দেশের এতিম, দুস্থ ও অবহেলিত শিশুদের সার্বিক সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
শুক্রবার (৩ জুলাই) চট্টগ্রামে মহিলা বিষয়ক অধিদফতর এবং সমাজসেবা অধিদফতর পরিচালিত বিভিন্ন শিশু প্রতিষ্ঠান ও পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিদর্শন, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং শিশুদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি, ক্রীড়াসামগ্রী ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, “সমাজে এতিম ও অসহায় শিশুদের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। তাদের উপযুক্ত শিক্ষা ও আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।” এই লক্ষ্যে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, “দুস্থ নারী, গর্ভবতী ও অসচ্ছল মায়েদের সহায়তার ক্ষেত্রে টার্গেটিং বা উপকারভোগী নির্বাচনে অনিয়ম বন্ধ করতে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রতি মাস বা তিন মাস পর পর তালিকা আপডেট করতে হবে। এখানে কোনও রাজনীতি বা ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য করা যাবে না; এক্ষেত্রে একমাত্র বিবেচ্য বিষয় হবে নারীটি প্রকৃত অর্থেই দুস্থ বা গর্ভবতী কিনা।”
তিনি আরও বলেন, “মহিলা বিষয়ক অধিদফতর কর্তৃক আত্মকর্মসংস্থানের জন্য প্রদত্ত ক্ষুদ্রঋণ পরিশোধের হার ৮২ শতাংশ। নারীদের এই চমৎকার ঋণ পরিশোধের মানসিকতা ও সততার ভূয়সী প্রশংসা করেন মন্ত্রী।” তিনি নারীদের এই ঋণ গ্রহণে উৎসাহিত করার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান।
মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী সকালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে রৌফাবাদ সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা), ছোটমনি নিবাস এবং মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি শিশুদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। এসময় তিনি চারজন মেধাবী শিশুর হাতে মেধাবৃত্তির চেক তুলে দেন।
পরবর্তী সময়ে মন্ত্রী চট্টগ্রামের রাউজানে প্রস্তাবিত ‘শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালক)’-এর নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেন। প্রায় দুই একর জায়গার ওপর এই আধুনিক কেন্দ্রটি গড়ে তোলা হবে বলে তিনি জানান। পরবর্তীকালে মন্ত্রী রাঙ্গুনিয়ার জিয়ানগরে অবস্থিত এতিম ও দুস্থ শিশুদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং কেন্দ্র প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। সেখানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কেন্দ্রের ৪৮তম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থী শিশুদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।
বিকালে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী নগরীর বাকলিয়ায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদফতর, চট্টগ্রাম কর্তৃক পরিচালিত ‘পিভেনশন অব ভায়োলেন্স অ্যান্ড হার্মফুল প্র্যাকটিসেস (পিভিএইচপি) এগেনস্ট চিলড্রেন অ্যান্ড উইমেন ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতাধীন ‘বাস্তুহারা শিশু সুরক্ষা কমিউনিটি হাব’ (স্পেশাল হাব) পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি পথশিশু ও বাস্তুহারা শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান এবং তাদের মাঝে নতুন পোশাক ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেন। এর পাশাপাশি, উপপরিচালকের কার্যালয়, মহিলা বিষয়ক অধিদফতর, চট্টগ্রামের উদ্যোগে ‘জীবীকায়নের জন্য মহিলাদের দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের মাঝে সনদপত্র, নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির মাঝে অনুদানের চেক এবং ১০ জন নারী উদ্যোক্তার মাঝে ক্ষুদ্রঋণের চেক বিতরণ করা হয়।
এসময় চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক এবং সমাজসেবা অধিদফতরের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নিবন্ধিত এনজিও প্রতিনিধি, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।









