সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্লট ও ফ্ল্যাটের খোঁজ নিচ্ছে দুনীতি দমন কমিশন- দুদক। এরই অংশ হিসেবে আবাসন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশকে (রিহ্যাব) চিঠি দেওয়া হয়েছে। রিহ্যাব ওই চিঠির কপি পাঠিয়েছে আবাসন বিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে।
দুদক সূত্র জানায়, প্রবাসে তারেক রহমান বিলাসবহুল জীবন যাপন করছেন। তিনি মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে খরচের অর্থের উৎস ও বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করে যে অর্থ খরচ করছেন তারও উৎস খুঁজে বের করতে ডেভলপার কোম্পানিগুলোর কাছে চিঠি দিয়েছে দুনীতি দমন কমিশন।
লন্ডনে বসবাসরত তারেক রহমানের ২টি ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে। পুরনো ঠিকানা: ৬ শহীদ মইনুল রোড, ঢাকা ক্যান্টমেন্ট, ঢাকা। নতুন ঠিকানা: বাড়ি-১ (ফিরোজা ভবন), রোড- ৭৯, গুলশান- ২, ঢাকা। চিঠিতে পিতার নাম বলা হয়েছে, মৃত জিয়াউর রহমান।
চিঠিতে তারেক রহমানসহ ২০ জনের প্লট ও ফ্ল্যাটের তথ্য চাওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে দুদক চেয়াম্যান মো. বদিউজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হয়তো কোনও মামলার প্রয়োজনে রিহ্যাবকে চিঠি দেওয়া হয়েছে তার (তারেক রহমানের) বিষয়ে।’ তবে এ বিষয়ে খোঁজ না নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
সূত্র জানিয়েছে, দুদকে পেশ করা একটি অভিযোগ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সম্প্রতি তারেক রহমানের সম্পদের তথ্য অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। তার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দুদকের উপ-পরিচালক হারুনুর রশীদকে।
এর আগে বিদেশে মুদ্রা পাচার ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে।
প্রসঙ্গত, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে বিদেশে ২০ কোটি টাকা পাচারের মামলা বিচারাধীন।
চলতি মাসের ৪ তারিখে ডেভলপার কোম্পানিগুলোর কাছে পাঠানো চিঠিতে দেখা গেছে, তারেক রহমান ছাড়াও প্লট ও ফ্ল্যাটের খোঁজ নেওয়ার এই তালিকায় আছে জাতীয় সংসদ সচিবলায়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সেকেন্দার হায়াত রিজভীর নাম। এই তালিকায় আরও আছেন- রাজারবাগ পুলিশ টেলিকম অফিসের সাবেক হিসাব রক্ষক মো. আবদুল লতিফ, সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা আবদুল করিম, নারায়াণগঞ্জের যমুনা অয়েল কোম্পানির সাবেক অপারেটর রফিকুল ইসলাম, সাভার রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক মো. আবু সাঈদ।
/এজে/








