এমন সরকার বাংলাদেশে আগে কখনও আসেনি বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, আমরা এনজিওগুলোর মতো নাকি রাজনৈতিক সরকারের মতো কাজ করছি তা বুঝতে পারছি না। এটা কী ধরনের সরকার তা এখনও নির্দিষ্ট নয়।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর কাওরান বাজারে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড মিলনায়তনে ‘অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও পরবর্তী সরকারের চ্যালেঞ্জ’ শিরোনামে সেমিনার ও ইআরএফ শিক্ষাবৃত্তি অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থান না হলেও ব্যাংকে ধস নামতো, রেমিট্যান্স কমতো। ফলে এক সময় সরকার ভেঙে পড়তো। সার্বিকভাবে যদি মনে করি, তাহলে একটা স্থিতিশীল অবস্থায় দাঁড়ানোর লক্ষণ দেখছি, কিন্তু অনেক অনিশ্চয়তাও আছে। তবে ঘুরে দাঁড়ানোর কিছু কিন্তু লক্ষণ আছে। এবার জিডিপি কিছু বাড়ছে। শিল্পের কাঁচামালের প্রবৃদ্ধি ভালো। বৈদেশিক লেনদেন স্থিতিশীল রয়েছে।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, যতটুকু মূল্যস্ফীতি কমার দরকার তা কমেনি। তবে কিছুটা কমছে। মূল্যস্ফীতির মতো মজুরিও বেড়েছে। এটা ভালো দিক। ৭ শতাংশ মূল্যস্ফীতির কোনও তাৎপর্য নেই। আমার নিজের মতো একটা সময় এসেছে, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ গত বছর কম ছিল। এবার আরও কমে গেছে। কাজেই মূল্যস্ফীতি এমনিতেই কমে যাবে।
ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, প্রশাসনকে আরও দক্ষ হতে হবে, এটা বড় চ্যালেঞ্জ। শিক্ষিত বেকারের সমস্যা রয়েছে। তরুণদের নিরাশা, যুবসমাজের বিপর্যয় হওয়া এতে আমাদের অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। এখন যারা নতুন ভোটার, তারাই পরবর্তী ভবিষ্যৎ। বর্তমান সরকার অন্তর্বতী সরকার হোক বা এনজিও সরকার হোক এই সমস্যা এক বছরে সব সমাধান হবে না। আগামী নির্বাচিত সরকারের কাছে অনেক চ্যালেঞ্জ থেকে যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক দলের জানা উচিত দেশের অর্থনীতি কেমন আছে। দেশের বিনিয়োগ কেমন হয়েছে। আইএমএ’র অনেক সুপারিশ আমরা নিয়েছি। হয়রানি ও চাঁদাবাজি হচ্ছে। বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। ইন্টেরিয়াম এনজিও দিয়ে দেশ চালাতে পারে না। এলপিজি নেই, এলএনজি নেই। কোনও পলিসিগত কাজ করেনি। তারা প্রাইভেট কোম্পানির সঙ্গে কাজ করেনি তাই এনজিও দিয়ে কি দেশ চলবে?
এ সময় অর্থ ও বাণিজ্যবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি দৌলত আকতার মালা, সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।









