নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিবন্ধন পেতে যাওয়া দুই রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) বিরুদ্ধে অভিযোগ শুনানি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার (৭ আগস্ট) আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে কমিশন তাদের অভিযোগের শুনানি করে।
এতে দুই রাজনৈতিক দল বিএনএম ও বিএসপির প্রতিনিধি এবং অভিযোগকারীরা তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বে অন্য কমিশনাররা এতে উপস্থিত ছিলেন। শুনানির পর অভিযোগের বিষয়টি নিষ্পত্তি করে শিগগিরই নিবন্ধনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, শুনানির শুরুতেই আলোচিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও তার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী আইনজীবী আলী নাসের খানকে নিয়ে বসে কমিশন। আলী নাসের খান বলেন, এ দলটির ২০ উপজেলার সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব ভূঁইফোড় সংগঠনকে নিবন্ধনের জন্য ভবিষ্যতে কমিশনকে মারাত্মক আইনি চ্যালেঞ্জ, এমনকি বিচারের মুখোমুখিও হওয়া লাগতে পারে। এছাড়া কমিশন যদি এ রকম ত্রুটি এবং বিভ্রান্তিকর পন্থার একটি দলকে নিবন্ধন দেয়, তাহলে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণে দায়ী হতে পারে, যা সংবিধান ও আইনের চরম লঙ্ঘন। সেজন্য জনস্বার্থে তিনি দলটির ব্যাপারে অভিযোগ দিয়েছেন।
এসময় উপস্থিত বিএনএমের নেতারা তার এ বক্তব্যের জবাব দেন। এরপর বিএসপি ও দলটির বিরুদ্ধে অভিযোগকারী দুটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসে ইসি। এতে বিএসপির কো-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট কাজী মহসিন চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত জন এবং দলটির চেয়ারম্যানের ভাই অভিযোগকারী সৈয়দ শহিদ উদ্দীন ও আরেক অভিযোগকারী বাংলাদেশ শ্রমিক পার্টির (বিএসপি) নেতা জিলানী তিন জন অ্যাডভোকেটসহ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র জানায়, বিএসপি চেয়ারম্যানের সহোদররা তার বিরুদ্ধে পৈত্রিক সম্পত্তি দখল, বিশেষ করে ঢাকা, কুমিল্লা, ফটিকছড়ি ও চট্রগ্রামের চারটি খানকা দখলের অভিযোগ করেন। জবাবে বিএসপি নেতারা বলেন, এসব সম্পত্তি তাদের পিতা চেয়ারম্যানের নামে হেবা করে গেছেন। এছাড়া এসব নিয়ে আদালতে মামলাও চলছে। ফলে এ নিয়ে ইসির কিছু করার আছে বলেও মনে করেন না তারা।
অন্যদিকে একই নাম ব্যবহার করে দলটি নিবন্ধনের জন্য নির্বাচিত হয়েছে-বাংলাদেশ শ্রমিক পার্টি (বিএসপি) নেতার এমন অভিযোগের জবাবে তারা বলেন, ইসিতে বিএসপি নামে নিবন্ধিত কোনও রাজনৈতিক দল নেই। ফলে আমাদের নিয়ে কোনও আপত্তি থাকার কথা নয়।
শুনানি শেষে কমিশনের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের সামনে কোনও বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
ইসি সূত্র জানায়, কমিশন তাদের বক্তব্য শুনেছে। এসব অভিযোগ নিষ্পত্তি করে আজকালের মধ্যেই চূড়ান্ত নিবন্ধনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
এর আগে ইসির নিবন্ধন পেতে ৯৩টি রাজনৈতিক দল আবেদন করলেও তিন দফার যাচাই-বাছাই শেষে এ দল দুটিকে নিবন্ধনের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করে ইসি।









