রাজনীতিকদের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না সংখ্যালঘু নেতারা, যা বললেন সিইসি

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১১ অক্টোবর ২০২৩, ১৫:৫৫আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৩, ১৭:৫৬

সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটের আগে-পরে সহিংসতা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ চায় বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ। বুধবার (১১ অক্টোবর) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসি ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে ঐক্য পরিষদের একটি প্রতিনিধি দল বৈঠক করে এ দাবি জানান।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল ভোটের আগে-পরে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি সহিংসতামুক্ত নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিতে আশ্বস্ত করেছেন। তবে ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত জানান, রাজনীতির ময়দানে তারা দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার হয়। কোনোভাবেই অতীতের অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি চান না।

যা বললেন সিইসি
বৈঠক শেষে সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, ‘নির্বাচনের আগে কিংবা পরে, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা-সংঘাত হলে তার দায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিতে হবে।’

বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে সিইসি জানান, তারা বলেছেন বাংলাদেশে অনেক সময় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক সংঘাত ও সহিংসতা হয়েছে। তাদের আশঙ্কা আগামীতেও এই ধরনের সাম্প্রদায়িক সংঘাত বা সহিংসতা হতে পারে।

তিনি বলেন, আমাদের কাছে আবেদন রেখেছেন আমরা যেন বিষয়টা বিবেচনায় নিই, আমাদের দিক থেকে করণীয় যা আছে, তা যেন করি। আমরা বিষয়টাকে খুব গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি। আমরা এটাও বলেছি যে আমাদের বিষয়টা দেখবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নির্বাচনের সঙ্গে বিষয়টা যখন সংশ্লিষ্ট হবে, সেটুক পর্যন্ত ইসির অধীনে চলে আসবে জানিয়ে সিইসি বলেন, ‘আমরা চিঠিপত্র দিয়ে সরকারকে, সরকারের ডিসি-এসপিদের, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত, তাদের অবহিত করবো, যাতে দেশে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনও সাম্প্রদায়িক সংঘাত বা সহিংসতা না হয়।’

সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে সতর্ক করে দেওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দিয়ে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘এটা কখনোই কাঙ্ক্ষিত নয়, এটা কখনও সভ্য আচরণ হতে পারে না। এটা অমানবিক একটা বিষয়। আমরা এই ধরনের অমানবিকতাকে কখনোই প্রশ্রয় দিই না। আমরা তাদেরও অনুরোধ করেছি যে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আপনারা আপনাদের শঙ্কার কথা ব্যক্ত করে রাখেন।’

নির্বাচনের আগে-পরে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হলে দায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর: সিইসি

নির্বাচনোত্তর সহিংসতা রোধে পদক্ষেপের বিষয়ে সিইসি জানান, নির্বাচনের ১৫ দিন পর পর্যন্ত ইসির কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর থাকে, সেদিকে নজর রাখা হবে।

সিইসি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্বাচনোত্তর হোক বা না হোক, দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করা, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, সংঘাত যাতে না হয়, এটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তাদের। যদি এটা না হয়, এর দায় দায়িত্ব তারাই বহন করবে।’

উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা
বৈঠকে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্তের নেতৃত্ব পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।

ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আমাদের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও শঙ্কার কথা জানিয়েছি। আমরা পরিষ্কার করে বলেছি, আমরা সবাই মিলে ভোট দিতে চাই। কিন্তু ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে বলেছি, আমরা সহিংসতামুক্ত নির্বাচন চাই। নির্বাচনি প্রচারণায় সাম্প্রদায়িকতাকে যে ব্যবহার করা, তার অবসান চাই।’

সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ও গুজব ছড়িয়ে নির্বিঘ্নে ভোটদানের পরিবেশ বিঘ্নের অপচেষ্টা হয়, তা বন্ধ করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অতীতেও নির্বাচনের আগে ইসি কাছ থেকে আশ্বাস পেয়েছি। কিন্তু আশ্বাস সবসময় আশ্বাসের মধ্যে থেকেছে, আমরা আশ্বস্ত হতে পারিনি। সিইসি আমাদের আশ্বাস ও আশ্বস্ত করেছেন। কিন্তু অতীতের অভিজ্ঞতার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে।’

রাজনৈতিক সমঝোতার কোনও আশা দেখছেন না উল্লেখ করে রানা দাশগুপ্ত আরও বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক নেতাদের ওপর আশা ও আস্থা কোনোটাই রাখতে পারছি না। আজ রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচন হতো, যেটা অতীতেও হয়েছে; তারপরও নির্বাচনি সহিংসতা হয়েছে। সমঝোতার কোনও আলামত লক্ষ করছি না। সমঝোতা হলেও বলতাম, নির্বাচনি সহিংসতা বন্ধে দলগুলো ঐকমত্যের ভিত্তিতে বন্ধ করুন।’

এবারও সহিংসতার শঙ্কা করে রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘আতঙ্কটা বেড়ে গেছে। আমাদের রাজনীতির দাবা খেলার ঘুঁটি হিসেবে রাজনৈতিক ময়দানে ব্যবহার করা হয়েছে। কেউ মনে করে ভোট দিতে এলে আমার বিপদ। আবার কেউ মনে করে আমাদের ভোট না দিয়ে যাবে কোথায়?’

/ইএইচএস/এনএআর/এমওএফ/
সম্পর্কিত
প্রবাসীর কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে ধরা খেলেন নির্বাচন কর্মকর্তা, ভিডিও ভাইরাল
ইউপি নির্বাচন বিএনপির প্রেস্টিজ ইস্যু: একক প্রার্থী নির্ধারণে চিন্তার ভাঁজ
স্থানীয় নির্বাচন তো দূরের কথা, কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার অধিকার নেই আ.লীগের: প্রতিমন্ত্রী
সর্বশেষ খবর
অতি প্রক্রিয়াজাত খাবারে কিশোরীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি, সচেতনতার আহ্বান
অতি প্রক্রিয়াজাত খাবারে কিশোরীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি, সচেতনতার আহ্বান
পদ্মার স্রোতে ভাঙছে ঘরবাড়ি-ফসলি জমি, পানিবন্দি ৫০০ পরিবার
পদ্মার স্রোতে ভাঙছে ঘরবাড়ি-ফসলি জমি, পানিবন্দি ৫০০ পরিবার
মমেক হাসপাতালে আগুনে মৃত্যুর খবর সত্য নয়: বিভাগীয় কমিশনার
মমেক হাসপাতালে আগুনে মৃত্যুর খবর সত্য নয়: বিভাগীয় কমিশনার
এইচআইভি প্রতিরোধে মানবাধিকার সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব
এইচআইভি প্রতিরোধে মানবাধিকার সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব
সর্বাধিক পঠিত
চার্জার খালি পড়ে থাকলেও কি বিদ্যুৎ খরচ হয়
চার্জার খালি পড়ে থাকলেও কি বিদ্যুৎ খরচ হয়
ব্যাংক খাতে অদক্ষ এমডি বাছাই শুরু, চাকরি হারাচ্ছেন কারা
ব্যাংক খাতে অদক্ষ এমডি বাছাই শুরু, চাকরি হারাচ্ছেন কারা
মদিনায় ১১০ মিলিয়ন টন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ আকরিকের সন্ধান
মদিনায় ১১০ মিলিয়ন টন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ আকরিকের সন্ধান
ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন ‘ন্যক্কারজনক’, দ্রুত অপরাসরণ চায় ছাত্রদল
ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন ‘ন্যক্কারজনক’, দ্রুত অপরাসরণ চায় ছাত্রদল
আলপি চমকে জর্ডানকে হারালো বাংলাদেশ 
আলপি চমকে জর্ডানকে হারালো বাংলাদেশ