চেকপোস্ট: তল্লাশির নামে হয়রানি

জাকিয়া আহমেদ
৩১ মার্চ ২০১৬, ১৬:২০আপডেট : ৩১ মার্চ ২০১৬, ১৬:৩০

চেকপেস্ট দেশের বিভিন্ন এলাকায় চেকপোস্টে তল্লাশির নামে পুলিশি হয়রানির অভিযোগ নতুন নয়। বিশেষ করে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ফেরার পথে চট্টগ্রামে প্রবেশের আগে চেকপোস্টে তল্লাশির সময় মানুষ হয়রানির শিকার হয় বেশি। পুলিশ কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিতে কনস্টেবল বা তাদের সমমানের যারা সেখানে কাজ করেন, তারা অনেক সময় উদ্দেশ্যমূলকভাবেও যাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন বলে অভিযোগ আছে।
একটি ফেসবুক পোস্ট। পোস্টের সূত্র ধরে পোস্টদাতার সঙ্গে যোগাযোগ। পোস্টে আগেই লিখেছেন আদ্যপান্ত। বাংলা ট্রিবিউনকে জানালেন আরও বিস্তারিত। জানালেন, কীভাবে তল্লাসির নামে চেকপোস্টে হয়রানি করা হয়, করা হয় অসৌজন্যমূলক প্রশ্ন, বিব্রত করা হয় নানাভাবে।
সোহানী আক্তার অ্যানী, ঢাকায় ফিরে হয়রানির প্রতিকার চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন। এরপরই তার পোস্টে নানাজন তাদের হয়রানির অভিজ্ঞতা লিখতে থাকেন। একই সঙ্গে চেকিংয়ের নামে হয়রানি থেকে প্রতিকার চান তারা। অ্যানী লিখেছেন, কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ফিরতে চট্টগ্রাম নগরীর প্রবেশ দ্বারে পুলিশের চেকিংয়ে হয়রানির শিকার অনেকেই হয়। কিছুদিন আগে আমি ও আমার হাজবেন্ড কক্সবাজার বেড়াতে যাই। ফেরার সময় চট্টগ্রাম পুলিশ আমাদের গাড়ি থামিয়ে চেকিং শুরু করে। এক পর্যায়ে আমাদের বিয়ের কাবিননামা দেখতে চায়। আপনারা বলুন, কাবিননামা কি সঙ্গে নিয়ে ঘোরে মানুষ? অবশেষে আমার ভাই স্কাইপের মাধ্যমে পুলিশকে আমাদের কাবিননামা দেখায়। এরপর নানা প্রশ্ন। তারা আমাদের দুই ঘণ্টা সময় নষ্ট করেছে, যেটা কারও কাম্য নয়। তাদের ব্যবহার দেখে অবাক- মাধুর্য্য নাই ব্যবহারে। বিষয়টা আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাচ্ছি।
ফেসবুক পোস্ট একই ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছিলেন তথ্য প্রযুক্তি জগতের মানুষ আল আমিন কবির। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমি আর আমার বন্ধু ফিরছিলাম কক্সবাজার থেকে। আমার বন্ধু শুঁটকি মাছসহ বাচ্চাদের জন্য কেনাকাটা করেছেন। বাস যখন চট্টগ্রামের প্রবেশমুখে, তখন পুলিশ চেকপোস্ট। রাত তখন ২টা বা ৩টা। সবাইকে বাস থেকে নামানো হলো। সবার ব্যাগ তছনছ করা হলো চেকিংয়ের নামে। খুবই উল্টা-পাল্টা প্রশ্ন, সুস্থ স্বাভাবিক দুজন মানুষ আমরা, আমাদের জিজ্ঞাসা করতে লাগলো ইয়াবা খাই নাকি, এই খাই নাকি, সেই খাই নাকি। জিজ্ঞেস করা হলো, কক্সবাজার কেন গিয়েছি। সঙ্গে এতো ব্যাগ কেন ইত্যাদি নানান অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন। আমরা প্রচণ্ড অপমানিত বোধ করেছি, তবুও ঠাণ্ডা মাথায় তাদের সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি আমরা। যখন কিছুতেই তারা আমাদের ঝামেলায় ফেলতে পারছিল না, তখন বললো যান। তছনছ করা ব্যাগ গুছিয়ে যখন বাসে উঠবো তখন আমাদের ব্যাগ থেকে এক প্যাকেট চকলেট বা বিস্কুট রেখে দিয়েছিল।
সেই একই চেকপোস্টে একই পুলিশ এখনও মানুষকে প্রতিনিয়ত হয়রানি করেই যাচ্ছে। বিষয়টি ওপেন সিক্রেট। কিন্তু এর কোনও সমাধান হচ্ছে না।
হয়রানি থেকে রেহাই পেতে কী করা উচিত- জানতে চাইলে আল আমিন কবির বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাইলডজ বিভাগ যেগুলো আছে, যেমন – আর্মড পুলিশ ব্যাটেলিয়ান বা টুরিস্ট পুলিশের যেমন ফেসবুক পেজ রয়েছে এবং তারা বেশ সক্রিয়, যেখানে কোনও অভিযোগ দিলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুলিশেরও যদি এরকম ব্যবস্থা থাকতো, তাহলে মানুষ অভিযোগের একটা জায়গা পেত। পুলিশ বাহিনী যদি সাধারণ মানুষের কাছাকাছি গিয়ে তাদের সাহায্য করতে চায়, তাহলে এই ধরণের একটা পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। ফেসবুক পোস্ট
চেকপোস্টে বিরূপ অভিজ্ঞতা রয়েছে রাকিব হাসানেরও। রাকিব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ফিরছিলাম। ভোররাত থেকে মোট তিনটি চেক পোস্টে চেক করা হয় আমাদের। শেষ চেক পোস্টে আমাদের কাউকে কিছু না বলেই পুলিশের সঙ্গে থাকা একজন হঠাৎ করে বাসের লাগেজ বক্স থেকে আমার ব্যাগ বের করে চেক করা শুরু করে। তারপর আমাকে ডেকে নামানো হয়। তারা ইচ্ছামতো ব্যাগ খুলছিল আর ট্যাগের নম্বর দেখে দেখে সবাইকে ডাকছিল।
আমার ব্যাগটিকে তারা পুরো উল্টে-পাল্টে দেখে শেষে আমার ক্যামেরার চার্জার নিয়ে সন্দেহ করে। তারপর অনেক কথার শেষে আমাদের ছেড়ে দেয়। তবে এসব উটকো ঝামেলা থেকে বাঁচতে এবং নিজেদের সম্মান বাঁচাতে রাকিব হাসান বলেন, নিজেদের সম্মান বাঁচাতেই দম্পতিরা যেন তাদের কাবিননামার ফটোকপি সঙ্গে নিয়ে যায়। এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র এবং অন্যান্য দরকারি জিনিসপত্রও সঙ্গে নিতে হবে। নয়তো মানুষের মান-সম্মান নিয়ে ওখান থেকে ফেরাটা খুব কঠিন হয়ে যাবে।
চেকপোস্টে চেকিংয়ের নামে হয়রানি করা হচ্ছে যাত্রীদের- এমন অভিযোগ জানালে হাইওয়ে পুলিশে ডিআইজি মল্লিক ফখরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, চেকিং নিয়ে যে হয়রানি হয়, এমন কোনও অভিযোগ আমরা এখনও পাইনি। আর আমাদের যারা পুলিশ সদস্য রয়েছেন তাদের নির্দেশনা দেওয়া আছে, চেকিংয়ের সময় যেন ভদ্রতা সহকারে এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে গাড়ি তল্লাশি করা হয়।
কক্সবাজার থেকে মাঝে মাঝেই বিভিন্ন ইনফরমেশনের ভিত্তিতে বিভিন্ন ইউনিট ইয়াবা উদ্ধার করে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে। আমরাও চেকপোস্টে বলে দিয়েছি, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই যেন তল্লাশি করা হয়, কাউকে যেন হয়রানি না করা হয় সে বিষয়ে আমরা কঠোরভাবে নির্দেশনা দিয়ে রেখেছি।
/এজে/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম