বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতি দাতা দেশগুলোর নজর রয়েছে উল্লেখ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, ‘বারবার একটি শব্দ শুনি—চাপ, চাপ, চাপ। সব দেশ আমাদের নির্বাচন সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিচ্ছে। আমাদের ডোনার কান্ট্রিগুলো নির্বাচন দেখতে চাইছে; সেটাকে চাপ বলেন বা স্যান্সেটাইজেশন বলেন, ওরা যে দৌড়ঝাঁপ করছে, আমরা দেখেছি।’
সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে জাপানের একটি প্রতিনিধি দল পর্যবেক্ষক প্রশ্নে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। জাপান ৩ সদস্যের একটি পর্যবেক্ষক দল বাংলাদেশে পাঠাবে। এছাড়া তাদের অ্যাম্বাসির আরও ১৩ সদস্য ভোট পর্যবেক্ষণ করবে।
সিইসি বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকেও বলেছি নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হবে। সরকারও বারবার একই কথা বলেছে। বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটির মেম্বার এবং কমিটি অব নেশনসের সদস্য। আন্তর্জাতিকভাবেও নির্বাচনটা সুন্দর হোক, সুষ্ঠু হোক, বহির্বিশ্বেও সবার কাছে নির্বাচনটা একটা ভালো গ্রহণযোগ্যতা পাক; সেই প্রত্যাশা সবার মতো আমাদেরও আছে। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে নির্বাচনটাকে ফ্রি, ফেয়ার এবং পিসফুল; এই তিনটা জিনিসের ওপর আমরা খুব জোর দিয়েছি।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অস্বস্তি বা স্বস্তি কোনোটিই আমার মধ্যে নেই। আমার দায়িত্বটা হচ্ছে আমাদের নির্বাচনটা যেভাবে করতে হয়, নির্বাচন কমিশন সরকারের সহায়তা নিয়ে অর্থাৎ পুলিশ, প্রশাসন সবার সহায়তা নিয়ে নির্বাচনটা করতে চাচ্ছি। আমার ব্যক্তিগত স্বস্তি-অস্বস্তিটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে এটা ঠিক যে নির্বাচনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দল তারা পার্টিসিপেট করছে না। পার্টিসিপেট করলে ভালো হতো। আপনারা জানেন, আমরা প্রথম থেকেই তাদের আহ্বান জানিয়েছিলাম আপনারা অংশগ্রহণ করুন, আমরা আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। তারা সাড়া দেননি।’
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘যেটা আগে বলেছি— অংশগ্রহণ করলে নির্বাচনটা আরও অনেক বেশি ইনক্লুসিভ ও পার্টিসিপেটরি হবে। এখন আমি সেখানে যাচ্ছি না। অংশগ্রহণ নিলে ভালো হতো, এটা সবাই ফিল করে।’
গ্রহণযোগ্যতার জন্য জাতীয় বা আন্তর্জাতিকভাবে এটি সমস্যা হবে কিনা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি সেই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করবো না। সেটি নির্বাচনের পরে দেখা যাবে।’
যারা নির্বাচনে আসছে না, তারা তো প্রতিরোধেরও ঘোষণা দিয়েছে—বিষয়টি নজরে আনা হলে তিনি বলেন, ‘সেটা দেখা যাক, আমরা সেজন্য বলেছি তাদের প্রতি সবার আহ্বান... প্রতিহত যদি উনারা করতে চান, সেটা উনাদের ব্যাপার, পলিটিক্যালি স্ট্র্যাটিজি। সেটার ব্যাপারে আমরা কোনও বক্তব্য দেবো না। আমরা চাইবো ইলেকশনটা পিসফুলি হোক।’
আজকের বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘জাপান অবজারভেশন টিম পাঠাবে। জাপান থেকে তাদের কিছু সদস্য আসবেন। আর বাকিরা বাংলাদেশে জাপান অ্যাম্বাসি থেকে স্টাফরাও অবজারভার হিসেবে কাজ করবে। ওরা আমাদের নির্বাচনটাকে খুব গুরুত্ব দিচ্ছেন। সেজন্য ওরা অবজার্ভ করতে চাচ্ছেন। আমরা তাদের ধন্যবাদ দিয়েছি। তারা আরও বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন। আমরা তাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে সর্বশেষ অবস্থা জানিয়েছি।’
জাপানের কোনও পরামর্শ ছিল কিনা—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, এ ব্যাপারে জাপানের কোনও পরামর্শ ছিল না।’









