আজ থেকে দু’মাস জাটকা ধরা নিষিদ্ধ, বরাদ্দ আসেনি জেলেদের

ইব্রাহিম রনি, চাঁদপুর
০১ মার্চ ২০১৬, ১৪:৪০আপডেট : ০১ মার্চ ২০১৬, ১৫:২১

জাটকা ইলিশ রক্ষায় ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এই দু’মাস চাঁদপুরের মেঘনাসহ পাঁচটি অভয়াশ্রমের সাড়ে ৩শ’ কিলোমিটার নদীতে মাছধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। আজ থেকেই এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ অধিদফতর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে এখনও বরাদ্দ আসেনি জেলেদের।
চাঁদপুরে মেঘনা নদীতে অলস বসে আছে জেলেরা
অভয়াশ্রমগুলো হচ্ছে, চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনা নদীর একশ’ কিলোমিটার অংশ, নোয়াখালীর মেঘনার শাহবাজপুর চ্যানেলের ৯০ কিলোমিটার অংশ, ভোলার তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার অংশ, পটুয়াখালীর কলাপাড়ার আন্ধার মানিক নদীর ৪০ কিলোমিটার অংশ ও শরীয়তপুরের পদ্মার নিম্নাঞ্চল তারাবুনিয়া এলাকার ২০ কিলোমিটার অংশ। সাধারণত এসব এলাকায় ইলিশের প্রজনন ও বংশ বিস্তার হয়ে থাকে।

এদিকে, জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় নিষিদ্ধ সময়ে মাছ শিকারি জেলেদের দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা।

তবে মাছ ধরার ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় এ দু’মাস বেকার থাকতে হবে জেলেদের। এ সময়ে জেলেদের জীবন ধারণে সহায়তা দিতে কয়েক বছর ধরে চালসহ কিছু বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহ করছে সরকার। কিন্তু এ বছর এখনও তাদের জন্য প্রয়োজনীয় চাল বরাদ্দই হয়নি।  

চাঁদপুর জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট তালিকাভুক্ত জেলে রয়েছেন ৪১ হাজার ৪২ জন। এর মধ্যে এবার নতুন তালিকাভুক্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৭৬০ জন। মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় ১৩ হাজার ৩৩ জন, মতলব উত্তরে ৭ হাজার ৭২৬ জন, মতলব দক্ষিণে ৩ হাজার ৫৯২ জন এবং চাঁদপুর সদর উপজেলায় ১৬ হাজার ৬৯১ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। এর মধ্যে ১২ হাজার জেলে এখনও চাল বরাদ্দের আওতার বাইরে রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এবার তারা চাল সহায়তা পাবে বলে আশা করছে মৎস্য অফিস।

জেলেদের হাতে কবে নাগাদ চাল পৌঁছানো যাবে তা বলতে পারেননি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা। এ অবস্থায় অভয়াশ্রমের এ দু’মাস জেলেদের সংসার কীভাবে চলবে, এ দুশ্চিন্তার ছাপ এখন তাদের চোখে মুখে।

জেলেদের অভিযোগ, যে পরিমাণ বরাদ্দ তাদের জন্য তা খুবই সামান্য। হাইমচরের তেলিরমোড়ের জেলে আমিন মিজির বলেন, সরকার ৪০ কেজি চাল দেয়। কিন্তু আমরা তা পুরোপুরি পাই না।

সদর উপজেলার জেলে আব্দুল কাদের বলেন, অভিযানের আগে চাল পেলে আমাদের দুশ্চিন্তা কিছুটা কমতো।

একই কথা বললেন ওই এলাকার আরেক জেলে স্বপন আখন্দ। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শুধু চালের ওপর নির্ভর করে তো আর সংসার চলে না। সংসারে আরও অনেক খরচ আছে। এজন্য সরকারের কাছে নগদ টাকা দেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

নদী তীরে বেঁধে রাখা জেলে নৌকার সারি

তিনি আরও বলেন, অভাবের কারণে জেলেরা নিষিদ্ধ সময়েও অনেক সুযোগ পেলেই নৌকা নিয়ে মাছ শিকারে নেমে পড়ে। যদি পর্যাপ্ত সুবিধা জেলেদের দেওয়া হতো, তাহলে এমন অপরাধ কমে যেতো।

হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম সরওয়ার কামাল বলেন, এ এলাকা মৎস্যজীবী এলাকা। জেলের অভাব-অনটন আছে। তবে তাদের সহযোগিতার জন্য সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে।এরপরেও যারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরবে তাদের আইনের আওতায় আসতেই হবে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সফিকুর রহমান জানান, চাঁদপুরের মতলব উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী ইউনিয়ন পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার পদ্মা-মেঘনা এলাকাটি অভয়াশ্রম। গত কয়েকবছর ধরেই পদ্মা-মেঘনার এ অঞ্চলে মার্চ-এপ্রিলে  ইলিশ রক্ষায় সকল ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। বিপুলসংখ্যক জেলের প্রতি পরিবারের জন্য ৪০ কেজি করে চাল গত দুই থেকে তিন বছর যাবৎ বরাদ্দ ছিল। কিন্তু এবার জেলেদের অর্থনৈতিক টানাপড়েনের কথা বিবেচনা করে মৎস্য অধিদফতর মৎস্য মন্ত্রণালয়ের কাছে বরাদ্দ দ্বিগুণ চাওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, এমন প্রস্তাবসহ জেলেদের মাসিক বরাদ্দও পাঠানোর জন্য আমরা কয়েক সপ্তাহ আগেই সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতনদের কাছে প্রস্তাব পাঠালেও চালের বরাদ্দ এখনও পাইনি। শুধু চালের বরাদ্দই নয়, আজ থেকে অভিযান পরিচালনার জন্য আমার মৎস্য বিভাগ থেকেই ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে, কিন্তু তাও এখনও মেলেনি। কবে নাগাদ মিলবে তা বলতে পারছি না।

এ কর্মকর্তা বলেন, গত বছর ৫ লাখ টাকা চেয়ে জাটকা নিধন রোধ অভিযান পরিচালনার জন্য আমরা পেয়েছি মাত্র ৭০ হাজার টাকা। যা পর্যাপ্ত ছিলো না। এবারও একই ধরনের টাকা চাইলেও এখনও পাওয়া যায়নি। তবে  ইলিশ রক্ষায় বাকিতে হলেও কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

জেলা প্রশাসক আব্দুস সবুর মণ্ডল বলেন, জেলেদের চাল বরাদ্দ বাড়ানো এবং নগদ একহাজার টাকা করে প্রদান করার জন্য আমি গত জেলা প্রশাসক সম্মেলনে প্রস্তাব করেছিলাম। প্রধানমন্ত্রী সেটিকে আমলে নিয়েছেন। হয়তো এ প্রস্তাব এ বছর বাস্তবায়ন না হলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় আগামী দিনে এটিকে বাস্তবায়িত করবে।

তিনি আরও বলেন, ইলিশের পোনা জাটকা এবং মা ইলিশ রক্ষায় আমরা কঠোর। গত বছরও অভিযান কঠোর হয়েছে- এবারও হবে।

অভিযানে বরাদ্দ সম্পর্কে তিনি বলেন, বরাদ্দও এখনও আসেনি সেটি ঠিক। কিন্তু তাই বলে বসে থাকা যাবে না। বরাদ্দ আসবেই। কাজ করতেই হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, অভিযান সফল করতে সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে সজাগ করে দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক, সামাজিক এবং জনপ্রতিনিধিরা নিশ্চই আগের মতো সহযোগিতা করবে।

প্রসঙ্গত, গত বছর জাটকা রক্ষার অভয়াশ্রমের দু মাসে মাছ শিকারের দায়ে ৩৬০ জন জেলে আটক হন। আটককৃতদের কাছ থেকে ৬ লাখ ৬৯ হাজার টাকা জরিমানা আদায় এবং সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। জানা গেছে, এ বছরও একই রকম অভিযান অব্যাহত রাখবে প্রশাসন।

/এআর/টিএন/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম