স্ত্রীর নামে নেওয়া প্লট অবশেষে ফেরত দিলেন রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো.নুরুল হুদা। এর মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি পেয়েছেন তিনি। এর আগে জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থেকেও দুদকের দায়মুক্তি পান তিনি।
প্রকৌশলী মো.নুরুল হুদা ২০০৯ সালের ৩০ মার্চ অতিরিক্ত সচিবের পদমর্যাদায় দুই বছরের জন্য রাজউকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পান। তার এই নিয়োগ ছিল চুক্তিভিত্তিক। মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিন দফায় তার চুক্তির মেয়াদ বাড়ে। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ২০ এপ্রিল রাজউক চেয়ারম্যান হিসেবে তার মেয়াদ শেষ হলে সরকার তা আর নবায়ন করেনি।
দুদক জানিয়েছে, রাজউকের চেয়ারম্যান থাকাকালে প্রকৌশলী মো. নুরুল হুদা রাজউকের নির্মাণাধীন পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ৯ নম্বর সেক্টরের ১০৩ নম্বর রোডে ১০ কাঠা আয়তনের একটি প্লট (নম্বর-১৯)বরাদ্দ নেন। এরপর স্ত্রী ওয়াহিদা হুদার নামে একই প্রকল্পের ৫ নম্বর সেক্টরের ৩০৯ নম্বর রোডে পাঁচ কাঠা আয়তনের আরেকটি প্লট (নম্বর ৪৯)বরাদ্দ নেন। এই প্লট নিতে স্ত্রীকে তিনি ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ হিসেবে দেখান। যদিও রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় এই দম্পতির নামে প্লট রয়েছে। এ অভিযোগ পাওয়ার পর দুদক অনুসন্ধান করে।
জানা গেছে,দুদকের তৎপরতায় মিসেস ওয়াহিদা হুদা নিজ নামে নেওয়া প্লটটি ফেরত দিতে রাজউকে একাধিক আবেদন করেন। আবেদনে ওয়াহিদা হুদা বলেন,রাজউকের প্রচলিত বিধি-বিধান অনুসারে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের মূল অধিবাসী হিসেবে ঘর-বাড়িসহ জমিতে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন,তাদের (স্বামী-স্ত্রী উভয়েই)প্লট বরাদ্দ পাওয়ার কথা। আমিও অনুরূপভাবে জমি ও বাড়ির বিনিময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মূল অধিবাসী হিসেবে প্লটের বরাদ্দ পেয়েছি। এ ক্ষেত্রে বিধি-বিধানের কোনও ব্যত্যয় হয়নি বলে আমি মনে করি। তারপরও বরাদ্দকৃত প্লটের ক্ষেত্রে রাজউকের বিধি-বিধানের কোনও রূপ ব্যত্যয় হয়ে থাকলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির স্বার্থে আমাকে পুরো বিষয়টি অবহিত করলে আমি রাজউক বরাবর প্লটটি সমর্পণ করতে প্রস্তুত আছি।
জানা গেছে, গত ২৫ নভেম্বর আরেকটি আবেদনপত্রে ওয়াহিদা হুদা আলোচিত প্লটটি সমর্পণ করার সিদ্ধান্তের কথা জানান। ৬ ডিসেম্বর রাজউক তার প্লট ফেরত দেওয়ার আবেদন গ্রহণ করে। এরপর রাজউক পূর্বাচলে ওয়াহিদা হুদার প্লটটি বুঝে পেয়েছে বলে দুদককে জানায়।
জানা গেছে, সম্প্রতি দুদক সচিব আবু মো.মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে প্রকৌশলী মো.নূরুল হুদাকে দায়মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে,প্রকৌশলী মো.নুরুল হুদার বিরুদ্ধে বিধি বহির্ভূতভাবে প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগটি নথিভুক্তির (অব্যাহতি) মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যোগাযোগ করা হলে প্রকৌশলী মো.নূরুল হুদা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,রাজউকের চেয়ারম্যান থাকাকালে আমি গঠনমূলক অনেক কাজ করেছি। এতে কেউ কেউ ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন। তারাই মূলত আমার স্ত্রীর নামে বৈধভাবে নেওয়া প্লট নিয়ে অপপ্রচার চালান। এই সমালোচনা থেকে রেহাই পেতে আমার স্ত্রী তার প্লট সারেন্ডার করেছেন।
তিনি জানান,রাজউক গৃহীত যে কোনও প্রকল্প এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন পুনর্বাসনের জন্য প্লট পেতে পারেন। আমার স্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবেই প্লটটি পেয়েছিলেন। এতে আইনের ব্যত্যয় ঘটেনি। তিনি জানান, পূর্বাচলের কাঞ্চন ব্রিজের কাছে ১৯৯০ সালে আমার স্ত্রী দুই বিঘা জমি কিনেছিলেন। রাজউক ওই জমি অধিগ্রহণ করায় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হন।
ওএফ/এপিএইচ/








