ভেঙে দেওয়া দ্বাদশ জাতীয় সংসদের উপনির্বাচন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন ও উপনির্বাচনের সামগ্রী কেনার পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।
সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা ইসি সচিবালয়ের চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ক্রয় পরিকল্পনা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
ইসি সচিবালয়ের গত ১৯ সেপ্টেম্বরের স্মারকে চলতি অর্থবছরের (২০২৪-২৫) জন্য অনুমোদিত বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা (এপিপি) সোমবার নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারত চলে যাওয়ার পরের দিন ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দীন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন। এছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগ পৃথক আদেশের মাধ্যমে আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে দেশের সব সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বরখাস্ত করে সেসব পদে প্রশাসক নিয়োগ করেছে।
শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। এই সরকার নির্বাচন কমিশনসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য কমিশনও গঠন করা হয়েছে। এদিকে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের এক মাসের মাথায় ৫ সেপ্টেম্বর কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন পদত্যাগ করে।
ফলে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশে কখন জাতীয় বা স্থানীয় নির্বাচন হবে, সেটা স্পষ্ট নয়। সহসাই কোনও নির্বাচন হবে—এমন কোনও আভাসও নেই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যে বলেছে, প্রয়োজনীয় সংস্কার করে তারা নির্বাচনে যাবে।
আপাতত নির্বাচনের কোনও সম্ভাবনা না থাকলেও নির্বাচন কমিশন চলতি অর্থবছরে নির্বাচন সামগ্রী কেনার পরিকল্পনা করেছে। ইসি তার ক্রয় পরিকল্পনায় ১৩ কোটি ৭৫ লাখ (১৩৭.৫ মিলিয়ন) টাকা ব্যয়ে ৫ লাখ ৭৫ হাজার ট্যাম্প প্যাড, ১৩ হাজার কেজি গালা, ৫ লাখ ৭৫ হাজার অমোচনীয় কালির কলম, ২৯ লাখ স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের লক, ৫ লাখ ১৫ হাজার অফিসিয়াল সিল, ১০ লাখ ২০ হাজার মার্কিং সিল, ৬৫ হাজার ব্রাশ সিল, এক লাখ গানি ব্যাগ, ৫ হাজার ছোট চটের ব্যাগ কেনার কথা বলা হয়েছে।
কমিশন সচিবালয় ক্রয় পরিকল্পনায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদের শূন্য আসনে উপনির্বাচন, সিটি করপোরেশনের সাধারণ নির্বাচন বা শূন্য আসনে উপনির্বাচন, পৌরসভার সাধারণ নির্বাচন বা শূন্য আসনে উপনির্বাচন, উপজেলা পরিষদ সাধারণ নির্বাচন/শূন্য আসনে উপনির্বাচন, ইউনিয়ন পরিষদ সাধারণ নির্বাচন/শূন্য আসনে উপনির্বাচন উপলক্ষে টিভিসি, শর্টফিল্ম তৈরি ও প্রচার, বেতারের জন্য অডিও তৈরি ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের লক্ষ্যে কনটেন্ট তৈরির জন্য ৭০ লাখ (৭ মিলিয়ন) টাকা ব্যয় করার পরিকল্পনা করেছে।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য সিটি করপোরেশনের নির্বাচন, জাতীয় সংসদের কিছু আসনের উপনির্বাচন ও কিছু পৌরসভার নির্বাচন উপলক্ষে ভোটদান পদ্ধতি, ভোটার সচেতনতামূলক লিফলেট, সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক কার্ড, ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করার যোগ্য ব্যক্তি ও ভোটকক্ষে প্রবেশের আগে ও পরে করণীয় সংক্রান্ত পিভিসি ব্যানার ও ফেস্টুন মুদ্রণ, বিতরণ ও প্রচার বাবদ এক কোটি টাকা দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-জুন) কেনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া পাঁচটি জিপ, দুটি কার, দুটি মাইক্রোবাস ও ১০টি মোটরসাইকেল কেনার জন্য ১০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। গাড়ির যন্ত্রাংশ ক্রয় ও মেরামত বাবদ ৪০ লাখ টাকার কেনাকাটার পরিকল্পনা করেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের সচিব শফিউল আজিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটি ইসির রুটিন ওয়ার্ক। আমরা এ বছরের কোন সময়ে কোন কোন দ্রব্যসামগ্রী কিনতে চাই, সেটির সম্ভাব্য পরিকল্পনা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছি। এটা প্রকাশে পরিকল্পনা কমিশনেরও একটি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এটা হলে বাজেট ও বরাদ্দের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হয়।’









