মানবাধিকার কমিশন বিল নিয়ে জামায়াতের আপত্তি কেন, কী আছে নতুন খসড়ায় 

এস এম আব্বাস
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:১২আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:১৪

‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’-এর প্রস্তাবিত বিল নিয়ে দফায় দফায় আপত্তি জানিয়েছে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকও বর্জন করেছে। একইসঙ্গে বিলটি পাসের প্রক্রিয়ার কোনও পর্যায়েই বিরোধী দল অংশ নেবে না বলে জানিয়েছেন দলটির সংসদীয় দলের মুখপাত্র ড. মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান।

অপরদিকে বিলটি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অধ্যাদেশের চেয়ে নতুন খসড়ায় শাস্তির বিধানসহ যথাযথ ও কঠোর করা হয়েছে। বিরোধী দলের এই বিল নিয়ে বিরোধিতার কোনও সুযোগ নেই। তারা (বিরোধী দল) চাইলে বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপনের পর কোথায় তাদের আপত্তি রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। কিন্তু জামায়াত এই বিল পাস প্রক্রিয়ায় অংশই নেবে না।  

প্রসঙ্গত, গত ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটিকে মাত্র দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

বুধবার (২ সেপ্টম্বর) জাতীয় সংসদে বিলটি উঠতে পারে বলে সরকার পক্ষের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে গত রবিবার (৩০ আগস্ট) জাতীয় সংসদের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন’ বিল পর্যালোচনার জন্য উপস্থাপন করা হলে জামায়াতের দুই সদস্য ড. মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান ও অ্যাডভোকেট আল ফারুক আবদুল লতিফ বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান।

বৈঠক বর্জনের কারণ ব্যাখ্যা করে ওইদিন ড. মো. নাজিবুর রহমান জানিয়েছিলেন, প্রস্তাবিত বিলটি আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মাত্র দুই কার্যদিবসে প্রতিবেদন দেওয়ার সময়সীমায় অংশীজন ও মানবাধিকারকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ রাখা হয়নি।

বিলটিকে ‘কালো আইন’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, ২০০৯ সালের মতো এবারও কমিশনকে দুর্বল করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনও সরকার কর্তৃত্ববাদী হলে যাতে কমিশন কার্যকরভাবে কথা বলতে না পারে, সে জন্যই এর ক্ষমতা সীমিত করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিলের বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান

সংসদে বিলটি ওঠার পর বিরোধী দলের অবস্থান জানতে চাইলে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় দলের মুখপাত্র নাজিবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মানবাধিকার অধ্যাদেশ যেটা ছিল, সরকার সেটা অন্যায়ভাবে বাতিল করেছে। আমরা বলেছিলাম— অধ্যাদেশটি বাতিল করার কোনও দরকার ছিল না। তারা যদি শক্তিশালী বিল আনতে চাইতো, তাহলে অধ্যাদেশটি রেখেই আনতে পারতো। এটা হলো প্রথম কথা। দ্বিতীয় কথা হলো, তারা বলেছিল আরও শক্তিশালী করে বিল আনবে। কিন্তু শক্তিশালী না করে তারা বরং দুর্বল করে বিল এনেছে। তৃতীয় কথা হলো, এতে মানবাধিকার রক্ষা হচ্ছে না। মানবাধিকার লঙ্ঘনের মূল অভিযোগ তো আসলে পুলিশের দিক থেকেই আসে। কিন্তু পুলিশের হাতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে মানবাধিকার কমিশন শুধু পুলিশের কাছে লিখতে পারবে। পুলিশ মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে কিনা, এ বিষয়ে তারা কী জবাব দেবে, কবে দেবে—এর কোনও সুনির্দিষ্ট বিধান এখানে করা হয়নি। এর মাধ্যমে আসলে মানবাধিকার কমিশনকে একটা ঠুঁটো জগন্নাথ বানানো হচ্ছে।

তিনি আও বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের যেসব বাধ্যবাধকতা রয়েছে, প্যারিস নীতিমালাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার রয়েছে, এই দুর্বল বিলের কারণে সেগুলোও লঙ্ঘন করা হচ্ছে। সবকিছু বিবেচনায় আমরা দেখছি, জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। এ কারণে এই বিল পাসের প্রক্রিয়ায় আমরা থাকতে চাই না এবং এর সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত হবো না। এটাই আমাদের অবস্থান।’’

জাতীয় সংসদে আনা মানবাধিকার কমিশন বিলের বিষয়ে বিরোধী দল জামায়াতের অবস্থান তুলে ধরেন সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, আল ফারুক আব্দুল লতিফ এবং আখতার হোসেন।

সরকারের অবস্থান

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘জামায়াতের নেতারা যেভাবে মানবাধিকার কমিশন বিলের পেছনে লেগে আছেন, তাদের ফোন করেছিলাম। তারা বলেছেন, আমরা (জামায়াথ) এই বিলের দায়দায়িত্ব নেবো না। তাদের দাবি, অধ্যাদেশ ভালো ছিল, এখন আরও দুর্বল করে ফেলা হয়েছে। কিন্তু অধ্যাদেশে যে অপরাধের জন্য ছয় মাসের জেলের কথা ছিল, এখানে সেটি ১০ বছরের জেল করা হয়েছে। এটা নরম হলো, নাকি শক্ত হলো?’’

চিফ হুইপ বলেন, ‘‘কোনও কারণ ছাড়া অসত্য তথ্য পরিবেশন করা উচিত নয়। মানবাধিকার কমিশন বিল নিয়ে তাদের বক্তব্য দুঃখজনক। তারা বলতে পারেন—এটা করা দরকার, ওটা করা দরকার। তারা তো ছায়া মন্ত্রিসভাও করেছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও ভাগ করে নিয়েছেন। তাহলে তারা কী করতেন, সেটিও সংসদে বলতে পারেন।’’

জামায়াতের অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘তারা সরকারে নেই, আমরা সরকারে আছি। তারা এখন বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের উল্টো অবস্থান দেখিয়ে সংবাদ হতে চাইছেন। কিন্তু সংসদে তাদের দায়িত্বশীলভাবে বক্তব্য দেওয়া উচিত।’’

অধ্যাদেশে কী ছিল

২০২৫ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশে কমিশনকে তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। অধ্যাদেশে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বা এর কোনও সদস্যের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে কমিশনের স্বাধীন অনুসন্ধান ও তদন্তের সুযোগ ছিল। তদন্ত শেষে শাস্তি, ক্ষতিপূরণ বা প্রশাসনিক ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশের ক্ষমতাও ছিল।

অধ্যাদেশে সরকারি কর্মচারী বা শৃঙ্খলা-বাহিনীর সদস্যকে গ্রেফতারের ক্ষেত্রেও আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা ক্ষেত্রমতো কমিশনের অনুমতির বিধান ছিল। এ ক্ষেত্রে সরকারের বা সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতির প্রয়োজন ছিল না।

এছাড়া কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের পাশাপাশি বিভাগীয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জেলা-উপজেলা পর্যায়েও কার্যালয় স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছিল।

নতুন খসড়ায় শৃঙ্খলা-বাহিনীর ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন

২০২৬ সালের নতুন খসড়ায় শৃঙ্খলা-বাহিনীর সংজ্ঞার আওতায় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী, পুলিশ, আনসার, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, সরকারি গোয়েন্দা ও তদন্তকারী সংস্থা, র‌্যাবসহ বিশেষ ও যৌথ বাহিনীকে রাখা হয়েছে।

তবে এসব বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৯ ধারায় প্রথমে সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রতিবেদন চাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। প্রতিবেদন পেয়ে কমিশন সন্তুষ্ট হলে আর কোনও উদ্যোগ নেবে না। সন্তুষ্ট না হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কাছে করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ করবে।

সুপারিশ পাওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে কমিশনকে জানাতে হবে। নির্ধারিত সময়ে না জানালে বা ব্যবস্থা সন্তোষজনক না হলে কমিশন স্বপ্রণোদিত হয়ে সাধারণ অভিযোগ নিষ্পত্তির বিধান অনুযায়ী কার্যক্রম নিতে পারবে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবিও এই পরিবর্তনকে কমিশনের স্বাধীন তদন্ত ক্ষমতা সংকুচিত করার পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংস্থাটির মতে, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশের স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা বাদ দিয়ে নতুন খসড়ায় মূলত ২০০৯ সালের আইনের মতো ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

নতুন খসড়ায় কমিশনের শক্তিশালী ক্ষমতাও থাকছে

নতুন খসড়ায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে। একজন চেয়ারপারসন ও চারজন কমিশনার নিয়ে কমিশন গঠিত হবে এবং অন্তত একজন নারী থাকবেন।

চেয়ারপারসন ও কমিশনার নিয়োগ করবেন রাষ্ট্রপতি। বাছাই কমিটি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদন বা মনোনয়ন আহ্বান করবে এবং প্রতিটি পদের বিপরীতে দুজন প্রার্থীর নাম সুপারিশ করবে। আইন, বিচার, প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সমাজসেবা, নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী অধিকার, পরিবেশসহ মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অন্তত ১৫ বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে।

চেয়ারপারসন ও কমিশনারদের মেয়াদ সর্বোচ্চ পাঁচ বছর এবং একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। অপসারণের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকের মতো পদ্ধতি অনুসরণের বিধান রাখা হয়েছে।

অভিযোগ, তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ

নতুন খসড়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ লিখিত, মৌখিক বা নির্ধারিত অন্য মাধ্যমে বিনা ফিতে করার সুযোগ রাখা হয়েছে। গণমাধ্যমসহ অন্য কোনও মাধ্যম থেকে তথ্য পেলেও কমিশন স্বপ্রণোদিত হয়ে ব্যবস্থা নিতে পারবে।

সাধারণভাবে ঘটনার ছয় মাসের মধ্যে অভিযোগ করতে হবে। তবে ভুক্তভোগীর শারীরিক বা আইনগত অসামর্থ্য, ভয়ভীতি, বিশেষ পরিস্থিতি বা জনস্বার্থে যুক্তিসঙ্গত কারণে কমিশন বিলম্ব মওকুফ করতে পারবে।

অভিযোগ পাওয়ার পর ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা যাবে। তদন্ত শেষ করতে হবে তিন মাসের মধ্যে; প্রয়োজনে আরও ৩০ দিন সময় বাড়ানো যাবে।

অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে কমিশন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিভাগীয়, শৃঙ্খলামূলক বা প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুই মাসের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করে কমিশনকে জানাতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিধানগুলোর একটি হলো—দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে তার দ্বিগুণ বা তার অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ ভুক্তভোগী বা তার আইনানুগ প্রতিনিধিকে দেওয়ার নির্দেশ কমিশন দিতে পারবে। অনাদায়ী ক্ষতিপূরণ ম্যাজিস্ট্রেট বা কালেক্টরের মাধ্যমে আদায়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও জবাবদিহির আওতায়

নতুন খসড়ার ২৭ ধারায় কমিশনের আদেশ প্রতিপালন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোনও ব্যক্তি কমিশনের আদেশ অমান্য করলে বা গাফিলতি করলে তা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে।

সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবে কমিশন। কোনও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কমিশনের আদেশ না মানলে তার মালিক, অংশীদার, স্বত্বাধিকারী, চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালক, জেনারেল ম্যানেজার, ম্যানেজার বা এজেন্টকে দায়ী হিসেবে গণ্য করার বিধান রাখা হয়েছে—যদি না তিনি প্রমাণ করতে পারেন যে ব্যর্থতা তার অজ্ঞাতসারে হয়েছে বা তা প্রতিরোধে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন।

সাংবাদিক ও তথ্য প্রকাশকারীর সুরক্ষা

গণমাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কমিশনের স্বপ্রণোদিত তদন্তের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ২৬ ধারায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য-প্রমাণ কমিশন বা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে প্রকাশকারীকে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন, ২০১১-এর অধীনে সুরক্ষার কথা বলা হয়েছে।

অভিযোগকারী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা সংবাদমাধ্যমে তথ্য প্রকাশকারী, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীর গোপনীয়তা রক্ষা এবং প্রতিশোধ, ভয়ভীতি, হুমকি বা অন্য কোনও বিরূপ কার্যক্রম থেকে তাদের সুরক্ষার জন্য কমিশন আদেশ দিতে পারবে।

জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা ইউনিট

নতুন খসড়ায় ‘জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা ইউনিট’ বা ‘ন্যাশনাল প্রিভেন্টিভ মেকানিজম ইউনিট’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। নির্যাতন ও অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা লাঞ্ছনাকর আচরণ প্রতিরোধে এই ইউনিট কাজ করবে।

কারাগার, হাজতখানা, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র, সংশোধনাগার, থানা, অভিবাসী আটক কেন্দ্র, মানসিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, বন্দি পরিবহন, সেফ হোম ও পরিচর্যা কেন্দ্রসহ ব্যক্তিস্বাধীনতা সংকুচিত হয়—এমন স্থানে পূর্বঘোষণা ছাড়াই পরিদর্শনের ক্ষমতা থাকবে ইউনিটটির। আটক ব্যক্তিদের গোপন সাক্ষাৎকার নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট নথি ও তথ্য পাওয়ার সুযোগও থাকবে।

আর্থিক স্বাধীনতা ও পুরোনো আইনের ধারাবাহিকতা

নতুন খসড়ায় মানবাধিকার কমিশন তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। সরকারি অনুদানের পাশাপাশি আইনসম্মতভাবে বিদেশি সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুদান নেওয়া যাবে। অনুমোদিত খাতে অর্থ ব্যয়ে সরকারের পূর্বানুমোদন লাগবে না। মহাহিসাব-নিরীক্ষক কমিশনের হিসাব নিরীক্ষা করবেন।

খসড়ার ৪১ ধারায় ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন রহিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে পুরোনো আইনের অধীনে চলমান কার্যক্রম ও মামলা বহাল থাকবে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরির ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ থাকবে।

ফলে বিতর্কের মূল প্রশ্ন, শৃঙ্খলা-বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে কমিশন কতটা স্বাধীনভাবে তদন্ত করতে পারবে। জামায়াতের আপত্তি মূলত এখানেই। অন্যদিকে নতুন খসড়ায় ক্ষতিপূরণ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি, তথ্য প্রকাশকারীর সুরক্ষা, আর্থিক স্বাধীনতা ও জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা ইউনিটসহ নতুন ক্ষমতা যুক্ত হয়েছে। তবে টিআইবিও বলেছে, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশের তুলনায় নতুন খসড়ায় কমিশনের স্বাধীন তদন্ত ক্ষমতা সংকুচিত হয়েছে।

 

 

/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
অপরাধী পাপ মুক্তকরণ টিকিট চালু করেছে জামায়াত: রাশেদ খাঁন
টিভি চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী ও সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে জামায়াত আমিরের বৈঠক
অনাস্থার কথা শুনে জামায়াত নেতা বললেন ‘বিয়ের আগেই তালাক হলো কীভাবে?’
সর্বশেষ খবর
‘আমরা বাংলাদেশকে খুব ভালোবাসি’
‘আমরা বাংলাদেশকে খুব ভালোবাসি’
যুক্তরাজ্যের গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা পেলেন শিল্পী তারেক আমিন
যুক্তরাজ্যের গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা পেলেন শিল্পী তারেক আমিন
অপরাধী পাপ মুক্তকরণ টিকিট চালু করেছে জামায়াত: রাশেদ খাঁন
অপরাধী পাপ মুক্তকরণ টিকিট চালু করেছে জামায়াত: রাশেদ খাঁন
‘প্রধানমন্ত্রী এখনও এক-এগারোর নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছেন’ 
‘প্রধানমন্ত্রী এখনও এক-এগারোর নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছেন’ 
সর্বাধিক পঠিত
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে প্রণোদনা পাবেন বাড়িওয়ালা, প্রজ্ঞাপন জারি
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে প্রণোদনা পাবেন বাড়িওয়ালা, প্রজ্ঞাপন জারি
প্রিপেইড মিটারে অতিরিক্ত টাকা কাটার কারণ জানালো ডিপিডিসি 
প্রিপেইড মিটারে অতিরিক্ত টাকা কাটার কারণ জানালো ডিপিডিসি 
দারুওয়ালা থেকে পুনাওয়ালা: পার্সিদের পদবি এত বিচিত্র কেন
দারুওয়ালা থেকে পুনাওয়ালা: পার্সিদের পদবি এত বিচিত্র কেন
যশোরে নিজ ঘর থেকে দুই ছেলে ও বাবার লাশ উদ্ধার
যশোরে নিজ ঘর থেকে দুই ছেলে ও বাবার লাশ উদ্ধার
একসঙ্গে আসছে ৫ হাজার মার্কিন সৈন্য, বড় বিপদে যৌনকর্মীরা
একসঙ্গে আসছে ৫ হাজার মার্কিন সৈন্য, বড় বিপদে যৌনকর্মীরা