সংবিধান সংশোধনের পর গণভোটের ব্যবস্থা রাখা হবে

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৩০ আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৩০

সংবিধান সংশোধনের পর রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে গণভোটের ব্যবস্থা রাখা হবে। একই সঙ্গে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হলে ভবিষ্যতে তা পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও জনগণের কাছে যেতে হবে। এমন বিধান রাখা হবে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে কমিটির ষষ্ঠ বৈঠক শেষে সংসদ মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

গণভোটের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে যেসব অনুচ্ছেদে পরিবর্তন বা সংযোজন আসবে, সেগুলো কার্যকর করার আগে গণভোটের ব্যবস্থা করতে হবে। এটি হবে সাংবিধানিক গণভোট। এর আগে যে গণভোট হয়েছে, সেটি ছিল আইনি গণভোট।

সংবিধানের প্রস্তাবনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ও মৌলিক বিষয়গুলোতে পরিবর্তন এলে গণভোটের বিষয়টি আসবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আর্টিকেল ৪৫৬-এ আসবে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে আমরা ধারণ করব।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে ফিরিয়ে আনা হলে ভবিষ্যতে যাতে সহজে পরিবর্তন করা না যায়, সে বিষয়েও বিধান রাখার কথা জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আমরা সংবিধানের মাধ্যমে করলে সেটা যাতে ভবিষ্যতে কেউ সহজে পরিবর্তন করতে না পারে, সেজন্য আমরা ওটা পরিবর্তন করলেও ভবিষ্যতে জনগণের কাছে যাতে যেতে হয়, সেটা বড় বিধান রাখতে হবে।’

সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে গণভোটের বিধান তুলে দেওয়ার বৈধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৪২ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে গণভোটের বিধান তুলে দেওয়া হয়েছিল এবং সেটিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘অর্থাৎ আগে যা ছিল তাই সঠিক। কিন্তু অনেকে বলছেন, সেটা তো অটোমেটিক বহাল হয় না। এখানে আমার বক্তব্য হচ্ছে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। একটা ডকট্রিন আছে। এটা হচ্ছে ডকট্রিন অব ইক্লিপস।’

আইনের ‘গ্রহণ’ বা এক্লিপসের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘গ্রহণটা সরে গেলে চাঁদ আবার দেখা যায়। এটাকে বলা হয় ডকট্রিন অব ইক্লিপস।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের যে বিধান পরিবর্তন করে বাতিল করা হয়েছিল, সেটিকে হাইকোর্ট অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে। বিচার বিভাগের রায়ের ভিত্তিতে সংবিধানে সেই সংশোধন ধারণ করা হবে। তিনি বলেন, সংবিধানে গণভোটের বিধান না থাকলেও তা আবার সংবিধানে আনা হলে সেটি মানতে হবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার কী প্রক্রিয়ায় গঠিত হবে, কারা থাকবেন এবং কোন পদ্ধতিতে গঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি। বিষয়টি সংসদে আলোচনার মধ্য দিয়ে আসবে।

বৈঠকে অংশ নিয়েছেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা

তিনি বলেন, বর্তমানে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে আইনজীবী, বিচারক, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, আইন বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পদ্ধতি নিয়ে একাধিক বিকল্পও বিবেচনা করা হবে।

রাষ্ট্রপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রক্রিয়াগুলো এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বিরোধী দলসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রস্তাব আসতে পারে। সেগুলো পর্যালোচনা করে বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকা একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পদ্ধতি নির্ধারণ করতে চায় কমিটি।

এদিকে বৈঠকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারের সদস্য ও আহতদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়। শহীদের মা-বাবা, ভাইসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে মোট ৬৩ জন এতে অংশ নেন। সময় ও অন্যান্য সীমাবদ্ধতার কারণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তালিকা অনুযায়ী প্রতিনিধিত্বমূলকভাবে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

বৈঠকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং শহীদ-আহতদের সাংবিধানিক সুরক্ষার দাবি এসেছে বলে জানান তিনি। জুলাই ঘোষণাপত্রের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সংবিধানের উপযুক্ত জায়গায় ধারণ করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

কথা বলছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের পক্ষ থেকে বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার দাবিও এসেছে। মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার দ্রুত করার দাবি জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে আন্তরিক। তদন্ত, প্রসিকিউশন ও চার্জের বিষয়ে সরকারের কাজ দ্রুততার সঙ্গে করা হবে। দণ্ডবিধির অধীনে অন্যান্য আদালতে হওয়া মামলাগুলোও দ্রুত শেষ করার জন্য তদারকির আবেদন এসেছে বলে জানান তিনি।

এদিকে জুলাই জাতীয় সনদ নোট অব ডিসেন্টসহ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেভাবেই তা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘যেভাবে নোট অব ডিসেন্টসহ জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেটা বাস্তবায়নে আমরা অঙ্গীকার, প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সেই জুলাই জাতীয় সনদ অবশ্যই যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেভাবে বাস্তবায়ন করবো।’

তবে শুধু জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করলেই সংবিধান সংশোধনের অন্য বিষয়গুলো বাদ পড়ে যেতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বক্তব্য এবং অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নিয়ে একটি বিল সংসদে উপস্থাপনের জন্য রিপোর্ট দেওয়া হবে।

বিরোধী দলের লং মার্চ কর্মসূচি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে সংবিধান সংশোধনের বিষয় সংসদেই হবে।

সংবিধান সংশোধন নিয়ে ছয়টি বৈঠকে কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আরও স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা বাকি রয়েছে। সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সাবেক বিচারপতি, বিচারক, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, আইন বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের কাছ থেকে প্রস্তাব নেওয়া হবে। এরপর কমিটিতে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

/এসএমএ/ইউএস/
সম্পর্কিত
জুলাই সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেভাবেই বাস্তবায়ন করবো: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি চান শহীদ-আহতদের স্বজনেরা
আলজেরিয়া থেকে এলএনজি ও সার আমদানির উদ্যোগ
সর্বশেষ খবর
মোহামেডান ও কিংসের বড় জয়
মোহামেডান ও কিংসের বড় জয়
তিন মাসে এলপিজির কাঁচামালের দাম কত বাড়লো?
তিন মাসে এলপিজির কাঁচামালের দাম কত বাড়লো?
মসজিদে বিদ্যুৎ ব্যবহার ও ছাদে সৌরবিদ্যুৎ নীতিমালার সুপারিশ
মসজিদে বিদ্যুৎ ব্যবহার ও ছাদে সৌরবিদ্যুৎ নীতিমালার সুপারিশ
১৫ বছর ধরে প্লাস্টিক-আবর্জনামুক্ত যে গ্রাম পর্যটকদের মুগ্ধ করছে
১৫ বছর ধরে প্লাস্টিক-আবর্জনামুক্ত যে গ্রাম পর্যটকদের মুগ্ধ করছে
সর্বাধিক পঠিত
একসঙ্গে ১৯ ব্যাংকের কার্ড-এটিএম সেবা বন্ধ, ভোগান্তিতে পড়তে পারেন গ্রাহক
একসঙ্গে ১৯ ব্যাংকের কার্ড-এটিএম সেবা বন্ধ, ভোগান্তিতে পড়তে পারেন গ্রাহক
জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি, আজ গুলি করে হত্যা: বাঁচাতে পারেনি পুলিশ
জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি, আজ গুলি করে হত্যা: বাঁচাতে পারেনি পুলিশ
কোয়েল মল্লিক কত টাকার মালিক, জানা গেলো হলফনামায়
কোয়েল মল্লিক কত টাকার মালিক, জানা গেলো হলফনামায়
ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিয়ে নতুন গাইডলাইন দিলো আইভ্যাক
ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিয়ে নতুন গাইডলাইন দিলো আইভ্যাক
১৯৪৭ সালের পর আসাম থেকে বাংলাদেশে আসছে প্রথম কোনও নৌযান
১৯৪৭ সালের পর আসাম থেকে বাংলাদেশে আসছে প্রথম কোনও নৌযান