শব্দ ও পরিবেশ দূষণসহ নারীর শ্লীলতাহানি, অশোভন আচরণ বন্ধ করতে উচ্চস্বরের ভুভুজেলা বাঁশি বন্ধে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে তরুণ সমাজ। অনলাইনে পেজ খুলে, হ্যাশট্যাগ দিয়ে এর ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা। পাশাপাশি নারী কোন বিপদে পড়লে এই উচ্চস্বরের কর্কশ বাঁশিতে তার চিৎকারও চাপা পড়ে যায় উল্লেখ করে তারা বলেন, বন্ধ হোক এই অনাচার। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলছেন, তিনি বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় নেবেন এবং ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে আলাপ করবেন।
আসন্ন নববর্ষে ভুভুজেলা নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে এখন থেকেই সোচ্চার হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ইভেন্ট খোলা হয়েছে। ভুভুজেলামুক্ত পহেলা বৈশাখ চাই-নামের একটি ফেসবুক ইভেন্ট বেশ সমর্থন পেয়েছে। ইভেন্টের হোস্ট যৌন নিপীড়নবিরোধী নির্দলীয় ছাত্র জোট বলছে, এই নববর্ষে আমরা ভুভুজেলা নিষিদ্ধ চাই। প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। আর ভুভুজেলার বিষতো আমরা গত পাঁচ-ছয় বছরেই টের পেয়েছি। কেবল নারী নিপীড়ন নয়, ভুভুজেলার দুঃসহ শব্দ দূষণে বিরক্ত হননি এমন মানুষ কমই আছেন। তাই, আসুন এখন থেকেই উৎসবে ভুভুজেলা নিষিদ্ধে সোচ্চার হই।
গত বছরের এই ভুভুজেলার অসহনীয় চিত্রপটে দেখা যায়,অসহ্য, বিরক্তিকর এই বাঁশির কর্কশ সুর রমনার বটমূল থেকে টিএসসি পর্যন্ত লাখো মানুষকে চরম যন্ত্রণায় ফেলে। কেউ কারোর কথা শুনতে পারেন না। হারিয়ে যায় দেশীয় সংস্কৃতির ডুগডুগি, বাঁশি, ঢোল। এমনকি যখন টিএসসিতে যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটছিল তখনও সেই নারীদের চিৎকার কারোর কানে পৌঁছায়নি এই ভুভুজেলার শব্দে। দেখা গেছে, একদল ছেলে ইচ্ছে করে এটি নারীদের আশেপাশে, কানের কাছে বাজিয়ে চলেছে অনবরত।
ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট আরিফ জেবতিক বলেন, আসন্ন নববর্ষ ভুভুজেলামুক্ত হোক সেটা আমিও চাই। কারণ,এটি ব্যবহারের মাধ্যমে নারীদের হয়রানি করতে দেখা গেছে। পহেলা বৈশাখের ভিড়ের মধ্যে যে যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে সেসব ক্ষেত্রে এই যন্ত্রটি জোরে বাজিয়ে সেই নারীর আত্মচিৎকার শোনা যেন না যায় সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব প্রতিরোধের জন্য তরুণরা যে উদ্যোগ নিয়েছে আমি তার সঙ্গে একমত।
চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের শ্রবণসীমার বাইরে শব্দ কানে গেলে সেটা তার স্বাভাবিক যে আচরণ তা বদলে দিতে পারে। এমনকি দীর্ঘমেয়াদি কুফল দেখা যায় এ কারণে। এই উচ্চমাত্রার ভুভুজেলার শব্দে শিশুদের শ্রবণশক্তির ক্ষতির পাশাপাশি রক্তচাপ, কণ্ঠনালীর প্রদাহ, কাজ করার ক্ষমতা হ্রাস, বদমেজাজ বা খিটখিটে মেজাজ, ক্রোধ প্রবণতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হ্যাসট্যাগ ব্যবহার করে ভুভুজেলার বিরুদ্ধে কথা বলছেন তরুণেরা। কেবল পহেলা বৈশাখ নয়, তারা চান বাংলাদেশে যেকোন উৎসবে এই বিকট শব্দের যন্ত্রের ব্যবহার বন্ধ করা হোক। এটার কারণে দিবসটি পালনে যে মানসিক শান্তি আসার কথা সেটা না এসে এক ধরনের বিরক্তি সৃষ্টি করে বলে মত তাদের। তারা বলছেন,শুধু রমনা আর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাতেই নয়, সারাদেশে এটা নিষিদ্ধ করা হোক।
এদিকে, পহেলা বৈশাখকে ঘিরে মূল ভিড় যেহেতু হয় রমনা ও টিএসসি এলাকায়। সবাই চান দক্ষিণের মেয়র ব্যবস্থা নিক। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, অনেক নয়েজ হয়। আমি বিষয়টি অবশ্যই দেখব। ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
/ইউআই/এমএসএম








