এখন থেকে সব প্রথম শ্রেণির চাকরির শুরুতে বেতন হবে নবম গ্রেডে। আর বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের (সরকারি কলেজের শিক্ষক) টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের পরিবর্তে ৫০ শতাংশ অধ্যাপককে স্থায়ী পদোন্নতি দিয়ে গ্রেড-৩-এ উন্নীত করা হবে। বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে বেতন বৈষম্য নিরসন সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে অষ্টম বেতন কাঠামোয় প্রথম শ্রেণির ক্যাডার কর্মকর্তাদের চাকরি শুরুর বেতন স্কেল এক গ্রেড নামিয়ে এনেছে সরকার। ফলে প্রথম শ্রেণির ক্যাডার ও নন-ক্যাডার সব কর্মকর্তা চাকরির শুরুতে নবম গ্রেডে বেতন পাবেন। তবে ক্যাডার কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সংস্থায় সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের একটি করে ইনক্রিমেন্ট দিয়ে বেতন নির্ধারণ করা হবে বলেও বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সরকারি কলেজের শিক্ষকদের বিষয়ে অর্থ সচিব জানান, আগে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যেও চতুর্থ গ্রেডের ৫০ শতাংশ সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল পেয়ে তৃতীয় গ্রেডে যেতে পারতেন। এখন ৫০ শতাংশকে স্থায়ী পদোন্নতির মাধ্যমে দেওয়া হবে।
অর্থ সচিব বলেন, প্রথম শ্রেণির চাকরি শুরুর পদটি হবে নবম গ্রেড। কারও কারও পদ নতুন পে-স্কেলে অষ্টম গ্রেডে এবং কারও কারও নবম গ্রেডে হয়েছিল। এতে জটিলতা দেখা দিয়েছিল। এখন ক্যাডার কর্মকর্তা এবং প্রথম শ্রেণিতে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত সবাই নবম গ্রেডে হবেন। তবে এসব কর্মকর্তাদের একটি বার্ষিক প্রবৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) দিয়ে বেতন নির্ধারণ করা হবে।
সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটা নিয়ে সমাধানে পৌঁছেছি। একটি বিষয় নিয়ে তাদের (শিক্ষকদের) দ্বিমত আছে। পরবর্তী সভায় তাদের চার পাঁচজনকে বৈঠকে রাখা হবে। সেখানে আলোচনা করে সমস্যা সমাধান করা হবে।
অষ্টম বেতন কাঠামোয় প্রথম শ্রেণির নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের প্রবেশ পদের বেতন নবম গ্রেডে বেতন ধরা হলেও ক্যাডার কর্মকর্তাদের বেতন ধরা হয় অষ্টম গ্রেডে। সপ্তম বেতন কাঠামোতে প্রথম শ্রেণির ক্যাডার ও নন-ক্যাডার উভয় কর্মকর্তারাই চাকরিতে প্রবেশের সময় নবম গ্রেডে বেতন পেতেন। এ নিয়ে প্রথম শ্রেণির নন-ক্যাডার কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন থেকেই আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে কর্মবিরতিও পালন করেন তারা। সরকারের আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত রয়েছে।
বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, অষ্টম ও নবম গ্রেড নিয়ে একটা সমস্যা ছিল। কেননা এখন একই সঙ্গে গ্রেডের কিছু পরিবর্তন করেছি। ফিক্সেশন অব সেলারিতে গিয়ে ডিসক্রিপেন্স হচ্ছিল। এই দুটা আমরা সমাধান করে দিয়েছি।
মাহবুব আহমেদ বলেন, ক্যাডার অফিসার আর যারা সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত (প্রথম শ্রেণি) তারা একই স্কেলে বেতন পাবেন। সবাইকে নবম গ্রেডে আনা হয়েছে।
সব প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের প্রবেশ পদের বেতন নবম গ্রেডে আনা হলেও ক্যাডার কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সংস্থায় সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্তদের একটা ইনক্রিমেন্ট দিয়ে বেতন ‘ফিক্স’ করা হবে বলেও জানান অর্থ সচিব।
চতুর্থ গ্রেডে থাকা সরকারি কলেজের শিক্ষকদের মধ্যে ৫০ শতাংশকে পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেতন বৈষম্য সংক্রান্ত এই মন্ত্রিসভা কমিটি।
সপ্তম বেতন স্কেলে চতুর্থ গ্রেডে থাকা অধ্যাপকদের ৫০ ভাগ সিলেকশন গ্রেড পেয়ে পরের ধাপে চলে যেতেন। অষ্টম বেতন কাঠামোয় সিলেকশন গ্রেড তুলে দেওয়ায় শিক্ষকরা এই সুযোগ হারাচ্ছিলেন।
অর্থসচিব জানান, চতুর্থ গ্রেডে যেসব শিক্ষক বেতন পাবেন তাদের মধ্য থেকে ৫০ ভাগ ‘পার্মানেন্টলি প্রমোশন পাবেন’।
আগে যে ৫০ ভাগ সিলেকশন গ্রেড পেতেন, সেই ৫০ শতাংশকে পদোন্নতি দিয়ে দেওয়া হবে। এভাবেই বিষয়টাকে সমাধান করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বেতন বৈষ্যমের প্রশ্ন আছে। ইতোমধ্যেই আমাদের তিনজন সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব, অর্থ ও জনপ্রশাসন সচিব তাদের সঙ্গে বসেছেন, একটা অবস্থানে পৌঁছেছেন।
/এসআই/এমএনএইচ/








