রাষ্ট্রধর্ম ইস্যুতে সপ্তাহজুড়ে হাওয়া গরমের চেষ্টা করছে জামায়াতসহ বিভিন্ন ইসলামী দল। সোমবার বিষয়টি নিয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আর এ শুনানির দিনে সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে জামায়াত।
সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে অন্তর্ভুক্তির বিধান নিয়ে হাইকোর্টের জারি করা রুলের শুনানির জন্য আবেদনটি সোমবারের কার্যতালিকায় এসেছে। বিচারপতি নাঈমা হায়দারের নেতৃত্বে এবং বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ এর শুনানি করবেন।
সোমবারের কার্যতালিকা অনুযায়ী ২৮ মার্চ, সোমবার বেলা দুটা থেকে বিকেল সোয়া চারটা পর্যন্ত একত্রে বৃহত্তর বেঞ্চে বসবেন তিন বিচারপতি এবং শুনানির জন্য রিট পিটিশন নং ১৪৩৪/১৯৮৮ গ্রহণ করবেন। এর আগে ২৮ বছর পর এই আবেদন শুনানির জন্য গত ২৯ ফেব্রুয়ারি উত্থাপিত হলে শুনানির জন্য ২৭ মার্চ দিন ধার্য করেন আদালত। পরে তা পরিবর্তন করে ২৮ মার্চ করা হয়। উল্লেখ্য, ২৮ বছর আগে ১৫ বিশিষ্টজনের করা একটি রিট আবেদনের ২৩ বছর পর রুলটি জারি করা হয়। আর রুল জারির প্রায় ৫ বছর পর শুনানির দিন ধার্য হয়।
এরপর থেকেই একটু একটু করে সংগঠিত হতে শুরু করে জামায়াত ইসলাম, হেফাজতে ইসলামসহ আরও বেশকিছু ইসলামী সংগঠন। তাদের দাবি, রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলাম পরিবর্তন করা যাবে না। এ ধরনের কোনও রিট শুনানিরও প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন তারা। এরই মধ্যে গত শুক্রবার রাজপথে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে হেফাজত।
হেফাজতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, রাষ্ট্রধর্ম বিষয়ক রিটটি যেন জনস্বার্থে ও সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতি ও চেতনার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে খারিজ করে দেওয়া হয়। এটা নিয়ে কাউকে পানি ঘোলা করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলে সুযোগ করে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রধর্ম ইস্যুতে হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার পর দেশের শীর্ষ ওলামা-মাশায়েখদের সঙ্গে পরামর্শ করে আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবো।
১৯৮৮ সালের ৫ জুন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীতে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম জাতীয় সংসদে পাস করা হয়। সংশোধনীতে ২(এ) সংযুক্ত করে বলা হয়- ‘রাষ্ট্রধর্ম হবে ইসলাম, তবে অন্যান্য ধর্মও প্রজাতন্ত্রে শান্তিতে পালন করা যাবে।’
একই বছরের ৯ জুন রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের মধ্য দিয়ে এটা আইনে পরিণত হয়, যা সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী নামে পরিচিত। ওই বছরের আগস্টে স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটির পক্ষে সাবেক প্রধান বিচারপতি কামালউদ্দিন হোসেনসহ দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। দীর্ঘ ২৩ বছর পর ২০১১ সালের ৮ জুন হাইকোর্টে একই বিষয়ে ফের সম্পূরক আরও একটি আবেদন করে রিটের শুনানির আবেদন করা হয়। পরে ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রুল জারি করেন। সোমবার এই রুলের শুনানি শুরু হবে।
ওইদিন রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী এ কে এম জগলুল হায়দার আফ্রিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কাল শুনানি শুরু হবে এবং যেহেতু এর আগে হাইকোর্ট ১৪ জন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগের আদেশটি প্রত্যাহার করেছেন, নতুন অ্যামিকাস কিউরির সংক্ষিপ্ত তালিকা হতে পারে।
জামায়াতের হরতাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি এখনও হরতালের বিষয়ে শুনিনি, তবে হরতালেও আদালতের কার্যক্রম চলে।
/ইউআই/এজে/








