প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি ও তার ছেলে মজিবুর রহমানের নামে মানহানিকর সংবাদ প্রচারের অভিযোগে বেসরকারি দীপ্ত টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)সহ সাতজনের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে করা দুটি মামলা স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।
একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি এ কে এম সহিদুল হকের সম্বন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ নম্বর ধারাটি এবং উক্ত দুটি মামলার কার্যক্রম কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এর কারণ দর্শানোর জন্য রুল ইস্যু করেছেন আদালত। রুল নিষ্পপ্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলাগুলোর কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।
এ বিষয়ে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে ব্যারিস্টার এবিএম হামিদুল মিজবাহ্ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারাটি অনেকটাই অনির্দিষ্ট যে, অনলাইন বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে কোনও ব্যক্তির যে কোনও কাজই এর আওতায় আসতে পারে, যা খুবই বিপদজনক । ৫৭ ধারা মূলত সংবিধানের ৩৯ আর্টিকেল এর সঙ্গে সংঘার্ষিক । যা স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকারকে খর্ব করে। মাহমান্য আদালত এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে রুল ইস্যু করেন এবং ৫৭ ধারায় করা উক্ত মামলা দুটির স্থগিতাদেশ দেন। এতে করে মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিজয় হলো।
এর আগে গত ৩ এপ্রিল চট্টগ্রামের চকবাজার থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে একটি মামলা করেন শেখ আহমেদ নামের জনৈক ব্যক্তি। এতে অভিযোগ করা হয়, মন্ত্রী ও তার ছেলেকে নিয়ে মানহানিকর তথ্য দিয়ে ভূমি দখলের অভিযোগ এনে দীপ্ত টেলিভিশন সংবাদ প্রচার করে। মামলার অভিযুক্তরা হলেন- দীপ্ত টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জাহেদুল হাসান, পরিচালক কাজী জাহিন হাসান ও কাজী রাবেত হাসান, চিফ অপারেটিং অফিসার কাজী উরফী আহমেদ, বার্তা সম্পাদক নাজমুল আশরাফ, চট্টগ্রামের প্রতিবেদক রুনা আনসারী ও চান্দগাঁও কমিউনিটি সেন্টারের মালিক আবু বকর।
গত ৫ এপ্রিল সানোয়ারা পোল্ট্রি এন্ড হ্যাচারি লিমিটেডেরে ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি ও তার ছেলে মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে দীপ্ত টিভিতে ভূমি দখলের আরেকটি ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রচারের অভিযোগে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে আরও একটি মামলা দায়ের করেন।
এপিএইচ/








