দেশের স্বার্থ এবং জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সব সংসদ সদস্যকে জনমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, “বাজেট হেল্পডেস্ক সংসদ সদস্যদের বাজেট সম্পর্কিত গবেষণামূলক তথ্য ও উপাত্ত সরবরাহের মাধ্যমে সংসদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সহায়তা করবে।”
বুধবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথকক্ষে বাজেট হেল্পডেস্ক-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি, বিরোধী দলের নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলার এবং অর্থবিভাগের সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, “১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের প্রয়াত অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান কর্তৃক মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রবর্তন ছিল একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বাজেট সবার জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করে। দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।”
স্পিকার বলেন, “দেশের স্বার্থ এবং জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সব সংসদ সদস্যকে জনমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।”
স্পিকার বলেন, “ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনৈতিক সহায়তায় এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের কারিগরি সহায়তায় সংসদের বাজেট এনালাইসিস অ্যান্ড মনিটরিং ইউনিটের তত্ত্বাবধানে বাজেট হেল্পডেস্ক সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনায় গুনগত মানোন্নয়নে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।”
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জাতির ভবিষ্যত প্রত্যাশা পূরণে বাজেট হেল্পডেস্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। বাজেটে অর্থ সংস্থানের তিনটি উৎসের মধ্যে জনগণ কর্তৃক প্রদত্ত কর, দেশি ও বিদেশি ঋণ এবং বিদেশ হতে প্রাপ্ত বৈদেশিক অনুদানের মধ্যে সমন্বয় করতে হয়। এই অর্থের মালিকানা জনগণের।”
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “বাজেটের আকার গুরুত্বপূর্ণ নয়। বাজেট বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ হলো স্বচ্ছতার অভাব। বাজেটের অর্থ যেন ব্যক্তি বিশেষের উন্নয়নে ব্যয় না হয়ে জনকল্যাণে ব্যয় হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।”
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, “জাতীয় বাজেটকে মাত্র আয়-ব্যয়ের হিসাব হিসেবে দেখলে চলবে না। একটি বাজেট দেশের উন্নয়ন দর্শন, রাষ্ট্র পরিচালনার অগ্রাধিকার এবং জনগণের ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার প্রতিফলন। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং জাতীয় উন্নয়নের রূপরেখা বাস্তবায়নে বাজেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।”
তিনি বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে একটি দেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও সক্ষমতা অনেকাংশে তার অর্থনৈতিক শক্তির ওপর নির্ভরশীল। দক্ষ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, সুশাসন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারলেই একটি দেশ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অর্জন করতে পারে।”
স্পিকার এসময় দেশ ও জাতির অব্যাহত সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে ‘বাজেট হেল্পডেস্ক-২০২৬’ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, হুইপ ও সংসদ সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।









