একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের শীর্ষ নেতা মীর কাসেম আলীর চূড়ান্ত রায় নিয়ে খাদ্যমন্ত্রী ও মুক্তিযু্দ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর বক্তব্যে যুদ্ধাপরাধ মামলা পরিচালনা ব্যহত হবে জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, বিচার বিভাগ নিয়ে তাদের ওই উক্তি অসাংবিধানিক। গত শনিবার ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আয়োজনে এক আলোচনা সভায় খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম নতুন বেঞ্চ গঠন করে পুনরায় শুনানির দাবি জানান।
এ প্রসঙ্গে রবিবার অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি কোনও ব্যক্তি নন, একটি প্রতিষ্ঠান। প্রধান বিচারপতিকে বিতর্কিত করা মানে বিচার ব্যবস্থাকে বিতর্কিত করা। তাই প্রধান বিচারপতি বা বিচারালয় নিয়ে বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
জামায়াত নেতা মীর কাসেমের আপিল শুনানি পুনরায় শুরু করার যে দাবি খাদ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সে প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘তার এ বক্তব্য ন্যায়বিচার ব্যহত করবে ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।’ মীর কাসেমের মামলার রায় কী হয়, তা দেখতে সবাইকে ৮ মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন তিনি।
এর আগে মীর কাসেমের মামলার আপিল শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা মীর কাসেমের মামলার বিচারকাজে প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থার ‘গাফিলতি’র কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং তদন্ত সংস্থা যে গাফিলতি করেছে এজন্য তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিত।’ এরপর শুরু হয় একের পর এক সমালোচনা। সরাসরি প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে টিভি টকশো অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিচারপ্রার্থীরা তাদের নানা শঙ্কার কথা জানিয়েছেন। এর শেষ অবস্থান হিসেবে শনিবার প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে নতুন বেঞ্চ গঠন করে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেমের আপিলের পুনঃশুনানি দাবি করেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই মামলার রায় কী হবে তা প্রধান বিচারপতির প্রকাশ্যে আদালতে বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আমরা অনুধাবন করতে পেরেছি। তার বক্তব্যের মধ্যে এটা অনুধাবন করেছি, এই মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়ার আর কোনও সুযোগ নেই। জামায়াত-শিবিরের আন্তর্জাতিক লবিস্টরা যে সুরে কথা বলছেন একই সুরে কথা বলছেন প্রধান বিচারপতি। তাদের অভিযোগগুলোর সত্যতা দিয়েছেন তিনি।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত ওই সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছিলেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বলছি, এই রায় নিয়ে শঙ্কা এখন সংকটে পরিণত হয়েছে। তবে এ সংকট আমাদের সৃষ্ট নয়। সংকট সৃষ্টি করেছেন প্রধান বিচারপতি। এটাই আমাদের দুঃখ। রায়ের আগে প্রধান বিচারপতি যদি এমন কথা বলেন, তাহলে জাতি কোথায় যাবে?’ তাদের দুজনের এধরনের বক্তব্য দেওয়া উচিত হয়নি বলে মনে করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
/ইউআই/এপিএইচ/








