বছর ঘুরে আবারও এলো রমজান মাস। রমজান শুরু হবার সঙ্গে সঙ্গেই আরবি শেখার আগ্রহ বাড়ে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের। ছোট শিশু থেকে শুরু করে প্রায় সব বয়সের নারী-পুরুষ ঘরে এমনকি মক্তবে আরবি শেখেন।
ইসলামি চিন্তাবিদরা বলছেন, এ মাসে কোরআন পাঠ করলে সওয়াব বেশি পাওয়া যায়। অভিভাবকরা বলছেন,বছরের অন্য সময়ের তুলনায় রমজানে কোরআন পড়ার সুযোগ বেশি পাওয়া যায়।
এদিকে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার দেওয়ালে দেওয়ালে ‘আরবি শেখানো হবে’ শিরোনামে বিজ্ঞাপন লক্ষ্য করা গেছে। এমনকি পত্রিকায়ও আরবি শেখানোর বিজ্ঞাপন দেখা যায়।
আরও পড়তে পারেন: গুলিস্তানে ব্যবসায়ী-হকার-পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষ
জানা গেছে, অনেক পরিবারের সব সদস্য এক সঙ্গে আরবি শিখছেন। আবার কেউ কেউ শুধু সন্তানদের আরবি শেখানোর জন্য শিক্ষক ঠিক করছেন। অনেকে মক্তবে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনের কাছে বা বাড়িতেই শিক্ষক ডেকে আরবি পড়া শিখছেন।
কিন্তু আরবি পড়া বা শেখার প্রবণতা রমজান মাসেই বেশি কেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় বেশ কয়েকজন অভিভাবক, ইসলামি চিন্তাবিদ, মসজিদের ইমাম, মাওলানা ও কোরআনে হাফেজের সঙ্গে।
রাজধানীর আজিমপুরের বাসিন্দা আশরাফ উদ্দিন নামে এক অভিভাবক জানালেন, তার একমাত্র ছেলের বয়স ৬ বছর। তাকে স্কুলে ভর্তি করানো হয়েছে। এখন তাকে আরবি শেখাতে চান। কিন্তু সকালে স্কুল থাকায় সুযোগ হচ্ছিল না। রমজান মাসে স্কুল একটু দেরিতে শুরু হওয়ায় এখন তিনি সকালে বাড়িতে এক শিক্ষক রেখে ছেলেকে আরবি শেখাচ্ছেন।
যাত্রাবাড়ীর এক অভিভাবক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, রামজান মাস হলো রহমতের মাস। এ মাসে কোরআন পড়লে সওয়াব বেশি। তাই আমার যতো কাজই থাকুক আমি নিজে কোরআন পড়ি। আমার সন্তানরা আরবি পড়তে জানে না। তাই তাদেরকে সকালে বিকেলে মহল্লার মক্তবে পাঠাই।
রামপুরার তাকওয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষক মাওলানা আব্দুর রহিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, রজমান মাসে একটি নফল ইবাদত অন্য মাসের ৭০টা ফরয ইবাদতের সমান। কোরআন তেলাওয়াতের মধ্যেও আল্লাহ সেই সওয়াব রেখেছেন। অন্যদিকে কোরআন-এ-কারিম নাজিল হয়েছে রামজান মাসে। তাই এ মাসের তাৎপর্য অনেক।
তিনি আরও বলেন, রমজানে আল্লাহ সব রহমতের দরজা খুলে দেন। ফেরেশতাদের মাধ্যমে মানুষের মনকে একটি শৃঙ্খলার দিকে ধাবিত করেন। মানুষের মনকে ভালো পথে যাওয়ার জন্য তাগিদ করতে থাকেন।
তবে কেবল এই মাসেই কোরআন তেলাওয়াত বা আরবি পড়ার পক্ষে না থেকে বছরের ৩৬৫ দিনই এটা করা উচিত বলে উল্লেখ করে আব্দুর রহিম। তিনি বলেন, আল্লাহ আমাদেরকে শুধু রমজানে কোরআন পড়তে বলেননি। সব সময়ই তার ইবাদত করতে হবে।
আরও পড়তে পারেন: দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছিল খুনিরা: পুলিশ
/আরএআর/এসএনএইচ/এমএসএম /








