শুরুটা হয় ২৩ এপ্রিল রাত থেকেই। স্যাটায়ারে (ব্যঙ্গ) ভরে ওঠে ফেসবুকের দেয়াল। তিন বছরেও রানা প্লাজায় ১,১৩৬ শ্রমিকের হত্যার বিচার না হওয়ায় স্যাটায়ারেই নিজেদের হতাশা ঢাকেন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা। ফেসবুকজুড়ে সকাল থেকে হাহাকার এবং পুরনো পোস্ট আবার শেয়ার করে মানুষ যেন নিজেকেই ধিক্কার দিচ্ছে: কীভাবে সম্ভব হলো এমন করে ভুলে যাওয়া। আর একইসঙ্গে ভেসে উঠেছে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটার পরও কোনটিরই বিচার না পাওয়া এবং কোনটিই দীর্ঘসময় ধরে বিচারের দাবি জিইয়ে রাখতে না পারার হতাশা। তাদের অনেকেই মনে করছেন, রাজার বিরুদ্ধে গেলেই কেবল সাড়া মিলবে।
আনিস রায়হান লিখেছেন, ‘তোদের প্রাসাদে জমা হলো কত মৃত মানুষের হাড়- হিসাব কি দিবি তার?’ ২৪ এপ্রিল দেড় হাজার শ্রমিক খুন হওয়ার দিন। তিন বছর পার হলেও এখনও যার বিচার শুরু হয়নি। যদিও রাজধানীর বুদ্ধিজীবীরা প্রফুল্ল বোধ করেছিলেন উদ্ধারকাজে লাখো মানুষের ঢল দেখে। পত্রিকাগুলো ছেপেছিল মানবিকতার জয়গান। তিনি আরও লিখেছেন, এখনও হাড় পাওয়া যায় সেখানে। পুলিশ বলেছিল, গরুর হাড়। রানা প্লাজার অসুস্থ শ্রমিক সালমা অর্থাভাবে আত্মহত্যা করে মরেছিল, তার নাম কোনও মৃতের তালিকায় যোগ হয়নি। যদিও টিআইবি বলেছে সরকারের ভূমিকা সন্তোষজনক।
ফয়সাল হাসান সন্ধি লিখছেন, ‘৩ বছর হয়ে গেল, রানা প্লাজা জিনিসটা যেন কি? ওহ হো ‘দুই টাকার’ গার্মেন্টস কর্মীরা সব মরছিল যেখানে? হু কেয়ারস! আরে ভাই, ওটাতো গরীবের ‘রানা প্লাজা’; বড়লোকের ‘রাপা প্লাজাতো’ আর না! ‘রাপা প্লাজা’ হলে বিষয়টা ভেবে দেখতাম!’
আরও পড়ুন: রানা প্লাজার উদ্ধার কাজের সেই নায়কেরা
তারেক ইব্রাহীম অয়ন ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিলের কিছু ছবি শেয়ার দিয়ে লিখেছেন, কাল তো ২৪ এপ্রিল পিলার ঝাকুনিতে বিল্ডিং ভাইংগা স্যান্ডুইচ হইসে, ১১শ মানুষ। এখান থেকে ছবি নিয়ে তোমরা কাভার ফটো চেঞ্জ কর প্লিজ। এটাও তো একটা বিশেষ দিন।
গণসংহতির নেতা ফিরোজ আহমেদ লিখেছেন, তিন বছর তো হলো, রানা প্লাজার জন্য আর কত কর্মসূচি, এবার তাই কেবল দোয়া মাহফিল করতে বলেছেন বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, ভুলিয়ে দিতে পারলেই সবচে বেশি স্বস্তি পেতেন হয়তো। কিন্তু বিস্মরণের বিরুদ্ধে স্মৃতির লড়াই চলবে জনগণের বর্তমান আর ভবিষ্যতকে রক্ষার জন্য।
নিপা লায়লার স্ট্যাটাসে দিবসটিকে ভুলে যাওয়ার গ্লানি আছে। তিনি মনে করেন রানা প্লাজা--স্মরণকালের একটি ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের নাম-মানবতা ভূলুণ্ঠিত হবার নাম-একসাগর অশ্রুজলের নাম-বাঁচার আকুতির নাম-মৃত্যুর মিছিলের নাম! একপা দুইপা করে পার হয়ে গেছে লম্বা তিনটি বছর! রানা প্লাজা, এখন আমাদের কাছে কেবলই ধুলোমাখা সুদূর অতীতের একটি ম্লান হয়ে যাওয়া ধূসর স্মৃতি!... সেই বিভীষিকাময় ভয়ংকর দুঃস্বপ্নের কথা আমরা কী সত্যি সত্যি ভুলে গেছি? আমরা ভুলে ভাই! আমরা সবকিছুই কেবল ভুলে যাই!!!!!
মানুষ কখন মাধ্যম হিসেবে স্যাটায়ারকে বেছে নেয়- প্রশ্নের জবাবে মইনুল আহসান সাবের বলেন, এটা মনে হয় সময়ের ব্যাপার না। যার যার ধরন। তবে, যখন মনে হয় সরাসরি বলার চেয়ে স্যাটায়ার কার্যকর হবে, তখনও সে স্যাটায়ারের আশ্রয় নিতে পারে।
আরও পড়ুন: নিহত শ্রমিকদের স্মরণে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘ফ্যাশন রেভুলিউশন ডে’
/ইউআই/এজে/








