সমুদ্র মহীসোপানের দাবিতে জাতিসংঘের কাছে শ্রীলঙ্কা যে দাবি তুলেছে, তাতে আপত্তি জানিয়েছে বাংলাদেশ। ২০০ নটিক্যাল মাইলের বাইরে মহীসোপানের অধিকার নির্ধারণের জন্য শ্রীলঙ্কা ওই দাবি তুলেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, সরকার শ্রীলংকার দাবি খুঁটিয়ে-খুঁটিয়ে পরীক্ষা করেছে এবং দেখা গেছে, বাংলাদেশের মহীসোপানের একটি অংশ দাবি করছে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ এ বিষয়ে একটি আপত্তিপত্র জাতিসংঘের কাছে জমা দিয়েছে।
আপত্তিপত্রে বাংলাদেশ বলেছে, মনে হচ্ছে শ্রীলঙ্কা যে মহীসোপান দাবি করছে, সেটা তাদের সীমানা থেকে ৩৫০ নটিক্যাল মাইলের বেশি। এছাড়া, যেখানে সুমদ্র ২৫০০ মিটার গভীর সেখান থেকে ১০০ নটিক্যাল মাইলের বেশি মহিসোপান তারা দাবি করছে যা আর্টিক্যাল ৭৬(৫) এর পরিপন্থী।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, ভবিষ্যতেও শ্রীলঙ্কা যেন তাদের দাবি আদায় করতে না পারে, তার জন্য আমরা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করব। তিনি বলেন, জাতিসংঘের আইন অনুযায়ী কোনও দেশ তার সীমানা থেকে ৩৫০ নটিক্যাল মাইল বা যেখানে সুমদ্র ২৫০০ মিটার গভীর তার ১০০ নটিক্যাল মাইলের বেশি মহীসোপান দাবি করতে পারে না। কিস্তু শ্রীলঙ্কা প্রায় ১,০০০ নটিক্যাল মাইল মহীসোপান দাবি করেছে, যেখানে বাংলাদেশ ও ভারতের মহীসোপান আছে।
কলম্বো এ বিষয়ে ঢাকার সঙ্গে আলোচনা করার চেষ্টা চালালে সরকার রাজি হয়নি বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, ভারতের মহীসোপানও দাবি করছে শ্রীলঙ্কা। প্রথমে দিল্লির সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করে তারা সমাধান করুক, তারপর ঢাকা তাদের সঙ্গে আলোচনা করবে কিনা তা ঠিক করবে।
জাতিসংঘের ওয়েবসাইট অনুযায়ী ভারত ও মালদ্বীপও শ্রীলঙ্ককার মহীসোপান দাবির বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছে। ভারত ও মিয়ানমারের মহীসোপান দাবির বিরুদ্ধেও বাংলাদেশ আপত্তি জানিয়েছে। কারণ তাদের দাবি এবং বাংলাদেশের দাবি সাংঘর্ষিক।
/এজে/








