প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস কপ-২৯ জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে সোমবার (১১ নভেম্বর) আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে পৌঁছেছেন। স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা এবং তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি বাকুতে অবতরণ করে।
বাকুতে পৌঁছে সম্মেলনে বাংলাদেশের কর্মকর্তা, এনজিও ও সুশীল সমাজের নেতাদের দেশের জলবায়ু সংকটের উদ্বেগ তুলে ধরতে জোর প্রচেষ্টা চালানোর জন্য বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা। সেখানে একটি হোটেলে এক সমন্বয় সভায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলকে তিনি বলেন, আমাদের প্রধান চেষ্টা হবে আমাদের উদ্বেগ এবং দাবিগুলো চূড়ান্ত ঘোষণায় অন্তর্ভুক্ত করা।
বৈঠকে পরিবেশ সচিব ফারহিনা আহমেদ সম্মেলনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। তিনি বলেন, আলোচনার জন্য নয়টি দল গঠন করেছে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, দেশের অন্তত ২৯টি এনজিও এবং সুশীল সমাজগোষ্ঠী সম্মেলনে যোগ দিচ্ছে। তিনি বলেন, গ্লোবাল নর্থের ধনী দেশগুলোর আশ্বাস সত্ত্বেও বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ৩৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান এবং ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ জলবায়ু অর্থায়ন হিসেবে পেয়েছে।
এর আগে সকাল ১১টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যায় তাদের বহন করা বিমানটি।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, জলবায়ু সম্মেলন উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ১১-১৪ নভেম্বর আজারবাইজানে সরকারি সফরে থাকবেন। এই সফরে প্রধান উপদেষ্টা অত্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটাবেন। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ বাকুতে নিজেদের দাবি-দাওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ যে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে- এসব বিষয় তিনি বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরবেন।
তিনি আরও বলেন, অধ্যাপক ইউনূস কপ-২৯ জলবায়ু সম্মেলনের বিভিন্ন ফোরামে বক্তব্য রাখবেন এবং সেখানে অংশগ্রহণকারী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ যে বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে, সেটিও তুলে ধরা হবে সম্মেলনে।
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ড. ইউনূসের দ্বিতীয় বিদেশ সফর। তার প্রথম সফর ছিল নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের ৭৯তম সাধারণ অধিবেশন।
খবর: বাসস









