ভূমধ্যসাগর পাড়ি অবৈধভাবে ইতালি যাওয়া বাংলাদেশিদের সংখ্যা কমছেই না। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন ইতালির প্রতিরক্ষাবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি (প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী) মাত্তেও পেরেগো ডি ক্রেমনাগো।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ উদ্বেগের কথা জানান।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় হওয়া এই সাক্ষাৎকালে দুই নেতা বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, অভিবাসন, আসন্ন ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ এবং জুলাই সনদ সহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন।
ইতালির উপমন্ত্রী প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশি সম্প্রদায় ইতালিতে ভালোভাবে অন্তর্ভুক্তি হচ্ছে। তবে ভূমধ্যসাগরীয় পথে অবৈধ অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।” তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং জুলাই সনদের প্রতি ইতালির পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেন।
জুলাই সনদের প্রশংসা করে সফররত মন্ত্রী বলেন, “ইতালি ব্যাপক সংস্কারকে সমর্থন করে।” তিনি ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে রোমের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। পেরেগো ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলকে বৈশ্বিক মাধ্যাকর্ষণের নতুন কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, “ইতালি বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিসহ এই অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চায়।”
প্রধান উপদেষ্টা ইতালির সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বলেন, “বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি এবারের মিলানো-কর্টিনা শীতকালীন অলিম্পিককে সামাজিক ব্যবসায়িক ইভেন্ট হিসেবে ডিজাইন করতে সহায়তা করেছিলেন।”
ড. ইউনূস জাপান ও ইতালির মতো উন্নত দেশগুলোতে বৈধ অভিবাসন সম্প্রসারণের গুরুত্বের উপর জোর দেন, যেখানে বয়স্কদের সংখ্যা বাড়ছে। প্রধান উপদেষ্টা ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ এবং উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের একটি বড় দল মোতায়েনের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহযোগিতা জোরদারে ইতালির সমর্থন কামনা করেন।









