বন্যা-পাহাড়ধসে প্রাণ গেলো ৫৯ জনের, সবচেয়ে বেশি কক্সবাজারে

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৮ জুলাই ২০২৬, ২২:০৭ আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৬, ২২:০৭

অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দেশের সাত জেলায় সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ধসে এখন পর্যন্ত ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু কক্সবাজারেই মারা গেছেন ৩২ জন। তাদের মধ্যে ১৯ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা। দুর্যোগে আরও ৪০ জন আহত হয়েছেন এবং কক্সবাজারে একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

শনিবার (১৮ জুলাই) বিকাল ৪টা পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মাহবুবুর রহমান তুহিন জানান, কক্সবাজারের পর সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে চট্টগ্রামে। জেলাটিতে ১৬ জনের মৃত্যু এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। বান্দরবানে সাত জনের মৃত্যু ও দুজন আহত হয়েছেন। রাঙামাটিতে মারা গেছেন তিনজন এবং মৌলভীবাজারে একজন। খাগড়াছড়িতে প্রাণহানি না হলেও একজন আহত হয়েছেন।

কক্সবাজারে নিহতদের পাশাপাশি ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২০ জন স্থানীয় এবং পাঁচ জন রোহিঙ্গা। সব মিলিয়ে সাত জেলায় আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০ জনে।

মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ—এই সাত জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব জেলার ৫৬টি উপজেলার ৩৭৪টি ইউনিয়ন এবং চারটি পৌরসভা দুর্যোগের কবলে পড়েছে।ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য মোট ৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এর মধ্যে বান্দরবানে ৬৭টি, মৌলভীবাজারে চারটি এবং হবিগঞ্জে দুটি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। শনিবার বিকাল পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে মোট ২৯৮ জন অবস্থান করছিলেন। আশ্রিতদের সবাই মৌলভীবাজারের বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলার মহানগরসহ ১৬টি উপজেলায় আংশিক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। জেলাটির ১৭৬টি ইউনিয়ন বা এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কক্সবাজারের ১০ উপজেলার ৭৫টি ইউনিয়ন, রাঙামাটির নয় উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা এবং বান্দরবানের সাত উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা দুর্যোগের আওতায় এসেছে।

এ ছাড়া খাগড়াছড়ির ৩৬টি ইউনিয়ন, মৌলভীবাজার সদরের পাঁচটি ইউনিয়ন এবং হবিগঞ্জের তিন উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ত্রাণ বরাদ্দ ও বিতরণ

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে নগদ অর্থ, চাল, শুকনো খাবার, শিশু ও গোখাদ্য, ঢেউটিন এবং ঘর নির্মাণে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রামে ৭৫ লাখ টাকা ও এক হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, কক্সবাজারে ৪০ লাখ টাকা ও ৪৫০ মেট্রিক টন চাল এবং রাঙামাটিতে ৩০ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জন্য আলাদাভাবে ২৫ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন করে চাল বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, দেশের ৬৪ জেলার জন্য মোট ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা, ৯ হাজার ৫০ মেট্রিক টন চাল, চার হাজার ২০০ বান্ডিল ঢেউটিন এবং ঘর নির্মাণে এক কোটি ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে এসব বরাদ্দের পুরোটা বন্যাকবলিত সাত জেলার জন্য নয়; সাধারণ দুর্যোগ সহায়তা হিসেবে অন্যান্য জেলাও এর আওতায় রয়েছে।

/জেইউ/ইউএস/
সম্পর্কিত
নেপালে ফের আকস্মিক বন্যা, ভেসে গেলো ঘরবাড়ি-সেতু
৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূকম্পনে কেঁপে উঠলো পানামা, সুনামি সতর্কতা জারি
ত্রাণমন্ত্রীর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ
সর্বশেষ খবর
যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালালে ৯ দেশে আঘাতের হুমকি ইরানের
যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালালে ৯ দেশে আঘাতের হুমকি ইরানের
গর্ব করে বলতে পারি, আমার দলের কোনও কর্মী চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নয়: আইনমন্ত্রী
গর্ব করে বলতে পারি, আমার দলের কোনও কর্মী চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নয়: আইনমন্ত্রী
দিল্লিতে রাবণ বধ করবেন ইয়ামি, বার্তা দেবেন নারীশক্তির
দিল্লিতে রাবণ বধ করবেন ইয়ামি, বার্তা দেবেন নারীশক্তির
জলরাশির গর্জনময় সৌন্দর্যে মুগ্ধতার অনন্য জগৎ ইগুয়াজু জলপ্রপাত
জলরাশির গর্জনময় সৌন্দর্যে মুগ্ধতার অনন্য জগৎ ইগুয়াজু জলপ্রপাত
সর্বাধিক পঠিত
ইশরাকের পদত্যাগের পরই ‘ক্ষমতা’ নিয়ে স্ত্রীর বার্তা
ইশরাকের পদত্যাগের পরই ‘ক্ষমতা’ নিয়ে স্ত্রীর বার্তা
‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক তা চাই না’ মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন এমপি রতন
‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক তা চাই না’ মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন এমপি রতন
চট্টগ্রামে জন্ম, ঢাকায় বসবাস-এমপি হতে ঠাকুরগাঁওয়ে আলীম নিজামী
চট্টগ্রামে জন্ম, ঢাকায় বসবাস-এমপি হতে ঠাকুরগাঁওয়ে আলীম নিজামী
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রসঙ্গে যা বললেন জামায়াত আমির
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রসঙ্গে যা বললেন জামায়াত আমির
বাবার চোখ এড়াতে ঢোলা জামা, আড়ালে চলতো শিশুর ওপর নির্যাতন
বাবার চোখ এড়াতে ঢোলা জামা, আড়ালে চলতো শিশুর ওপর নির্যাতন