জে
ল-জরিমানা বন্ধ ও দৈনিক জমা কমানোসহ সাত দফা দাবিতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের চব্বিশ ঘণ্টার ধর্মঘট চলছে। রবিবার সকাল ৬টায় শুরু হয়েছে এ ধর্মঘট, চলবে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত। ঢাকা জেলা ফোর স্ট্রোক অটোরিকশা ড্রাইভার্স ইউনিয়ন এ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।
ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে রবিবার সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে অটোরিকশা চালকরা প্রতিরোধ সৃষ্টি করেন। এ সময় তারা বেশ কিছু অটোরিকশার চাকার হাওয়া ছেড়ে দেন এবং ইঞ্জিনের প্লাগ খুলে নেন। তবে নগরীর ব্যস্ত এলাকাগুলোর প্রতিরোধবিহীন সড়কগুলোয় নির্বিঘ্নে চলাচল করে বেশ কিছু অটোরিকশা।
অটোরিকশা ধর্মঘটের কারণে রবিবার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে ছন্দপতন ঘটে। এ কারণে সিটি সার্ভিসের বাসগুলোতে প্রচুর যাত্রী দেখা যায়। সুযোগ পেয়ে রিকশা চালকরাও আদায় করে অতিরিক্ত ভাড়া।
ধর্মঘট প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, অটোরিকশা চালকদের আইনের মধ্যে চলতে হবে। তারা ইচ্ছামতো ভাড়া নেবেন, যেখানে-সেখানে পার্কিং করবেন—এ ব্যাপারে জনস্বার্থে পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে হবে। রবিবার দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত ‘সড়ক পরিবহন খাতের বিদ্যমান সমস্যা নিয়ে পর্যালোচনা সভা’ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, দৈনিক জমার টাকা কোনও অবস্থায়ই বেশি নেওয়া যাবে না। নতুন পাঁচ হাজার অটোরিকশা প্রকৃত চালকের মধ্যে বিতরণে ড্রাইভার্স ইউনিয়নের দাবি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, এটা আমাদের বিবেচনায় আছে।
স্বারষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এবং পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা এ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
ধর্মঘট আহ্বানকারী ড্রাইভার্স ইউনিয়নের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে কথায় কথায় গাড়ি রেকারিং এবং জেল-জরিমানা বন্ধ, কারাবন্দি সব অটোরিকশা চালকদের মুক্তি, যাত্রী সেবার মান উন্নয়নে পাঁচ হাজার অটোরিকশা চালকদের মাঝে বিতরণ, সরকার নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টার জন্য ৯০০ টাকা দৈনিক জমা শ্রমিকদের স্বার্থ পুনর্বিবেচনা, পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করার আগে পর্যন্ত নো-পার্কিং মামলা বন্ধ, ইকোনমিক লাইফ বৃদ্ধি করা গাড়ির জমা ৬০০ টাকা করা এবং শ্রম আইন অনুযায়ী সব চালককে নিয়োগপত্র/পরিচয়পত্র প্রদান করতে হবে।
গত ১ নভেম্বর থেকে ঢাকা মহানগরীতে কার্যকর হওয়া অটোরিকশার সরকার নির্ধারিত ভাড়া হলো—প্রথম দুই কিলোমিটার ৪০ টাকা। পরবর্তী প্রতিকিলোমিটার ১২ টাকা এবং ওয়েটিং চার্জ (যানজট বা অন্য কোন কারণে থামলে) মিনিটপ্রতি ২ টাকা। আগে প্রথম দুই কিলোমিটারের ভাড়া ছিল ২৫ টাকা, পরবর্তী প্রতি কিলোমিটার ৭ টাকা ৬৪ পয়সা এবং ওয়েটিং চার্জ ১ টাকা ৪০ পয়সা। অটোরিকশা মালিকদের দৈনিক জমা ৬০০ টাকার পরিবর্তে ৯০০ টাকা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরীতে ১ জানুয়ারি থেকে এই বর্ধিত ভাড়া কার্যকর হয়।
দেখা গেছে, নতুন ভাড়া কার্যকর হওয়ার পর কিছুদিন চালকরা মিটারে যাত্রী পরিবহন করেন। এরপর আবারও তারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে থাকেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিআরটিএ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বেশ কজন চালককে কারাদণ্ড ও অর্থ দণ্ড করে।
/ওএফ/এমএনএইচ/








