ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে চলছে সরকারি ছুটি। তবে, এই ছুটির মধ্যেও ব্যস্ত সময় পার করছে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা। নতুন সরকার গঠন, মন্ত্রিসভার শপথ ও মন্ত্রীদের জন্য দাফতরিক গাড়ি প্রস্তুতসহ আনুষঙ্গিক সব আয়োজনে ব্যস্ত সময় পার করছে সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোর কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর পরই ব্যস্ত হয়ে উঠবে রাষ্ট্রপতির দফতর বঙ্গভবন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সরকারি পরিবহন পুল কর্মকর্তারা। নির্বাচন কমিশন থেকে এমপিদের গেজেট হওয়ার পর শুরু হবে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকবে বঙ্গভবন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সরকারি পরিবহন পুল।
নতুন সরকারের শপথের দিনটি কবে হতে পারে তা নিশ্চিত করতে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, “সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৭ কিংবা ১৮ ফেব্রুয়ারি শপথ নেবেন নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা।”
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মূলত চার কারণে ব্যস্ত সময় পার করছে সরকারের কেবিনেট ডিভিশন।
প্রথমত, নির্বাচনের পরপরই নির্বাচন কমিশন থেকে ভোটের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পর নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ উপলক্ষে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য পৃথক ফাইল তৈরি করতে হচ্ছে। ছুটির দিনে সে কাজটি এগিয়ে রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বিজয়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতার কাছ থেকে মন্ত্রী হওয়ার জন্য নির্বাচিতদের নামের তালিকা পাঠানো হবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে। সে অনুযায়ী ফাইল তৈরি করা হবে এবং তা বঙ্গভবনে পাঠানো হবে। বঙ্গভবনে নতুন সরকারের শপথ পড়ানোর অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব শেখ আব্দুর রশিদ।
দ্বিতীয়ত, সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও নতুন মন্ত্রীদের জন্য সরকারি পরিবহন পুলে গাড়ি ধুয়ে-মুছে প্রস্তুত করে রাখা হচ্ছে। সব গাড়ি তো পরিবহন পুলে নাই। কিছু গাড়ি এখনও উপদেষ্টারা ব্যবহার করছেন। তারা সেসব গাড়ি পরিবহন পুলে জমা দেওয়ার পর সেগুলো যুক্ত হবে নতুন মন্ত্রীদের জন্য রাখা গাড়ির বহরে। আপাতত ৫০টি গাড়ি তৈরি রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পরিবহন পুল কমিশনার।
তৃতীয়ত, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণ, শপথ পাঠ ও মন্ত্রীদের দফতর বণ্টন সংক্রান্ত দাফতরিক নথিপত্র তৈরি করার কাজ নিয়ে। এছাড়া নির্বাচনে বিজয়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের কাছ থেকে নতুন মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত সদস্যদের তালিকা পাওয়ার পর তাদের টেলিফোন করে শপথগ্রহণের আমন্ত্রণ সংবাদটি পৌঁছে দেওয়া এবং তাদের শপথগ্রহণের জন্য বঙ্গভবনে নিয়ে যেতে বাসার ঠিকানা জোগাড় করে ঠিকানা মোতাবেক সময়মতো গাড়ি পাঠানোর মতো প্রধান কাজ করতে হয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে।
চতুর্থত, নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী এবং নতুন মন্ত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ, আনসার, বিজিবি, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও এসএসএফ’র সঙ্গে সমন্বয় করে তা নিশ্চিত করার কাজেও ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করতে হচ্ছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে।
উল্লেখ্য, বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী প্রথমেই রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা জেটের প্রধানমন্ত্রীকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। এরপর রাষ্ট্রপতি পর্যায়ক্রমে শপথ পড়াবেন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের। শপথের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দফতর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন যুগ্ম সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “ভোটের পর যেহেতু দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি পড়েছে, তাই কাজগুলো যেন দ্রুত সমাধান হয় সে কারণে ছুটির দিনেই কাজগুলো করছি।”
বিদ্যমান ব্যস্ততা এবং করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব শেখ আব্দুর রশিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “এটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি নিয়মিত কাজ। এ কাজ করার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রস্তুত থাকে সব সময়ের জন্য। সাংবিধানিক অনেক কিছুরই বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এগুলো মেনেই নতুন মন্ত্রিপরিষদের শপথগ্রহণের কাজগুলো এগিয়ে রাখার চেষ্টা করছি মাত্র। এ ক্ষেত্রে বঙ্গবভনেরও অনেক কাজ রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বঙ্গভবনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ এগোচ্ছে।”
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করানোর জন্য বঙ্গভবন থেকেও প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। বঙ্গভবনের দরবার হল প্রস্তুত করা হচ্ছে। আনুষঙ্গিক কাজগুলোও চলছে একসঙ্গে। তবে, এর আগে জাতীয় সংসদ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কিছু সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে এমপিদের শপথগ্রহণ। এমপিদের শপথগ্রহণের পর তাদের বিজয়ী দলের সংসদীয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত করা। ওই সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা নির্বাচিত করা, যিনি হবেন নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী।









