দীর্ঘ ৭৫ দিন পর বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে তালা ভেঙে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেছেন নেতাকর্মীরা।
দীর্ঘদিন পর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে রিজভী দাবি করেন, ‘আমাদের যুবদলের এক নেতা এবং এক প্রবীণ সাংবাদিককে হত্যার মধ্য দিয়ে এক ভয়াবহ নিপীড়নের তাণ্ডব শুরু হয়। গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশ পণ্ড করে পুলিশ এক নারকীয় তাণ্ডব চালিয়ে নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দিয়েছিল। এই দুই মাসের অধিক সময় পুলিশ কাউকে এখানে ঢুকতে দেয়নি এবং আশপাশে ভিড়লেও তাদেরকে আটক করে নিয়ে গেছে।’
তবে বিএনপির কার্যালয়ে তালা দেওয়া নিয়ে রিজভীর করা দাবি মানতে নারাজ ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংস্থাটি বলছে, ১১ জানুয়ারি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ফটকের তালা ভেঙে প্রবেশ করেছেন। ১০ জানুয়ারি তিনি কার্যালয়ের প্রধান ফটকের চাবি ফেরতের অনুরোধ করে পুলিশ কমিশনার, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বরাবর একটি চিঠি দেন।
ডিএমপি আরও বলছে, কার্যালয়ে প্রবেশ করে সাংবাদিকদের উদ্দেশে রিজভী জানান, বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় পুলিশ তালা দিয়ে রেখেছিল। এ সংক্রান্ত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ইতিপূর্বে একাধিকবার বক্তব্য দিয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশ কখনও তালা দিয়ে রাখেনি। এরপরও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করে। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে জানা যায় ২৮ অক্টোবর সমাবেশ শেষে বিএনপি প্রধান কার্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মী সোহাগ কার্যালয়ে রাত্রিযাপন করেন এবং পরে ২৯ ডিসেম্বর সকালে গেটে তালা দিয়ে চাবি নিয়ে অফিস ত্যাগ করেন।
ডিএমপি আরও বলছে, এ সংক্রান্ত তথ্য প্রমাণ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এ জন্য বিএনপির অফিসে তালা দেওয়া সম্পর্কিত রিজভীর বক্তব্য এবং এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবর চাবি ফেরত চাওয়ার পত্রটি যথাযথ নয় বলে প্রতীয়মান হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সবার কাছ থেকে বস্তুনিষ্ঠ বক্তব্য প্রত্যাশা করে।
গত ১৩ নভেম্বর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান দাবি করেছিলেন, ‘আমরা বিএনপির কার্যালয়ে তালা মেরে রাখিনি। তাদের কার্যালয় তারা যেকোনও সময় আসতে পারবে।’









