ওপরে নির্মিত হয়েছে শেখ রাসেল সেতু। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এ সেতু তিনটির নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
সওজ সূত্রে জানা গেছে, সোনাতলা নদীর ওপরে ১০টি স্প্যানের ওপরে নির্মিত হয়েছে ৪৮২ দশমিক ৩৭৫ মিটার দীর্ঘ শেখ জামাল সেতু। সংযোগ সড়ক রয়েছে ৪০০ মিটার। এটির জন্য ব্যয় হয়েছে ৪৩ কোটি ৪৩ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। আন্ধারমানিক নদীর ওপরে শেখ কামাল সেতুটি নির্মিত হয়েছে ৮৯১ দশমিক ৭৬ মিটার দীর্ঘ। ১৯টি স্প্যানের ওপর সেতুটির রয়েছে ৪০০ মিটার সংযোগ সড়ক। এটির ব্যয় বরাদ্দ ৬৫ কোটি এক লাখ ৮৫ হাজার টাকা।
এছাড়া ইস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের আওতায় সিলেট-সুনামগঞ্জ ও সিলেট-জকিগঞ্জ মহাসড়কের ১৬টি সেতুর নির্মাণ করা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে ১১টি এবং সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কে ৫টি সেতু। এ ১৬ সেতুর নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২৬৮ কোটি টাকা।
নির্মিত এ সেতুগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে গোবিন্দগঞ্জ, জাতুয়া, বাউস, চেচাং, রাউলি, আহছানমারা, মনবেগ কাকুরা, কোনাগ্রাম, পরচক, সাতপরি, সাজাতপুর।
/এফএস/








