রাষ্ট্রপতির ছবি নামিয়ে ফেলার মৌখিক নির্দেশ কেন দরকার পড়লো

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৭ আগস্ট ২০২৫, ২২:০০আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৫, ২২:০০

বিদেশে বাংলাদেশের মোট ৮২টি দূতাবাস (মিশন) রয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্টের পর প্রায় ৭০টি দূতাবাস থেকে সব ছবি সরিয়ে ফেলা হয়। বাকি ১২টি দূতাবাস থেকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ছবি সরিয়ে ফেলার জন্য গত শুক্রবার (১৫ আগস্ট) নির্দেশ দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে ওইসব দূতাবাস থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ছবি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি অফিসেও রাষ্ট্রপতির ছবি প্রদর্শনের জন্য রাখা হচ্ছে না। এ জন্য বিদেশি মিশন থেকেও তার ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।’

৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের বিভিন্ন অফিসেও ছবি সরিয়ে ফেলা হয়। একইসঙ্গে বিদেশে বাংলাদেশ মিশন থেকেও ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে তিনি জানান।

তবে ছবি প্রদর্শন ও নামানো নিয়ে মৌখিক নির্দেশের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সাবেক রাষ্ট্রদূতরা। তাদের মতে, বিষয়টি আইনিভাবে করা সম্ভব ছিল এবং এটি নিয়ে জটিলতা তৈরির কোনও প্রয়োজন ছিল না।

সাবেক একজন কূটনীতিক  এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি অফিসে প্রদর্শনের বিষয়ে কেবিনেটের একটি সিদ্ধান্ত আছে। বিষয়টিকে যদি আইনিভাবে দেখা হয়, তবে কেবিনেটের একটি সিদ্ধান্ত আরেকটি কেবিনেটের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বদলানো সম্ভব ছিল।’

গত এক বছরে অনেকবার উপদেষ্টা পরিষদের সভা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার ইচ্ছা করলেই ছবি প্রদর্শন সংক্রান্ত পুরোনো কেবিনেটের সিদ্ধান্ত বাদ দিয়ে নতুন নির্দেশনা দিতে পারতো। কিন্তু এখানে মৌখিক নির্দেশের মাধ্যমে বিষয়টিকে বেশি জটিল করে ফেলা হয়েছে।’

রাষ্ট্রদূতের আইনি বৈধতা

যেকোনও দেশে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি এবং তার দেওয়া নির্দেশ অনুযায়ী রাষ্ট্রদূতকে একটি আইনি বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়। এখন রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান করে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে—সেটি রাষ্ট্রদূতের আইনি ক্ষমতাকে খাটো করে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে সাবেক একজন কূটনীতিক বলেন, ‘এক বছর পরে কেন এই মৌখিক সিদ্ধান্ত দেওয়ার দরকার পড়লো, সেটি বোধগম্য নয়। তবে সরকার যদি সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে, কারও ছবি টানানো হবে না—তবে সেটিতে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান করার জন্য যদি এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে রাষ্ট্রদূতদের জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সচিব বা অন্য কোনও কর্মকর্তার পদায়নের বিষয়ে রাষ্ট্রপতির করণীয় কিছু থাকে না। কিন্তু রাষ্ট্রদূতের নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি এবং এর একটি আইনি ভিত্তি আছে। ফলে রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান করে কাজ করলে—সেটি রাষ্ট্রদূতদের জন্য ভালো হওয়ার কথা নয়।’

আইনি কাঠামো

মূলত, রাষ্ট্র পরিচালিত হয় আইনি কাঠামোর মাধ্যমে। জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে সরকারি অফিসে কার ছবি প্রদর্শন করা হবে, সেটিও একটি আইনি কাঠামোর মাধ্যমে নির্ধারিত হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে সাংবিধানিক ও রাষ্ট্র পরিচালনা সংক্রান্ত আইন ও নিয়ম ভালো বোঝেন—এমন বিশেষজ্ঞরা সরকারকে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

এ বিষয়ে আরেক সাবেক কূটনীতিক বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে মনে হচ্ছে, সেটির ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। গত বছরের ৫ আগস্টের পরই ছবি প্রদর্শন সংক্রান্ত একটি সরকারি সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি ছিল। কারণ, এর একটি মনস্তাত্ত্বিক গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু এক বছর পরে মৌখিক নির্দেশের মাধ্যমে এটি করার কারণে মনে হচ্ছে—কেউ আইনি কাঠামো নিয়ে চিন্তা করছেন না বা গুরুত্ব দিচ্ছেন না।’

/এপিএইচ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের বিজয়ে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন
কুয়েতে ড্রোন হামলায় চার বাংলাদেশি আহত
জর্ডানে ‘সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা’ গুজব: দূতাবাস  
সর্বশেষ খবর
বিচার বিলম্বে যত নাটকীয় চেষ্টা সোহেল ও তার স্ত্রীর
রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলাবিচার বিলম্বে যত নাটকীয় চেষ্টা সোহেল ও তার স্ত্রীর
আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর কারণ জানালো তদন্ত কমিটি
আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর কারণ জানালো তদন্ত কমিটি
নিউ জিল্যান্ডের চার এমপির ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা
নিউ জিল্যান্ডের চার এমপির ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা
হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি
হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের