আওয়ামী লীগ-বিএনপি এক থাকলে এক-এগারোর মতো ঘটনা ঘটতো না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ-বিএনপি এক থাকলে ওয়ান ইলেভেনের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না। কীসের ভয়? আমরা এক থাকলে অন্য কেউ ক্ষমতা দখল করতে পারতো না।’
এক-এগারোর কুশীলবদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবিও জানিয়েছেন বিএনপি নেতা।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ-বিএনপি এক থাকলে ওই সময় আমাদের জেলে নিতে পারতো না। শেখ হাসিনা সে সময় কাঁকুতি-মিনতি করে ১১ মাস পরে মুক্তি পেয়েছিলেন। আর আমি ফাইট করেছিলাম।’
মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের চট্টগ্রাম জেলা জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘বিগত আন্দোলনে চট্রগ্রাম জেলায় নিহত ও আহত পরিবারের আর্থিক অনুদান’ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এসময়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৭টি পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘এক-এগারোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়ী। তিনি (শেখ হাসিনা) বলেছিলেন, এ সরকার আমাদের আন্দোলনের ফসল। আর তিনি যদি সত্যি এক-এগারোর কুশীলবদের বিচার করতে চান। তাহলে যারা দেশে আছেন তাদের ধরা হয় না কেন?’
তিনি বলেন, ‘মাহফুজ আনাম তো তার ভুল স্বীকার করেছেন। এর সঙ্গে জড়িত হাসান মাসুদ চৌধুরী, মাসুদ আহমেদ, ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা রুমিসহ আরও অনেকেই তো দেশে আছেন। তাদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা হোক।’
বর্তমান সরকার এক-এগারোর চেয়েও খারাপ বলে মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘বতর্মান সরকার অবৈধ। এ সরকারের সব কর্মকাণ্ড অবৈধ। আরেকটি নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এ সরকারের একটি নির্বাচন নির্বাচন খেলা। নাম মাত্র নির্বাচন।’
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের মধ্যে দেশপ্রেম নেই। সে কারণে তারা দুর্নীতি, লুটপাট ও সন্ত্রাস করছে। কমিশনের জন্য বড় বড় প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার। জনগণের ওপর এতে চাপ বেড়ে যায়। সরকার দুর্নীতিতে ব্যস্ত। তারা একের পর এক ইস্যু তৈরি করছে তাদের দুর্নীতিকে ঢাকা দেওয়ার জন্য। জনগণকে ভুলিয়ে দেয় তাদের দুর্নীতির কথা।
এসময় তিনি বলেন, ‘দেশজুড়ে বিএনপির আন্দোলন হয়েছে। কিন্তু ঢাকায় আন্দোলন হায়নি। এটা আমাদের ব্যর্থতা, স্বীকার করি। যারা সত্যিকার অর্থে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল তাদের দলে ভালো পদে রাখা হবে। তারা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আসবে। ছাত্রদল-যুবদল যারা করতো তার এখন আর ছোট নেই। তাদের দায়িত্ব নেওয়ার সময় এসেছে। বয়স্করা দলে অনেক কিছু দিয়েছেন তারা এখন উপদেষ্টা পরিষদে যাবেন।’
এসময়ে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ হোসেন, তরিকুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমির মাহমুদ খসরু, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আল মোজাদ্দেদী।
/এসটিএস/এসটি/








