অবশেষে বাড়ি ফিরতে যাচ্ছেন বাঘের কামড়ে গত ১০ ফেব্রুয়ারি মারাত্মকভাবে আহত শেরপুর জেলার শ্রীবরদি থানার মেয়র আবু সাঈদ। শেরপুর, ময়মনসিংহ এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে দীর্ঘ চিকিৎসাপর্ব শেষে ৭ বা ৮ মার্চ বাড়ি ফিরবেন তিনি।
৩ মার্চ ঢামেক বার্ন ইউনিটের কেবিনে কথা হয় বাঘের আক্রমণের শিকার হওয়া আলোচিত এই মেয়রের সঙ্গে। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি জানান ঘটনাটির আদ্যপান্ত।
শেরপুর জেলার শ্রীবরদি থানার গারো পাহাড়ের পাদদেশে প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমিতে মেয়র আবু সাইদের বাড়ি। ১০ ফেব্রুয়ারি মেঘালয় থেকে একটি চিতা বাঘ জলকাটার লোকালয়ে নেমে আসে। রাতের আঁধারে স্থানীয় একটি মেশিনঘরের পেছনে আশ্রয় নেয় বাঘটি। স্থানীয়রা দেখতে পাওয়া মাত্রই বাঘটিকে ঘিরে ধরে। মেয়র হওয়ায় ওখানে যাওয়া কর্তব্য মনে করেন আবু সাইদ।
তিনি বলেন, স্থানীয় থানাকে আমি সংবাদ দিতে গিয়ে জানতে পারলাম থানা থেকে একটি দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়ে গেছে। আমিও থানার পিকআপের আগে আগে মোটরসাইকেলে করে রওনা হলাম। যেহেতু প্রত্যন্ত গ্রাম, পথের অবস্থা ভালো নয়, মোটরসাইকেল রেখেই আমি তাই হাঁটতে শুরু করলাম।
মেয়র সাঈদ বলেন, আমি যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয় মানুষ জোরে চিৎকার করে উঠলো, এই মেয়রসাব এসছেন, এখন একটা ব্যবস্থা হবে। মানুষের ওই চিৎকারে বাঘটা উত্তেজিত হয়ে পড়লো। ঘটনাচক্রে কাছের সুবিধাজনক জায়গায় আমাকেই সে। আক্রমণ করলো ভয়ঙ্করভাবে। আমার ওপর চড়াও হয়ে থাবা মেরে মাটিতে ফেলে দিলো। আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল।
আমার ডান চোখ আর গলায় থাবা দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে তুললো বাঘটা। ঘিরে থাকা জনতাও তখন লাঠিসোটা নিয়ে চড়াও হলো বাঘের ওপর। আমাকে উদ্ধার করতে গিয়ে নাদের এবং আজিজুল নামের দুজন গুরুতর আহত হলেন। বর্তমানে সুস্থ আছেন তারা।
বাঘটা আমার ওপর ঝুঁকে ছিল বলে তারা আক্রমণ করতে পেরেছে আর আমিও বেঁচে গেছি। নয়তো বাঁচার কথা ছিল না আমার। উত্তেজিত জনতা বাঘটাকে সেখানেই পিটিয়ে মেরে ফেললেন। বাঘটার ভর ছিল চার মন, পরে জানকে পেরেছি।
বাঘের থাবা থেকে আমাকে উদ্ধার করে স্থানীয় জনতা, কাউন্সিলর ও পুলিশ বাহিনী তাড়াতাড়ি শ্রীবরদি সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে। সেখানে অবস্থা অপরিবর্তিত থাকায় দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।
আবু সাইদ জানান, দুইদিন সেখানেই থাকতে হয় তাকে। সেখানেও অবস্থার কোনও উন্নতি না হওয়ায় ১৩ ফেব্রুয়ারি তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চোখ ও মাথার একপাশে সফল অস্ত্রোপচার করা হয়।
কবে বাড়ি যাবেন জানতে চাইলে মেয়র বলেন, আগামী সোম কিংবা মঙ্গলবারে রিলিজ দেওয়া হবে বলে জানতে পেরেছি। চিকিৎসকরাও বলেছেন, আর কোনও বিপদ নেই আমার, অপারেশন ভালো হয়েছে, সবকিছু ঠিক আছে। এলাকার নবনির্বাচিত মেয়র হিসেবে আগামী ১০ মার্চ শ্রীবরদি থানার মেয়র হিসেবে আমার দায়িত্ব গ্রহণ করার কথা রয়েছে।
ঢামেক বার্ন ইউনিটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. তানভীর আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তিনি (আবু সাইদ) বর্তমানে ভালো আছেন। তাকে আমরা রিলিজ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
ছবি: নাসিরুল ইসলাম।
/এইচকে/








