জাপানের টোকিও নারিতা বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। ত্রুটি ধরা পড়ার কারণে উড্ডয়ন স্থগিত করা হয়। এতে উড়োজাহাজটি বিমানবন্দরে আটকে পড়েছে। ওই বিমানের যাত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সফরসঙ্গীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বিমানের প্রকৌশলীরা বলছেন, স্পয়লার ত্রুটির কারণে যাত্রা বিলম্ব হচ্ছে।
কী এই স্পয়লার ত্রুটি
বিমানের স্পয়লার ত্রুটি হলো অ্যারোডাইনামিক্সের একটি পরিচিত ঘটনা, যা বিমানের স্থিতিশীলতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এটি মূলত কোনও ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রপাতির সমস্যা নয়, বরং বিমানের প্রাকৃতিক উড়ান বৈশিষ্ট্যের একটি দিক।
সহজ কথায়, বিমান যখন সামান্য একদিকে ঝুঁকে উড়ে, তখন যদি বিমানটি নিজে থেকে সোজা অবস্থায় ফিরে আসার পরিবর্তে ক্রমান্বয়ে আরও বেশি ঝুঁকে পড়তে থাকে এবং একটি কুণ্ডলী বা স্পয়লার আকারে নিচের দিকে নামতে শুরু করে, তবে তাকে স্পয়লার ইনস্ট্যাবিলিটি বলা হয়।
আরও সহজ করে বললে, স্পয়লার হলো, বিমানের ডানার ওপরের দিকে থাকা কয়েকটি প্যানেল, যা প্রয়োজন অনুযায়ী ওপরে উঠে আসে। এগুলোর প্রধান কা—
অবতরণের সময়: চাকা মাটিতে স্পর্শ করার পর ডানার ওপর দিয়ে বায়ুপ্রবাহ কমিয়ে বিমানের উড্ডয়নক্ষমতা কমায় এবং চাকার ওপর চাপ বাড়ায়। এতে ব্রেক কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে।
গতি কমানো: আকাশে উড্ডয়নের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী স্পয়লার ব্যবহার করে বিমানের গতি কমানো যায়।
বিমান নিয়ন্ত্রণ: কিছু ক্ষেত্রে ডানার এক পাশের স্পয়লার ব্যবহার করে বিমানকে বাঁক নিতে সহায়তা করা হয়।
স্পয়লার ত্রুটি হলে কী হতে পারে?
অবতরণের সময় বিমান প্রত্যাশিতভাবে গতি কমাতে না-ও পারে। রানওয়েতে থামতে তুলনামূলক বেশি দূরত্ব লাগতে পারে। স্বাভাবিক অবতরণ পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হতে পারে এবং ত্রুটির ধরন অনুযায়ী পাইলটকে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে বা বিমানকে অন্য বিমানবন্দরে অবতরণ করাতে হতে পারে।
স্পয়লার ত্রুটি মানেই কী বিমান দুর্ঘটনার ঝুঁকি?
না, স্পয়লার ত্রুটি মানেই বিমান দুর্ঘটনা ঘটবে—এমন নয়। ত্রুটিটি কোন অংশে হয়েছে, কতগুলো স্পয়লার কাজ করছে না এবং বিমানের অন্য ব্যবস্থা স্বাভাবিক আছে কি না—এসবের ওপর ঝুঁকি নির্ভর করে। পাইলটরা নির্ধারিত নিরাপত্তা পদ্ধতি অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত নেন।
প্রসঙ্গত, জাপানের টোকিও থেকে ফেরার সময় নারিতা বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমানের একটি প্লেনের স্পয়লার সমস্যা দেখা দেয়। এতে যাত্রা বিলম্বিত হচ্ছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাহনুর আহমেদ জানান, প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি ৩৭৭ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জাপানের নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়নে বিলম্ব হচ্ছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এয়ার ক্রু ও প্রকৌশল দল ত্রুটি নিরসনে কাজ করছে। এ বিষয়ে পরবর্তী তথ্য যথাসময়ে জানানো হবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সূত্রে জানা গেছে, ভিভিআইপি যাত্রীদের বহনকারী বিজি-৩৭৭ (বিজি-৩৭৭) ফ্লাইটটির নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নির্ধারিত গন্তব্যে যাত্রার কথা ছিল। বোর্ডিং শেষে উড়োজাহাজটিকে টার্মিনাল থেকে পুশব্যাক করা হয়। পরে রানওয়ের দিকে যাওয়ার সময় ককপিটে স্পয়লারের ত্রুটিসংক্রান্ত সংকেত দেখা যায়। তাৎক্ষণিকভাবে উড্ডয়নের সিদ্ধান্ত বাতিল করেন পাইলট। পরে কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে সমন্বয় করে উড়োজাহাজটিকে নির্ধারিত পার্কিং এলাকায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পরপরই উড়োজাহাজটির কারিগরি পরীক্ষা ও মেরামতের কাজ শুরু করেন প্রকৌশলীরা। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল শাখার তথ্য অনুযায়ী, ইঞ্জিনিয়ার সাদেকুল ইসলাম ভূঁইয়া ও প্রকৌশলী মান্নানের নেতৃত্বে একটি কারিগরি দল ত্রুটি সারানোর চেষ্টা করছে।
বিমানের সূত্র জানায়, উড়োজাহাজের ডানায় থাকা স্পয়লার অবতরণের সময় উড্ডয়নক্ষমতা কমিয়ে গতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। পাশাপাশি উড্ডয়নের বিভিন্ন পর্যায়েও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই স্পয়লারে ত্রুটি দেখা দিলে উড়োজাহাজের নিরাপদ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও মেরামত সম্পন্ন করা জরুরি।