নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, নদীরও প্রাণ আছে। এ নদীকে যারা দূষণ ও দখল করে তারা দেশের শত্রু। নদীকে যারা হত্যা করছে তারাও এক ধরণের রাজাকার। তারাও একই দোষে দোষী। এ নব্য রাজাকারদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।
জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বুড়িগঙ্গা রিভারকিপার আয়োজিত ‘বেপরোয়া দখলে বিপর্যস্ত আদি বুড়িগঙ্গা নদী ও এর ভবিষ্যত’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
শাজাহান খান বলেন, কলকারখানার বর্জ্যের ১শ’ ভাগের মধ্যে ৬০ ভাগই নদীকে দূষিত করছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই ট্যানারি। এ কারণে দূষণের উৎসমুখগুলো বন্ধ করার ব্যবস্থা করতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। গাবতলীতে স্থাপনা সরিয়ে কোটি কোটি টাকা খরচ করে ওয়াকওয়ে ও বনায়ন করা হয়েছে। অথচ সেখানে ব্যবসায়ীরা ইট-বালু ফেলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, আরেকটি সমস্যা হচ্ছে নদী দখলের জন্য মসজিদ তৈরি করা হয়। তার পাশে আবার যারা নদী দখল করেন তারা নিজেদের বাড়ি তৈরি করেন। এদের কিছু বলা যায় না। কারণ প্রতিক্রিয়ায় হেফাজতের হুজুর কিছু বলে বসবেন। দেশের নদীগুলোর দু’পাড় দখল করে ৪০টি মসজিদ তৈরি করা হয়েছে। বুড়িগঙ্গা দখল করে সেখানে মসজিদ তৈরি করা হয়েছে। আমি নামাজ পড়ি। আমি মুসলমান। আমি আলেম সমাজের কাছে প্রশ্ন রাখি- দখল করা জায়গায় নামাজ পড়া কি সোয়াবের কাজ?
মন্ত্রী বলেন,নদীর সীমানা পিলার নিয়ে সমস্যা রয়েছে। আবার জরিপ চালানো হচ্ছে। তারপর সীমানা পিলার করা হবে। ঢাকায় ৪৬টি ছোট বড় খাল রয়েছে। এ খালগুলো দখলমুক্ত করবো। ইতোমধ্যে দুটো খাল দখলমুক্ত করা হয়েছে।
আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুড়িগঙ্গা রিভারকিপার ও বাপার যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল। গোলটেবিল বৈঠকে নদী রক্ষায় সরকারি পরিকল্পনা তুলে ধরেন বিআইডব্লিউটি’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ. বাংলাদেশ স্থপতি ইন্সটিটিউটের সাবেক সভাপতি স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন ও বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রমুখ।
/এফএস/এপিএইচ /








