বহুল প্রতীক্ষিত ‘পে স্কেল’ প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে আজ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট 
৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২৫আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২৯

নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রস্তাব নিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে চূড়ান্ত প্রস্তাব আজ সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, প্রস্তাবে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে এরপর আইনি যাচাই শেষে গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সোমবার বিকাল ৫টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সূত্র আরও জানিয়েছে, গত দুই দিন গভীর রাত পর্যন্ত নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে কাজ করেছেন অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা। সর্বশেষ প্রস্তাবে দুই ধাপে নতুন পে-স্কেল কার্যকরের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রথম বছর শুধু মূল বেতন কার্যকর এবং পরের বছর বাড়িভাড়াসহ বিভিন্ন ভাতা সমন্বয়ের প্রস্তাব রয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ১ম থেকে ৯ম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। তবে সব গ্রেডে সমান হারে বেতন বাড়বে না; গ্রেডভেদে কিছুটা কমবেশি থাকবে।

মন্ত্রিসভার জন্য প্রস্তুত করা প্রায় ১৯ পৃষ্ঠার সারসংক্ষেপ বৈঠকে পড়ে শোনানো হতে পারে। মন্ত্রিসভা চাইলে প্রস্তাবে পরিবর্তন আনতে পারবে। অনুমোদনের পর এটি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। ভেটিং শেষে সেপ্টেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশের লক্ষ্য রয়েছে।

চার মাস পর চূড়ান্ত সুপারিশ

জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এর সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। প্রায় চার মাস পর্যালোচনা শেষে কমিটি ১২ আগস্ট চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরি করে।

কমিটির মূল দায়িত্ব ছিল জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর প্রতিবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য সুপারিশ করা।

এরপর ৬ আগস্ট জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও সুপারিশ প্রণয়নে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের মন্ত্রী পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি সচিব পর্যায়ের কমিটির সুপারিশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন বেতনকাঠামোর খসড়া চূড়ান্ত করেছে।

চলতি বছরেই বাস্তবায়নের কথা অর্থমন্ত্রীর

গত ১৭ আগস্ট পে-স্কেল সংক্রান্ত বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, চলতি বছরেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে। তবে পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্তের আগে আরও আলোচনা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন পে-স্কেল চলতি বছরের মধ্যেই বাস্তবায়িত হবে। তবে সব বিষয় নিয়ে আরও আলোচনা শেষে পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং তখন বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

কমিশনের সুপারিশ ছিল আরও বেশি

নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়েছিল ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই। ২৩ সদস্যের ওই কমিশন এ বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।

বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন কমিশন। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব ছিল।

তবে সচিব ও মন্ত্রী পর্যায়ের কমিটির সর্বশেষ সুপারিশে সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব এসেছে। সর্বনিম্ন মূল বেতন প্রস্তাব করা হয়েছে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা।

বাজেটে বরাদ্দ, বাস্তবায়নে বড় ব্যয়

সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষে গত ১৭ আগস্ট প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা এবং পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

পে-স্কেল বাস্তবায়নের ব্যয় শুধু মূল বেতন বৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। মূল বেতন বাড়লে বাড়িভাড়া, উৎসব ভাতা, পেনশন, গ্র্যাচুইটি, ইনক্রিমেন্টসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় বাড়বে। একই সঙ্গে নতুন বেতন অনুযায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পুনর্নির্ধারণ এবং হিসাব ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করতে হবে।

১১ বছর পর নতুন কাঠামোর অপেক্ষা

সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর প্রতিবছর মূল বেতন নির্ধারিত ৫ শতাংশ হারে বাড়লেও নতুন পে-স্কেল ঘোষণা হয়নি। ফলে প্রায় ১১ বছর ধরে পুরোনো বেতনকাঠামোর মধ্যেই আছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

নতুন পে-স্কেলের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী। এর সঙ্গে রয়েছেন প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগী এবং নতুন কাঠামোর সুবিধা পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা।

সর্বশেষ প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হলে নবম পে-স্কেলের দীর্ঘ প্রক্রিয়া গেজেট প্রকাশের দিকে এগোবে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের অপেক্ষার পরবর্তী ধাপ হবে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত এবং এরপর আইনি যাচাই শেষে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন।

/ইউএস/
সম্পর্কিত
সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাজ কী
ঢাকায় পৌঁছেছেন আইপিইউর সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্ডা ফিলিপ
সংবিধান সংশোধন নিয়ে সংসদে ফের আলোচনা, জুলাই সনদ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিমত
সর্বশেষ খবর
রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪১৬, সবচেয়ে বেশি মিরপুরে
রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪১৬, সবচেয়ে বেশি মিরপুরে
স্লোভেনিয়ার গোপন উপত্যকায় ধীরগতির ভ্রমণের নতুন গল্প
স্লোভেনিয়ার গোপন উপত্যকায় ধীরগতির ভ্রমণের নতুন গল্প
বিএনপির সিন্ডিকেট আবারও সক্রিয়, ওমরা থেকে ফিরে আসিফ মাহমুদ
বিএনপির সিন্ডিকেট আবারও সক্রিয়, ওমরা থেকে ফিরে আসিফ মাহমুদ
সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাজ কী
সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাজ কী
সর্বাধিক পঠিত
রান্নার সময় গরুর মাংস সবুজ হওয়ার কারণ জানা গেলো ল্যাব পরীক্ষায়
রান্নার সময় গরুর মাংস সবুজ হওয়ার কারণ জানা গেলো ল্যাব পরীক্ষায়
আজ স্বর্ণের দাম কত
আজ স্বর্ণের দাম কত
‘ছয় মাস চলে গেলো, আর কয় মাস লাগবে?’
‘ছয় মাস চলে গেলো, আর কয় মাস লাগবে?’
দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস
দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস
‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা’ জারি: কারা পাবেন, কারা পাবেন না
‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা’ জারি: কারা পাবেন, কারা পাবেন না