রাজধানীর মৌচাক-মগবাজার ফ্লাইওভারের আংশিক উদ্বোধনের পর বাস্তবায়নকারী সংস্থা এলজিইডি ঘোষণা দিয়েছে বাকি অংশ দুই ধাপে আগামী ডিসেম্বর মধ্যে শেষ হবে। যদিও তিন দফা সময় বাড়ানোর পর প্রকল্পটির সর্বশেষ মেয়াদ নির্ধারিত রয়েছে আগামী বছর জুন পর্যন্ত। বারবার সময় বাড়ানোর পরও যেখানে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটি সম্পন্ন করা যায়নি, সেখানে ছয় মাস আগে কিভাবে শেষ হবে তা নিয়ে সন্দিহান নির্মাণ বিশেষজ্ঞরা।
জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে ২০১৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি এই ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ঘোষণা অনুযায়ী পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে অর্থাৎ ২০১৫ সালের মধ্যে এই কাজ শেষ করার কথা ছিল। তখন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
কিন্তু ঠিকাদার ও তত্ত্বাবধায়ক প্রতিষ্ঠানের কারণে তিন দফায় সময় বাড়ানো হয়। সর্বশেষ ২০১৭ সালের জুনের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা বলছেন দায়িত্বশীলরা। মেয়াদ বাড়ার পাশাপাশি প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৫৮ শতাংশ বাড়িয়ে এক হাজার ২১৯ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
ভারতের সিমপ্লেক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড ও বাংলাদেশের নাভানার যৌথ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠান ‘সিমপ্লেক্স-নাভানা জেভি’ এবং চীনা প্রতিষ্ঠান দ্য নাম্বার ফোর মেটালার্জিক্যাল কনস্ট্রাকশন ওভারসিজ কোম্পানি (এমসিসিসি) ও তমা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড ফ্লাইওভার নির্মাণ করছে। এর মধ্যে সিমপ্লেক্স-নাভানার উদ্যোগে রমনা-তেজগাঁও অংশে ২.১১ কিলোমিটারের কাজ শেষে বুধবার উদ্বোধন হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ২১৩ কোটি টাকা। বাকি ৬ কিলোমিটার অংশের কাজ চলছে ঢিমেতালে। এ কারণে ওইসব সড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বক্তৃতাকালে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে ফ্লাইওভারের বাকি দু’টি অংশের কাজ শেষ করার কথা বলেন। এরপর ফ্লাইওভার প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) ও এলজিইডি’র প্রকৌশলী নাজমুল আলম বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, তিন ধাপে ফ্লাইওভারের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলামোটর থেকে মৌচাক অংশ আগামী জুনে খুলে দেওয়া হবে। আর রামপুরা থেকে মৌচাক হয়ে শান্তিনগর অংশ ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে খুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
যোগাযোগ করা হলে রাজউকের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ও পরিকল্পনাবিদ মো. এমদাদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আজ যে অংশটা চালু হল সেটা উত্তর থেকে দক্ষিণে সোজাসুজি গেছে। এ কারণে এটা খুব একটা জটিল ছিল না। জটিল হচ্ছে বাংলা মটর ও রামপুরা থেকে মৌচাক হয়ে মালিবাগ পর্যন্ত কাজ। এ দু’টি অংশে অনেক বাঁক রয়েছে। তাই মোটামুটি জটিলই হবে এ দু’টি অংশের কাজ শেষ করা। ভালভাবে কাজটি করতে সময় লাগবে। আর এ কাজে সময় দেওয়াও উচিত। তাড়াহুড়া করলে কোয়ালিটি ভাল নাও থাকতে পারে।
সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের এক ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কাউকে খুশি করার জন্য নির্ধারিত সময়ের আগে কাজ শেষ করার কথা বললেই হবে না। ভালভাবে কাজ করতে গিয়ে যদি সময় একটু বেশি লাগে সেটাই ভাল। তিনি বলেন,ফ্লাইওভারের বাকি অংশের অ্যালাইনমেন্টের যে অবস্থা তাতে ডিসেম্বর কেন আগামী বছরও কাজ শেষ হবে কিনা সন্দেহ রয়েছে।
জানা গেছে, সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ওএফআইডি) এই প্রকল্পের জন্য প্রথমে ৫৭২ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দেয়। পরে ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে করা হয় ৭৭৬ কোটি টাকা। অন্যদিকে প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নের পরিমাণ ছিল ২০০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। সময় মত কাজ শেষ না হওয়ায় এই বরাদ্দ ৪৪২ কোটি ৭৩ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে।
আট কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের চার লেনের এ ফ্লাইওভারে ওঠা-নামার জন্য লুপ বা র্যাম্প রাখা হয়েছে আটটি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা, সোনারগাঁও হোটেল, মগবাজার, রমনা (হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল সংলগ্ন রাস্তা), বাংলামোটর, মালিবাগ, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস ও শান্তিনগর মোড়।
ওএফ/ এমএসএম








