মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, দেশে মাছের চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। পাশাপাশি দেশে স্বাদু পানিতে মাছ উৎপাদনের পরিমাণ বর্তমানে ৪৫ দশমিক ৪৩ লাখ মেট্রিক টন।
রবিবার (২১ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১১তম দিনে সংসদে বিভিন্ন এমপির তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী দেশে মাথাপিছু দৈনিক ৬০ গ্রাম মাছের চাহিদা ধরে বার্ষিক চাহিদা দাঁড়ায় ৩৮ দশমিক ০৯ লাখ মেট্রিক টন। অথচ একই সময়ে দেশে মোট মাছ উৎপাদন হয়েছে ৫১ দশমিক ১১ লাখ মেট্রিক টন। ফলে দেশে বর্তমানে মাছের কোনো ঘাটতি নেই।
তিনি আরও জানান, ওই অর্থবছরে মোট মৎস্য উৎপাদনের তুলনায় আমদানিকৃত মাছের পরিমাণ মাত্র প্রায় ১ শতাংশ। এ সময়ে বিভিন্ন প্রজাতির ৫৫ হাজার ৫৪ মেট্রিক টন মাছ আমদানি করা হয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৪৭৫ কোটি টাকা।
মন্ত্রী বলেন, সাধারণ ভোক্তার চাহিদা পূরণে দেশে মাছের ঘাটতি নেই। তবে বিশেষ ভোক্তা গোষ্ঠীর রুচি ও চাহিদা পূরণের জন্য সীমিত পরিসরে কিছু নির্দিষ্ট প্রজাতির মাছ আমদানি করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে টুনা, হেরিং ফিশ, রুপচাদা, ম্যাকেরেল, ছুরি, স্ন্যাপার, কিং ফিশ, স্কুইড ও অক্টোপাসসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রজাতি।
স্বাদু পানির মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ বিষয়ে তিনি বলেন, মৎস্য অধিদপ্তর বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে আইন ও নীতিমালার যথাযথ প্রয়োগ, জলজ পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দূষণ নিয়ন্ত্রণ।
তিনি আরও জানান, মাছের প্রজনন ক্ষেত্র, আবাসস্থল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিয়মিত জরিপ, গবেষণা এবং পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সরকার গৃহীত খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে খাল, বিল ও উন্মুক্ত জলাশয়ের নাব্যতা বাড়বে এবং জলজ পরিবেশে দূষণ কমবে।
তবে মন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, স্বাদু পানির মৎস্যসম্পদ রক্ষায় শুধু মৎস্য অধিদপ্তরের ভূমিকা যথেষ্ট নয়। শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণে শিল্প মন্ত্রণালয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, শিল্পকারখানায় কার্যকর ইটিপি স্থাপন ও তা নিয়মিত চালু রাখা জরুরি, নতুবা স্বাদু পানির মৎস্যসম্পদ রক্ষা কঠিন হয়ে পড়বে।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত উদ্যোগ ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের মৎস্য খাত আরও সমৃদ্ধ হবে এবং উৎপাদন টেকসইভাবে বৃদ্ধি পাবে।









