মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকর করার জন্য ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। জানা গেছে, সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদকে যে মঞ্চে ফাঁসি দেওয়া হয়, এটা সেই মঞ্চ।
ফাঁসি কার্যকর করার জন্য আট জল্লাদকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে রাজু নামে একজনকে কাশিমপুর কারাগার থেকে ঢাকায় আনা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এদিকে কারাগার এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘নিজামী প্রাণভিক্ষা না চাইলে যেকোনও সময় ফাঁসি কার্যকর করা হবে।’
মঙ্গলবার সকালে নাজিমুদ্দিন রোডের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে দেখা যায়, কারাগারের চারপাশে র্যাব, পুলিশ ও কারারক্ষীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সাদা পোশাকে কারাগার এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন। কারাগারের প্রধান ফটকে গণমাধ্যমকর্মীদের ভীড় বেড়েছে।
কারা সূত্রটি জানিয়েছে, দণ্ড কার্যকরের জন্য সব প্রস্তুতি শেষ। মঙ্গলবার কাশিমপুর কারাগার থেকে জল্লাদ রাজুকে ঢাকায় আনা হয়েছে। রাজুর নেতৃত্বে হযরত, মাসুদ, ইকবাল, রনি, মোক্তার, আবুল ও সাত্তার নামে আট জল্লাদ প্রস্তুত রয়েছে। এদের মধ্যে যেকোনও চারজনকে ডাকা হতে পারে।
সোমবার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের আগে গত রবিবার রাতে কাশিমপুর থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয় নিজামীকে। কারাগারের রজনীগন্ধা কনডেম সেলের সাত নম্বর কক্ষে তাকে রাখা হয়েছে। নিয়মিত তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।
কাশিমপুর থেকে জল্লাদ রাজু ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে
মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকর করতে জল্লাদ মো. রাজুকে কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগার থেকে মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, জল্লাদ রাজুসহ আটজনের একটি তালিকা করা হয়েছে। যাদের মধ্যে ফাঁসি কার্যকরের সময় চারজনকে উপস্থিত রাখা হবে। এদের সবাই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। তবে রাজু কাশিমপুরে ছিলেন।
গত ৫ মে (বৃহস্পতিবার) মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর সাজা পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজ করে দেন বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ। গতকাল পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। এরপর রায়ের অনুলিপি ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, জেলাপ্রশাসক, স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রণালয় পাঠানো হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবীর নিজামীকে রায় পড়ে শোনান।
আরও পড়ুন: নিজামীর পক্ষে শেষ সময়ে যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানদের প্রচারণা
/এআরআর/এজে








