নিজেকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র এজেন্ট পরিচয় দিয়ে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো ও তার ঘনিষ্ঠ মহলের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন ব্যবসায়ী গৌরব শ্রীবাস্তব। এই পরিচয়ের জোরেই তিনি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বেশ কয়েকটি প্রাথমিক প্রতিরক্ষা চুক্তি বাগিয়ে নেন, যদিও শেষ পর্যন্ত জালিয়াতি ফাঁস হওয়ায় চুক্তিগুলো বাতিল হয়ে যায়। ওসিসিআরপি এবং ইন্দোনেশীয় গণমাধ্যম টেম্পো’র যৌথ অনুসন্ধানে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
লখনউতে জন্ম ও বেড়ে ওঠা গৌরব বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। ২০২০ সালে প্রাবোও সুবিয়ান্তো যখন ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন, তখন থেকেই গৌরব সে দেশের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী মহলে যোগাযোগ বাড়াতে শুরু করেন। গৌরবের সাবেক ব্যবসায়িক অংশীদার ও ডাচ ব্যবসায়ী নিলস ট্রুস্ট মার্কিন আদালতে গৌরবের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও চাঁদাবাজির মামলা করেছেন। ট্রুস্টের দাবি, গৌরব নিজেকে সিআইএ এজেন্ট দাবি করে প্রভাব খাটাতেন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রাবোওর ওপর থাকা ভিসা নিষেধাজ্ঞা তুলে দিতেও তিনি সাহায্য করেছেন বলে বড়াই করতেন। প্রাবোও তাকে নিজের ‘সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু’ হিসেবে পরিচয় দিতেন।
তবে সাবেক ভারপ্রাপ্ত মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব ক্রিস্টোফার মিলার স্পষ্ট জানিয়েছেন, গৌরব কোনও সরকারি প্রতিনিধি ছিলেন না, বরং তিনি একজন ‘প্রতারক’ যিনি ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করতেন। ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে গৌরবের কোম্পানিগুলো ৩৬টি এফ-১৫ ফাইটার জেট ও ৩০টি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ক্রয়সহ ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঁচটি প্রাথমিক চুক্তি পেয়েছিল।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, অর্বিমো, জেগাসাস ও কনস্টেনটিসের মতো যেসব কোম্পানি এই চুক্তি পেয়েছিল, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের কোনও অভিজ্ঞতাই তাদের ছিল না। এমনকি ইন্দোনেশিয়া যেদিন চুক্তিতে স্বাক্ষর করে, সময়ের ব্যবধানের কারণে ঠিক সেই দিনই যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইমিং রাজ্যে গৌরবের দুটি কোম্পানি প্রথম নিবন্ধিত হয়! পরে কর ফাঁকির কারণে কোম্পানিগুলো বন্ধ হয়ে যায়। পিটি দিরগান্তারা ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ১৫০ মিলিয়ন ডলারের আরেকটি চুক্তিও গৌরবের জালিয়াতি ধরা পড়ার পর বাতিল করা হয়।
প্রতিরক্ষা খাতের বাইরে প্রাবোওর ছোট ভাই হাশিম জোজোহাদিকুসুমোর মালিকানাধীন আরসারি গ্রুপ-এর সঙ্গেও ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলেন গৌরব। সিআইএ-র গোপন অভিযানের কথা বলে আরসারি গ্রুপ থেকে ৫১ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি, যার অর্ধেক টাকা ঘুরিয়ে গৌরব লস অ্যাঞ্জেলেসে ২৫ মিলিয়ন ডলারের একটি বিলাসবহুল প্রাসাদ কিনতে ব্যবহার করেন। সততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় আরসারি গ্রুপ পরবর্তীতে তার সঙ্গে সম্পর্ক চিন্ন করে।
বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ কেন্দ্র এই অর্থ পাচারের বিষয়টি তদন্ত করছে। অন্যদিকে নিজের প্রভাব টিকিয়ে রাখতে গৌরব ২০২২ ও ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে ১ মিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদান দিয়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ন্যান্সি পেলোসির সঙ্গে ছবিও তুলেছিলেন। অবশ্য গৌরব শ্রীবাস্তব তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং অডিও রেকর্ডগুলোকে ‘বানানো’ দাবি করে ট্রুস্টের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ এনেছেন।

শ্রীলঙ্কার কারাগারে বন্দিদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ২৫
খামেনির শোক মিছিলে তেহরানের রাজপথে লাখো মানুষের ঢল
বন্ধুত্ব থেকে বাগযুদ্ধ, আবারও মেলোনিকে কটাক্ষ ট্রাম্পের







